Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / দৌলতপুরে টিসিবির পণ্য ক্রেতারা প্যাকেজ নিয়মে জিম্মি

দৌলতপুরে টিসিবির পণ্য ক্রেতারা প্যাকেজ নিয়মে জিম্মি

স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা নেই

স্টাফ রিপোর্টার
দুপুর তখন প্রায় একটা বাজে। দৌলতপুর বাসস্ট্যান্ডে প্রখর রৌদ্রে নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন। ক্রয় করছে তারা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)’র পন্য। তারা ক্রয় করেন ৫৫ টাকা কেজি দরে এক কেজি চিনি, ৫৫ টাকা কেজি দরে এক কেজি মশুরের ডাল, একশত টাকা লিটার দরে দু’লিটার সয়াবিন তেল, ২০ টাকা কেজি দরে দু’কেজি পেয়াজ, ৫৫ টাকা কেজি দরে এক কেজি ছোলা। তবে তাদের তালিকায় খেজুর থাকলেও তা ডিলার ট্রাকে আনেননি। এ প্যাকেজ তৈরী করেছে ডিলারের সুবিধার জন্য। অলিখিত নিয়মে পরিণত করেছে ডিলার। ভ্রাম্যমাণ ট্রাকসেল থেকে প্যাকেজ ছাড়া কেউই পণ্য কিনতে পারবে না। এতে করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী ওই প্যাকেজ ক্রয় করতে গিয়ে হিমশিম খায়। কেউ আবার ক্রয় করতে না পেরে ফিরে যান। কারণ ওই প্যাকেজ মূল্য রাখা হচ্ছে ৪০৫ টাকা। মুহসিন মোড় থেকে আসা রোজিনা বেগম বলেন, কম দামে টিসিবির পন্য ক্রয় করার উদ্দেশ্যে বাসস্ট্যান্ডে এসে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে অবশেষে লাইনের মাথায় পৌছাই। কিন্তু প্যাকেজ না নেয়ার কারণে ডিলার আর কোন পন্য দেয়নি। তিনি তেল ও ডাল ক্রয়ের জন্য এসেছিলেন। শুধু তিনি একা নন, এভাবে স্বল্প টাকা নিয়ে আসা অনেক দরিদ্র ক্রেতাই পণ্য কিনতে না পেরে ফিরে যান।
সরেজমিন দেখা যায়, ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইনে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন বালাই নেই। একজনের গায়ের সাথে মিশে অন্যজন দাড়িয়েছে। ক্রেতাদের সামাজিক দূরত্ব মানার জন্য ডিলারের পক্ষ থেকে তেমন কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। ডিলার এ নিয়ম নিজেই মানছেন না। বাসস্ট্যান্ডের যাত্রী ছাউতে ডিলারের লোকজন মালামাল প্যাকেট করতে ব্যস্ত রয়েছে। তবে তাদের মুখে ছিল না কোন মাক্স। ওই যাত্রীছাউনীতে শুধু পণ্য প্যাকেট করা ও তা বিতরণকারী ছাড়াও ডিলারের নিকটজনরা ছিল বসে। তারা তাদের পরিচিতজনদের নিকট লাইনের বাইরেও পণ্য দিতে দেখা যায়। যা করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যায়। সিটি মেয়র ও জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টরা করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সামাজিক দূরত্ব বজায়ে ও স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য তাগাদা দিয়ে চলেছেন। কিন্তু টিসিবির এই ডিলার সরকারের এ নির্দেশনাকে তেমন কোন আমলে নিতে দেখা যায়নি। দৌলতপুর দেয়ানা দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা ছোট্ট শিশু রুমি। মায়ের সাথে এসেছে টিসিবি পন্য ক্রয় করতে। লাইনে দাড়িয়ে দু’জনের পন্য তারা ক্রয় করেছে। তবে চারশত পাঁচ টাকার প্যাকেজ কিনতে গিয়ে তাদের হিমশিম খেতে হয়েছে। এ প্যাকেজে রয়েছে দু’লিটার তেল, এক কেজি চিনি, এক কেজি ছোলা, এক কেজি মশুরীর ডাল, দু’কেজি পেয়াজ। তার বাবা পেশায় রাজমিস্ত্রির হেলপার। স্বল্প আয় করে তার বাবা। তাইতো চড়ামূল্যের বাজারে তারা এসেছে টিসিবির পণ্য কিনতে। কিন্তু তাও আবার প্যাকেজ নিয়মে আটকে গেছেন।
নাজমুল ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধিকারী ডিলার মোঃ সেলিম বলেন, যত সময় মাল থাকে তত সময় দেয়া হয়। প্যাকেজ নিয়মটা টিসিবি থেকে করেনি এটা নিজেই করেছি। তিনি দৌলতপুর বাস স্ট্যান্ডে ট্রাক সেলে করে টিসিবির পণ্য বিক্রি করছিলেন। তবে ক্রেতা ও বিক্রেতা সকলে যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে সে ব্যাপারে তিনি চেষ্টা করেছেন বলে জানান।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*