Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / অঙ্কিতা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ১৬৪ ধারা পুঁজি করে সহযোগিদের রক্ষার অভিযোগ, ফুসে উঠছে দৌলতপুরবাসী

অঙ্কিতা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ১৬৪ ধারা পুঁজি করে সহযোগিদের রক্ষার অভিযোগ, ফুসে উঠছে দৌলতপুরবাসী

এম রুহুল আমিন ঃ নগরীর দৌলতপুর পাবলা বণিকপাড়ার বীণাপানি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেনীর স্কুল ছাত্রী শিশু অঙ্কিতার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার চার্জশীট ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই চার্জশীট আদালতে দাখিল হবে বলে নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ হাসান আল মামুন। তবে সহযোগিদের আসামী না করায় ক্ষুব্দ হয়ে উঠছে দৌলতপুর পাবলাবাসী। পুলিশ প্রীতম রুদ্রের ১৬৪ ধারা জবানবন্দী পুজি করে বিষয়টি ধামা চাপা দিতে চাচ্ছে বলে এলাকাবাসী মনে করছেন। এ জন্য ক্ষুব্দ এলাকাবাসী জজ মিয়া নাটকের কথা উল্লেখ করে বলেন, শিশু অঙ্কিতা ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের সাথে প্রীতম রুদ্রের সাথে যারা জড়িত তাদের আসামী করা না হলে তারা কঠিন আন্দোলন শুরু করবে। সেই আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা এলাকায় নতুন করে পোস্টার সাটা শুরু করেছেন। একই সাথে পাবলা বণিকপাড়া সোসাইটির ব্যানারে গতকাল রাত ৮টায় মত বিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সংগঠনের আহবায়ক নাজমুল হাসান পুলু মুন্সির সভাপতিত্বে তার নিজস্ব বাসভবনে সভায় বক্তৃতা করেন সোসাইটির নেতা ও দৌলতপুর থানা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি আশুতোষ সাধু, সাঃ সম্পাদক বলরাম দত্ত, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর এস এম হুমায়ুন কবির, দৌলতপুর থানা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তিলক গোস্মামী, মিজানুর রহমান স্বাধীন মোড়ল, প্রসাদ সাহা কালু, মনিরুজ্জামান মনি মোড়ল, শেখ ফিরোজ আলমসহ এলাকার গন্যমান ও তরুণ সমাজের নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা অবিলম্বে অঙ্কিতা হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় প্রীতম রুদ্রসহ তার সহযোগিদেও চার্জশীটে অর্ন্তভুক্তিকরণ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে চার্জশীট দাখিল করা হোক। একই সাথে মামলাটি চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে তালিকাভুক্তকরণের জোর দাবি জানানো হয়। অন্যথায় তারা কঠিন থেকে কঠিনতর আন্দোলনে নামবে বলে হুশিয়ারী উচ্চরণ করেন।
প্রীতম রুদ্রের স্বীকারোক্তীতে, কোম্বলের প্রলোভন দেখিয়ে শিশু অঙ্কিতাকে ছাদে নিয়ে ধর্ষণ এবং অতঃপর গলায় রশি দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা হয়। অতঃপর লাশটি পাঁচতলা ছাদ বস্তাবন্দী অবস্থায় ভরে নীচতলায় নিয়ে আসে। যে বাড়ির মধ্যে পাঁচ-ছয় দিন লাশ ছিল তাও আবার লাশটি ৪/৫ স্থান পরিবর্তন করে তাকে গুম করে রাখা হয়েছিল এটা একা প্রীতম রুদ্রের পক্ষে সম্ভব নয়, এমই মন্তব্য এলাকার বসবাসরত সাধারণ মানুষসহ হত্যা সুষ্ঠ বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত বিভিন্ন সংগঠন ও নেতৃবৃন্দের। বণিকপাড়া সোসাইটির আহ্বায়ক নাজমুল হাসান পুলু মুন্সি বলেন, যে বাড়ির মধ্যে পাঁচ-ছয় দিন লাশ ছিল তাও আবার লাশটি ৪/৫ স্থান পরিবর্তন করে তাকে গুম করে রাখা হয়েছিল এটা একা প্রীতম রুদ্রের পক্ষে সম্ভব নয়। এর নৈপথ্য অবশ্যই কেউনা কেউ কাজ করেছে। অবিলম্বে হত্যাকান্ডের যারা সহযোগিতা করেছে তাদের সকলকে অভিযুক্ত করে চার্জশীট দেয়ার দাবি জানান তিনি।
নৃশংস হত্যার শিকার অঙ্কিতার পিতা সুশান্ত দে জানান, আমি যে কোন মূল্যেই আমার মেয়ে প্রকৃত হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় দেশের প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। আমার ধারণা প্রীতমের একটা পক্ষে এমন কাজ করা সম্ভব নয়। নরপশু প্রীতম রুদ্রের মামা শ্যামল সকল নাটের গুরু। এই হত্যাকান্ডের পিছনে বাকি যারা সহযোগীতা করেছে তাদের আসামী করে চার্জশীট চূড়ান্ত করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনারের নিকট।
৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, আমি পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি ইতিমধ্যেই চাজশীর্ট চূড়ান্ত করা হয়েছে। আমরা সকলেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রীতম ও তার সহযোগিরা যে নরকীয় কাজ করেছে তা ক্ষমার অযোগ্য, তাই তাদের এ অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি জানাচ্ছি প্রশাসনের নিকট। আইন তার নিজেস্ব গতিতে চলে। এমন জঘন্য অপরাধীকে আইন বিন্দুমাত্র ছাড় দিবে না মনে আমি মনে করি।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, কেবলমাত্র প্রীতমের বিরুদ্ধে চার্জশীট চূড়ান্ত করা হয়েছে। কারণ আসামীর স্বীকারোক্তীমূলক জবানবন্দী ও ময়না তদন্তে উঠে এসেছে যে অঙ্কিতাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা ও যৌন মিলনে ক্ষত-বিক্ষত করার কথা।
উল্লেখ্য, গত ২২ জানুয়ারী দৌলতপুর পাবলা বণিকপাড়ার সুশান্ত দে’র ছোট মেয়ে ৩য় শ্রেনীর স্কুল ছাত্রী অঙ্কিতা দে ছোয়া নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের ৬ দিন পর ২৮ জানুয়ারী একই এলাকার সম্পদশালী প্রভাত রুদ্রের বীণাপানি ভবণের চারতলার নিচতলার বাথরুম হতে অঙ্কিতার লাশ বস্তাবন্দি অর্ধগলিত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*