Breaking News
Home / জাতীয় সংবাদ / করোনায় ঋণের জালে আটকা পড়ছে গ্রামীণ পরিবার : সমীক্ষা

করোনায় ঋণের জালে আটকা পড়ছে গ্রামীণ পরিবার : সমীক্ষা

প্রবাহ রিপোর্ট : করোনাভাইরাসের কারণে আয় কমে যাওয়ায় গ্রামের পরিবারগুলো সঞ্চয় হারাচ্ছে এবং ঋণের জালে আটকা পড়ছে। বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) ‘কীভাবে অতিমারিকে মোকাবিলা করছে বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী: একটি খানা জরিপের ফলাফল’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে ‘এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ’।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ জুড়ে প্রায় ১ হাজার ৬০০ খানাতে (বাড়ি) জরিপ করে সংগঠনটি। এ কার্যক্রমে সহযোগী ছিলÍজাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), অ্যাকশন এইড, কানাডা ফান্ড ফর লোকাল ইনিশিয়েটিভস, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), ক্রিশ্চিয়ান এইড বাংলাদেশ, ইকো কো-অপারেশন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এবং ওয়াটার এইড বাংলাদেশ।
সংবাদ সম্মেলনে সিপিডি’র সম্মাননীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপের সদস্য অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ জুড়ে প্রায় ১ হাজার ৬০০ খানায় সমীক্ষা চালানো হয়। এ সময় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর লোকদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২০ সালের মার্চের তুলনায় ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ ও ব্যয় ৮ দশমিক ১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই পরিবারগুলোর প্রায় ৭৮ দশমিক ৮ শতাংশ করোনা মহামারির ফলে আর্থিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল, যার ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশই পুনরুদ্ধার হয়নি। সমীক্ষায় অংশ নেওয়ার পরিবারের প্রায় ৬০ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবারকে বিকল্প পন্থা হিসেবে ঋণ নিতে হয়েছিল এবং সেটি পরিশোধ করতে তাদের গড়পড়তা প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে।
গবেষণার জ্েযষ্ঠ গবেষক ইশতিয়াক বারি মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ‘জরিপের জন্য অন্তর্ভুক্ত ১০টি প্রান্তিক গ্রুপের মধ্যে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, প্রতিবন্ধী, বস্তিবাসী ও চরের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের বাড়তি ব্যয় ও ঋণ পরিশোধে সহায়তা দরকার। সরকারিভাবে নগদ আর্থিক সহয়তা দিয়ে এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বর্তমান করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করতে সাহায্য করা উচিৎ।’
নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘করোনার অভিঘাত বহুমাত্রিকভাবে এসেছে, যার প্রভাব কর্মসংস্থান, আয়, সঞ্চয় ছাড়াও পুষ্টিহীনতা, সহিংসতা এবং শিক্ষা খাতে ঝরে পড়ার ক্ষেত্রে লক্ষনীয়। স্থানীয় সরকার, জনপ্রতিনিধি ও উন্নয়ন সংস্থাদের একত্রিত করে মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া দরকার।’

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*