Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / খুবি এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী

খুবি এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী

খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ দেশের পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত “এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিন” এর ডিসিপ্লিন প্রধান হিসাবে ১৯ এপ্রিল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৯০ এর ২৯(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী (স্মারক নং খুবি/প্রশা-নি-১৩০/৯৭-৫৪১,তারিখ ৪-০৪-২০২১ খ্রিঃ) ৩ বছরের জন্য দ্বায়িত্বভার গ্রহন করেছেন প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী।
প্রফেসর চৌধুরী খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র শিক্ষক যাকে পরিবেশের বিভিন্ন বিষয়ে গবেষনার স্বীকৃতি স্বরূপ ২০০৯ সালে “বাংলাদেশ একাডেমি অফ সাইন্সেস গোল্ড মেডেল এওয়ার্ড” প্রদান করা হয়, উল্লেখ্য বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত তিনিই একমাত্র ব্যাক্তি যাকে এনভায়রনমেন্ট বিষয়ে এই এওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক পদে যোগদানের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকার পরও অতিরিক্ত একটি এমফিল ডিগ্রি, আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে প্রকাশিত ১৬টি গবেষণা প্রবন্ধসহ পিএইচডি ডিগ্রির ডিফেন্স সম্পন্ন করার পর তিনি উক্ত ডিসিপ্লিনে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। ফেব্রয়ারী ২০১১ সালে তিনি প্রফেসর হন। তিনি জানুয়ারী ১৯৯৯ সালে এমফিল এবং নভেম্বর ২০০২ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর এমফিলের গবেষণার বিষয় ছিল “রাজশাহীস্থ সুগার মিল ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য দ্বারা পদ্মা নদী ও আশপাশের পরিবেশের উপর প্রভাব নির্ণয়” যা ঐ সময়ে এই উপমহাদেশে সুগার মিল ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে ছিল প্রথম কোন পূর্ণাঙ্গ গবেষণা। পুরো পৃথিবীতে বিলুপ্ত প্রায় “জলজ কার্নিভোরাস উদ্ভিদের ইকোলজি ও বায়োলজির উপর ক্রমাগত পানি দূষনের ফলে কি পরিবর্তন হচ্ছে” তার উপর গবেষণা করে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন যা পরবর্তীতে জার্মানি থেকে বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে। এ পর্যন্ত দেশি বিদেশি জার্নালে প্রকাশিত তার গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা ৫০ এর অধিক। ডঃ চৌধুরী এ পর্যন্ত ১২টি সামুদ্রিক ও ৩৯টি মিঠা পানির শৈবাল বাংলাদেশ থেকে একক এবং যৌথভাবে নিউ রেকর্ড করেছেন। তিনি বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উচ্চতর গবেষণা ফেলো ছিলেন। ডঃ চৌধুরী এ পর্যন্ত ৩টি পিএইচডি, ৪৪টি এমএসসি এবং ৫৩টি গ্রাজুয়েশন থিসিসের গবেষণা তত্বাবধানের পাশাপাশি দেশে বিদেশে ১৭টি পিএইচডি, ৩টি এমফিল ও ২৯ এমএসসি থিসিসের বহিস্থঃপরীক্ষক ছিলেন।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দাতা সংস্থার সহায়তায় এবং বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও পরিবেশ সংক্রান্ত প্রকল্প সমূহের (সেন্টমার্টিণ দ্বীপের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ইসিআরআরপি, কক্সবাজারে স্থাপিতব্য দেশের প্রথম মেরিন একুরিয়ামের স্থান নির্ধারণ, বন ও বনজ সম্পদের টেকশই ব্যাবস্থ্যাপনা, জাতীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ জলাশয় ব্যবস্থাপনা, সুন্দরবনের টেকশই ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি) পরিবেশ বিষয়ক কনসালটেন্ট হিসেবে তিনি কাজ করেছেন। ইউজিসি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চসেল সহ বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় এ পর্যন্ত ১৯টি গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষনা সংস্থার এবং মিডিয়ার সাথেও পরিবেশ সংক্রান্ত নানা বিষয়ে যৌথ ভাবে গবেষণার কাজ করেছেন। তিনি এ পর্যন্ত দেশে-বিদেশে ৪৮টি আন্তর্জাতিক কনফারেন্স ও সেমিনারে অংশ নেন এবং ৩৯টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, যার ১৩টিতে বেষ্ট স্পিকার মনোনিত হন। ঘধঃঁৎব, ঊষংবারবৎ, ঝঢ়ৎরহমবৎ, ঐুফৎড়নরড়ষড়মরধ সহ ২০ এর অধিক আন্তর্জাতিক জার্নালের তিনি রিভিউয়ার হিসাবে কাজ করেছেন। ডঃ চৌধুরী নদী, বিভিন্ন জলাভূমি এবং সুন্দরবনের প্রকৃতি ও প্রতিবেশের উপর ক্রমাগত গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিক জঅগঝঅজ ডবঃষধহফ ঈড়হংবৎাধঃরড়হ অধিৎফ ২০১৫ এর চুড়ান্ত পর্বে পুরো পৃথিবীতে ৩ জনের ১ জন মনোনিত হয়েছিলেন। তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ১৪টি বিজ্ঞান ও পরিবেশ বিষয়ক সোসাইটির আজীবন সদস্য।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পূর্বে তিনি ওটঈঘ- ওহঃবৎহধঃরড়হধষ টহরড়হ ভড়ৎ ঈড়হংবৎাধঃরড়হ ড়ভ ঘধঃঁৎব “প্রোগ্রাম অফিসার” হিসাবে কাজ করেন। বাংলাদেশ ন্যাশনাল হাবেরিয়াম পরিচালিত বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রোজেক্ট ঘঈঝওচ-১ এ তিনি “রিসার্চ এসিস্ট্যান্ট” ছিলেন, এরও আগে একটি বেসরকারি ডিগ্রি কলেজে ০২ বছর প্রভাষক হিসাবে কাজ করেন।
ডিসিপ্লিন প্রধানের দ্বায়িত্ব পালন কালে তিনি সকলের পরামর্শ এবং সহযোগিতা কামনা করছেন।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*