Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / দৌলতপুরে বর্জ্য নিষ্কাশনে কেসিসি’র উদ্যোগ

দৌলতপুরে বর্জ্য নিষ্কাশনে কেসিসি’র উদ্যোগ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ঃ নগরীর দৌলতপুর থানাধাীন অধিকাংশ এলাকায় পানি নিষ্কাশন পথগুলো আবর্জনায় ভরাট হয়ে থাকা, ড্রেনেজ লাইন ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় দরুন সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় দৌলতপুর অধিকাংশ এলাকার পাড়া-মহল্লার রাস্তাঘাট। যে কারণে পানি নিষ্কাশন পথগুলো আবর্জনায় ভরাট হয়ে থাকা, ড্রেনেজ লাইন ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় দরুন এ সমস্যা উন্নীতকরণের যথাযথ ব্যবস্থা ও আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন এলাকার বাসিন্দারা।
এলাকাবাসী জানায়, রাস্তার সংর্কীনতা, অপরিকল্পিত গতিরোধক, রাস্তা ভাঙ্গায় খালখন্দে জমে থাকা পানি নেমে যাবার মতো জায়গা পায় না, ফলে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এছাড়া দূর্বল ড্রেনেজ সিস্টেম ব্যবস্থাও জলাবদ্ধতার জন্য দায়ী। দৌলতপুর থানাধীন অধিকাংশ এলাকায় যে ড্রেনেজ সিস্টেম রয়েছে তাতে খুব সহজেই পানির সঙ্গে পলিথিন এবং অন্যান্য অপচনশীল পদার্থ ভেসে গিয়ে নালার মধ্যে আটকে যায়, যে কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এছাড়াও নালা দিয়ে পানি খোলা জলাশয়ে পৌঁছাতে না পারার কারণে নালা উপচে পানি বাইরে চলে আসে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। এছাড়া থানাধীন সমগ্র এলাকায় প্রতিটি ওর্য়াডে পাকা ড্রেনেজ বিদ্যমান নয়। বহুল ক্ষেত্রে কাচা ড্রেনেজ সিস্টেম বিদ্যমান। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাবে এ সকল কাচা ড্রেন সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে অনেক ক্ষেত্রে সম্পূর্ন বন্ধ হয়ে গেছে। দৌলতপুরে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে সচেনতা না থাকার দরুন ক্রমশ নোংরা আর জলবদ্ধতা সৃষ্টির একমাত্র কারণ হলো অসচেতনা। বাড়ি ব্যবহৃত কলার খোসা, কাগজ, পলিথিন, বাচ্চাদের ব্যবহৃত প্যাম্পপাস, গৃহস্থালির উৎশিস্ট আবর্জনা, বা প্লাটিকের বোতল ইত্যাদি বর্জ্য ডাস্টবিন থাকলেও নেই তার পরিকল্পিত ব্যবহার না করে সরাসরি ড্রেনে গিয়ে নিক্ষেপ করে। এ বর্জ্য নিষ্কাশনের সমস্যার নিরসনে ইতিমধ্যেই দৈনিক প্রবাহে এ বিষয়টি নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন করা হয়েছে। এ প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রক্ষিতে দীর্ঘপর হলেও কেসিসি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে দৌলতপুর থানাধীন ওয়ার্ড সমূহে বর্জ্য নিষ্কাশনের। ইতিমধ্যেই কেসিসি’র এক্সোমিটার দ্বারা কেসিসি’র ৩নং ওয়ার্ডের সচিব জানান, কার্ত্তিকূল, ঘোষপাড়া ও নয়াবাড়ী ধাপনা এলাকা, ৪নং ওয়ার্ডের দেয়ানা উত্তরপাড়া স্কুল হতে (পশ্চিমপাড়া খালকূল) হয়ে হাজী মোড় পর্যন্ত, ৫নং ওয়ার্ডের সুপার ভাইজার জাকির জানান, দৌলতপুর ঋষিপাড়া মোড় হতে আমতলা হয়ে গোলাম খান রোড পর্যন্ত, দেয়ানা কমিশনার মোড় হয়ে মোল্লার মোড়, গাছতলা মন্দির হয়ে মৌচাক হয়ে ১০ তলায় গিয়ে শেষ হবে। কাজ শেষ হতে আরো ৫ দিনের মতো সময় লাগবে। এরপর ধারাবাহিক ভাবে ৬নং ওয়ার্ডে কাজ করা হবে।
যেখানে কেসিসি’র এক্সোমিটার সেখানে ঢোকেনা সেখানে ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ম্যানুয়ালী কাজ করবে।
৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, আমার ওয়ার্ডের অবস্থানের তুলনায় অসংখ্যক ছোট-বড় ড্রেন রয়েছে। আমি জনবল দিয়ে এ সকল ড্রেনের বর্জ্য পরিষ্কারের জন্য সর্বক্ষণ তদারকি অব্যাহত রেখেছে। দীর্ঘপর হলেও কেসিসি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ওয়ার্ড সমূহে বর্জ্য নিষ্কাষনের। এত করে আশা করি বর্ষাকালে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার সম্ভবনা থাকবেনা। জনদূর্ভোগ কমবে।
কেসিসি’র প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রধান আব্দুল আজিজ বলেন, কেসিসি সারা বছরই বর্জ্য নিষ্কাসনের পরিকল্পিতকাজ করে। তবে বর্ষার সময়ে যেহেতু শহরের দিকে বেশি জলবদ্ধতা দেখা দেয় তাই শহর কেন্দ্রিক বেশি কাজ করা পড়ে। আমরা ইতি মধ্যে কেসিসি’র ওয়ার্ড এক্সোমিটারের মাধ্যমে বর্জ্য নিষ্কাশন শুরু করেছি এবং এ কাজ প্রতিটি ওয়ার্ড কেন্দ্রিক পর্যায়ক্রমে চলবে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*