Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / নগরীতে বিভিন্ন এলাকায় ওয়াসার লাইনে পানি বন্ধে জনদুর্ভোগ চরমে

নগরীতে বিভিন্ন এলাকায় ওয়াসার লাইনে পানি বন্ধে জনদুর্ভোগ চরমে

মো: রায়হান মোল্লা : বৈশাখের তিব্র তাপদাহ। নগরীতে দেখা দিয়েছে পানির সংকট। পানির লেয়ার নিচে নেমে যাওয়ায় নলকূপ থেকেও পানি উঠছে না। এই দুঃসময়ে বিকল্প হিসেবে ওয়াসার লাইন থেকেও পানি আসা বন্ধ রয়েছে। ফলে দিশেহারা হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। পানির জন্য হাহাকার করছেন এলাকাবাসীরা। কলসি, বালতি, ড্রাম নিয়ে দিকবিদিক ছুটছেন। এমনকি রিক্সা-ভ্যানে করেও দূর দুরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে তাদেরকে। এদিকে সরকারী সুন্দরবন কলেজের পার্শ্বস্থ ৩০নং ওয়ার্ডের দিলখোলা রোড ও সরকার পাড়া এলাকায় ওয়াসার পানির লাইনেও পানি আসছে না। এখানে খুলনা ওয়াসার প্রায় ১০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এই পানির সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে গত ২৮ এপ্রিল খুলনা ওয়াসা কর্তৃপক্ষর কাছে দিলখোলা রোডস্থ এলাকাবাসীর পক্ষ থেকেও অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোন সুরহা হচ্ছে না।
এলাকাবাসীর পক্ষে অভিযোগ দিয়েছেন এ্যাড. মোঃ মাহফুজুর রহমান ও এ্যাড. কাজী সাব্বির আহমেদ। এতে বলা হয়, গত প্রায় এক মাস যাবৎ এখানে খুব সামান্য পরিমান পানি সরবরাহ করা হতো। কিন্তু গত প্রায় এক সপ্তাহ যাবৎ ওই এলাকার প্রতিটি গ্রাহকের বাড়িতে পানি সরবরাহ সম্পূর্ন বন্ধ হয়ে গেছে। যার ফলে এলাকার জনজীবনে চরম দুর্ভোগ ভোগ করতে হচ্ছে। তাপদাহ ও রোজার মধ্যে এলাকার রোজাদারগণের দূর দুরান্ত হতে বালতি ও কলসে করে পানি এনে অত্যন্ত মানবেতর পর্যায়ে জীবন ধারন করতে হচ্ছে। বার বার ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে জানানো সত্বেও কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। এতে আরও বলা হয়, গত ২৭ এপ্রিল বিকেলে ওয়াসার সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী আশিকুর রহমান এলাকার প্রতিটি গ্রাহকের বাড়ির আন্ডার গ্রাউন্ড রিজার্ভ ট্যাংক সরেজমিনে পরীক্ষা করে এ বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হন এবং অবিলম্বে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এলাকার কোন বাড়ীতে এক ফোটাও ওয়াসার পানি পাওয়া যায় নাই।
ওই এলাকার ৩৫/৩ বাড়ির বাসিন্দা ইমামুল কবির জানান, সবকিছুর কষ্ট সহ্য করা যায় কিন্তু পানির কষ্ট সহ্য করা যায় না। আমরা ওয়াসার পানি ফিল্টার করে খাই। গোসল করা, রান্নাবান্না করাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করি। পানি না আসায় এক মাস যাবৎ পানির সংকটে আছি। বাইরে থেকে অনেক কষ্টে পানি সরবরাহ করতে হচ্ছে। কিন্তু আর কতো…।
খুলনা কর আইনজীবী সমিতির স্টাফ ও ২১ নং দিলখোলা রোডের বাসিন্দা মোঃ ইকরামুল ইসলাম জানান, পানির জন্য আজকে আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। আশপাশে কোন পুকুরও নাই যে, সেখান থেকে সংগ্রহ করে গোসলও রান্নার কাজে ব্যবহার করবো। দুর-দুরান্ত থেকে পানি এনে এর চাহিদা পূরণ করতে হচ্ছে। কিন্তু ওয়াসা কর্তৃপক্ষ যদি আমাদের দিকে সুনজরে তাকাতো, তাহলে হয়তোবা এই কষ্ট লাঘব হতো অন্যথায় কোন উপায় নেই।
সরকার পাড়া এলাকার বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা জানান, বাসায় নলকূপে পানি নাই, আবার ওয়াসার লাইনেও পানি আসে না। সারাদিন রোজা রেখে আছি। ওযু-গোসলেও অনেক সমস্যা হচ্ছে। দূর থেকে পানি ম্যানেজ করতে হচ্ছে। এখন শুধু ওয়াসার লাইনে পানি আসার অপেক্ষায় রয়েছি।
খুলনা ওয়াসার সদস্য ও এডভোকেট মোঃ পারভেজ আলম খান বলেন, এসব এলাকায় ওয়াসার লাইনে পানি আসা বন্ধের বিষয়টি ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে বার বার জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা কোন জোরালো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তাই পানির কষ্টে মানবেতর দিনযাপন করছে গ্রাহকরা।
৩০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এস এম মোজাফ্ফর রশিদী রেজা বলেন, এই ওয়ার্ডের তালতলা হাসপাতাল, সূর্যের হাসি ক্লিনিকসহ একাধিক এলাকার বাসা বাড়িতে ওয়াসার লাইনে পানি নেই। আমার কাছেও এমন অভিযোগ এসেছে। এবিষয়টি নিয়ে এসব এলাকার দায়িত্বে থাকা ওয়াসার অফিসারদেরকে জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা যে কি করে, বলতে পারি না। তিনি আরও বলেন, যে সমস্ত এলাকায় পানি নেই সেখানে যদি খুলনা ওয়াসার পক্ষ থেকে সকালে একগাড়ি ও বিকেলে একগাড়ি পানি দেওয়া হয় তাহলে এসব মানুষগুলো হাফ ছেড়ে বাঁচবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*