Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / ঝুঁকিতে খুলনা অঞ্চল : বাড়ছে এইডস পজিটিভ

ঝুঁকিতে খুলনা অঞ্চল : বাড়ছে এইডস পজিটিভ

৫ মাসে সণাক্ত ১৬, মৃত্যু ২
বিনামুল্যে জিন-এক্সপার্ট মেশিনে ভাইরাল লোড পরীক্ষা

কামরুল হোসেন মনি
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এইচটিসি এন্ড এআরটি থেকে গত বছর ১৯ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত) গত ৫ মাসে ৩৯৫ জনকে এইচআইভি/এইডস পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে সণাক্ত হয় ১৬ জন। এ সময়ের মধ্যে এইডস আক্রান্ত দুই জন পুরুষ মারা যান। সনাক্ত মধ্যে রয়েছে খুলনা মহানগরী খালিশপুর, বয়রা, ময়লাপোতা, গোবরচাকা, বানরগাতী, রূপসা বাগমারা, ফুলতলা, কয়রা, মংলা, যশোর ও কেশবপুর এলাকার বাসিন্দা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অভিমত সমুদ্র ও স্থল সীমান্ত অতিক্রম করে প্রবেশকারীদের রক্ত পরীক্ষা বাধ্যতামুলক না করা, নিষিদ্ধ পল্লী ও ভাসমান যৌন কর্মীদের নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় দিনকে দিন এ পরিস্থিতি জটিল রূপ নিচ্ছে। সেই দিক থেকে খুলনা অঞ্চল বর্তমানে এইচআইভি/এইডস ঝুঁকিতে রয়েছে। এদিকে চলতি বছরে ৬ জানুয়ারী থেকে খুমেক হাসপাতালে জিন এক্সপার্ট মেশিনের মাধ্যমে এইডস আক্রান্তদের এচইআইভি ভাইরাল লোড পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। সম্পূর্ণ বিনামুল্য এই পরীক্ষা হচ্ছে, যা আগে ভারত থেকে এই পরীক্ষা করানো লাগতো। এ পর্যন্ত ৪৩ জনের ভাইরাল লোড পরীক্ষা করা হয়।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এইচটিসি এন্ড এআরটি ফোকাল পার্সন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার (মেডিসিন) ডা: দীপ কুমার দাস বলেন, এইডস পজিটিভদের জিন এক্সপার্ট মেশিন দিয়ে ভাইরাল লোড পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই পরীক্ষাটা আগে ভারত থেকে রোগীদের টেস্ট করে আনা লাগতো। যার টেস্টের ফি আনুমানিক ৮ হাজার খরচ হতো। এখন বিনামুল্য খুমেক হাসপাতালে জিন এক্সপার্টের মাধ্যমে এইডস রোগীদের পরীক্ষা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ভারত সীমান্ত হওয়ায় কারণে খুলনা অঞ্চল এইডস এর ঝুকিতে রয়েছে। করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারীর কারণে এইচআইভি-এইডস শনাক্ত পরীক্ষায় কিছুটা ঘাটতি দেখা দিয়েছে। একই সময় হাসপাতালগুলোতেও কমে এসেছে রোগীর সংখ্যা। একই কারণে সন্দেহভাজন রোগীকে শনাক্তের আনা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, যারা সণাক্ত হচ্ছেন অধিকাংশই ভারত থেকে আগত, নিষিদ্ধ পল্লীতে যাতায়াত, সেক্স ওয়ার্কার। এছাড়া গ্রামঞ্চলে অধিকাংশই পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই শরীরের রক্ত নেওয়া কারণেও এইডস এ আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, জিন-এক্সপার্ট মেশিন দিয়ে কোভিড-১৯ ও পরীক্ষা হচ্ছে। এর জন্য আলাদা দুইটি কার্টিস প্রয়োজন হয়।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এইচটিসি এন্ড এআরটি সেন্টারের মেডিকেল টেকনোলোজিস্ট (ল্যাবরেটরি) মো: সেলিমুজ্জামান বলেন, জিন-এক্সপার্ট মেশিন দ্বারা আরএনএ/ডিএনএ পিসিআর করা হয়। তিনি এই মেশিনের মাধ্যমে এইচপিভি, এইচওভি, এইচটিভি, এইচআইভিসহ প্রায় ২৩টিরও বেশি ভাইরাসের পিসিআর করা সম্ভব। তিনি বলেন, গত ৫ মাসে এইচটিসি এন্ড এআরটি সেন্টার থেকে ৩৯৫ জনকে এইচআইভি/এইডস পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ জনকে সণাক্ত করা হয়। যার মধ্যে পুরুষ রয়েছে ১০ জন ও মহিলা রয়েছে ৬ জন। এই সময়ের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই জন পুরুষ মারা গেছেন। তিনি বলেন, ২০১৯ সাল থেকে অক্টোবর ২০২০ সাল পর্যন্ত খুমেক হাসপাতালের এইচটিসি এন্ড এআরটি সেন্টার থেকে মোট টেস্টের সংখ্যা ছিলো ৮২০টি। এর মধ্যে পজিটিভ পাওয়া যায় ৩১টি। মারা যায় ৬ জন। মোট এআরভি গ্রহণ করেছে ৫১ জন। ওই সময়ের মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোট আইডি সংখ্যা ৩৪৭ জন। এর মধ্যে এআরভি গ্রহণ করা রোগীর সংখ্যা ছিলো ২৮৫ জন। মৃত্যু বরণ করে ২৬ জন। ড্রপ আউট ( নিখোজ) ২৭ জন। ওষুধ গ্রহণ করেননি এমন সংখ্যা ২৭ জন। মোট মহিলা রোগীর সংখ্যা ১৩১ জন ও পুরুষ রোগীর সংখ্যা ১৩১ জন। শিশুর মধ্যে রয়েছে পুরুষ ১৪ জন ও মহিলা ১৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গেও রয়েছে ২ জন। তিনি বলেন, আক্রান্ত রোগীরা প্রতি মাসে এসে এআরভি ওষুধ নিয়ে যাচ্ছেন। ওষুধের কোন ঘাটতি নেই।
ওই প্রকল্পের সূত্র মতে, ১৯৮৯ সালে প্রথম বাংলাদেশে প্রথম এইচআইভি আক্রান্ত রোগী ধরা পরে। তার পর থেকে এইচআইভি রোগীর সংখ্যা বাংলাদেশে বাড়তেই থাকে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশে এইচআভি আক্রন্ত রোগী পাওয়া যায় মোট ৯১৯ জন। তার মধ্যে রহিঙ্গা ১০৫জন। ১৯৮৯ সাল থেকে ২০১৯ সাল পযর্ন্ত বাংলাদেশে মোট এইচআইভি/ এইডস এর সংখ্যা ৭৩৭৪ জন । এর মধ্যে মারা যায় ১২৪২ জন।
খুলনায় মুক্তি সেবা সংস্থা (কেএমএসএস) এর আয়োজনে এক মতবিনিময় সভায় উল্লেখ করা হয়, সমুদ্র ও স্থল সীমান্ত অতিক্রম করে দেশের অভ্যান্তরে প্রবেশকারীদের রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা না করা, নিষিদ্ধ পল¬ী ও ভাসমান যৌন কর্মীদের নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় এবং ট্রক চালকদের অবাধে নিষিদ্ধ পল্লীতে যাতায়াত, পুরুষ সমকামী (এমএসএম) বৃদ্ধি, কনডম ব্যবহারে অনীহার কারণে এ অঞ্চলে এইডস’র ভয়াবহতা বেড়ে যাচ্ছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*