Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / দৌলতপুরে ঈদের কেনা কাটা জমজমাট

দৌলতপুরে ঈদের কেনা কাটা জমজমাট

মোঃ আশিকুর রহমান, দৌলতপুর প্রতিনিধি ঃ ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানে খুশি। ঈদে চাই নতুন পোশাক। টানা এক মাস রোজা রাখার পর নতুন পোশাক পরে ঈদগাহ্ েযাওয়া আর পরিবার পরিজন সকলকে নিয়ে নতুন পোশাকে ঈদের বাড়তি আনন্দ উপভোগ করার প্রশান্তিই আলাদা।
ঈদের বাকী আর সাত দিন। সরেজমিনে, গতকাল বুধবার বিকাল ৫টা। নগরীর দৌলতপুর বাজার ক্রেতাদের কানায় কান্নায় পরিপূর্ন কোথাও যেন পা ফেলার জায়গা পর্যন্ত নেই। শাড়ি দোকান, জুতার দোকান, থ্রী-পিস কর্নার, শিশুদের বাহারী পোশাকের দোকান সহ প্রসাধনী সামগ্রীর দোকান গুলোতে চলছে কেনাবেচার মহাৎসব। দৌলতপুরের আশপাশের অঞ্চল হতে ক্রেতারা এসেছে স্ব-পরিবারে। মহিলা-পুরুষ, শিশু-কিশোর, তরুন-তরুনীদের আগমনে ব্যবসায়ীদের মধ্যে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে। যদিও দেশে বৈশ্বিক মহামারি করোনার দ্বিতীয় প্রকোপের কারণে লকডাউন চলছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি বিশেষ করে ক্রেতা বা বিক্রেতারা উভয় মুখে মাস্ক ব্যবহার করে কেনা বা বেচা করছে। বিপনগুলোতে সাজানো হয়েছে সারি সারি সকল বয়সের ক্রেতাদের আধুনিক ডিজাইন আর বাহারী রং-বেরংয়ের পোশাক, জুতা-সেন্ডেল, প্রসাধনী, ব্যাগ, ব্যাল্ট বা ঘড়ি-চশমা। ক্রেতাদের বাড়তি চাপ সামলাতে মালিকেরা নিয়োগ করেছেন বাড়তি কর্মচারীদের। প্রতিদিনই সকাল ১০ টার পর হতে ক্রেতাদের ঢল নামছে বাজারে। বেলা যত বাড়তে থাকে, ক্রেতা সমাগম তত বাড়তে থাকে। দোকান বন্ধের আগ পর্যন্ত চলছে একেধারে কেনাবেচা।
এ বছর কলেজ পড়–য়া তরুনীদের বেশি পছন্দের দরুন শাড়ীর দোকান গুলোতে শোভা পেয়েছে গ্যাস সিল্ক, বেনারসি, জামদানী, সিল্ক, কাতান, ঝুট জামদানী। তবে একটু বয়স্কদের জন্য প্রিন্টের শাড়ি আর টাঙ্গাইল শাড়ির যেন বিকল্প কিছুই নেই।
বিক্রেতা কবির জানান, এ বছর তরুনেরা বেশি শার্ট-প্যান্ট, গেজ্ঞি কিনছে। তবে পাঞ্জবির প্রতি একটু ঝোক কম। বেশির ভাগই ইন্ডিয়ান, থাই আর চায়না প্যান্ট আর গেজ্ঞি কিনছে। জে.কে শপিং কর্নারের বিক্রেতা শায়লা জানান, প্রতিবছরই ইন্ডিয়ান সিরিয়ালের মেয়েদের বা বাচ্চাদের পোশাক নাম ধরে চেয়ে নেই। কিন্তু এ বছর করোনার কারণে সিরিয়ালের পোশাকই নেই। তবে বেশি বিক্রি হচ্ছে। মেয়েদের লং গাউন, ছোটদের স্কার্ট, ফ্রক, আর টপস্ সহ আধুনিক বিভিন্ন ডিজাইনের লেডিস আইটেম।
ওয়েলকাম সু এর মালিক শরীফ মোড়ল বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানে হরেক ডিজাইনের জুতা-সেন্ডেল উঠিয়েছি সব বয়সের ক্রেতাদের জন্য। মহিলাদের এ ঈদে বেশি চলছে সু, সেন্ডেল, পেন্সিল সু, নাগড়া, চায়না সেন্ডেল। পুরুষদের দুই ফিতা সেন্ডেল, সাইকেল সু, লুফার। বাচ্চাদের চায়না, থাই, কেস, সু-সেন্ডেল প্রভৃতি। কেনাবেচার সাড়া খুব ভালো। বাড়তি চাপ পড়তে শুরু করেছে।
প্রধাসনী বিক্রেতা মুরাদ জানান, ঈদ উপলক্ষে চুড়ি, কাঁকড়া, আইলিনার, মাসকারা, কানের দুল, কাজল, সেট, ক্রিম, পারফিউম, মেহেদী সহ বিভিন্ন ধরণের প্রসাধনী কিনছে উঠতি তরুনীসহ বাচ্চারা।
এছাড়া দৌলতপুরের মোর্ত্তজা ম্যানশন, আশা বস্ত্রালয়, প্রবীর ক্লথ স্টোর, শিহাব ফ্যাশন, শীতল ফ্যাশন, আচল ফ্যাশন, সেইফ এন্ড সেইভ, রিয়াজ সু, স¤্রাট সু, মের্সাস সংসার, বাটা সু সহ সকল আধুনিক বিপনী গুলোতেও ক্রেতাদের উপস্থিতি নজরকাড়ার মতো।
ইস্পাহী কোলনী হতে আসা ক্রেতা আসমা বলেন, আর এক সপ্তাহ পরে ঈদ। ঈদের দু’তিন দিন আগে বাজারে খুব ভীড় হবে। তাই পরিবারের সকলের কেনাকাটার জন্য বাজারে এসেছি। রিক্সা চালক কালাম, স্ত্রী আর তিন ছেলে মেয়েকে নিয়ে বাজারে এসেছে। তার অভিযোগ কাস্টমার বেশি দেখে দোকানদাররা দাম বেশি চাচ্ছে। তবে অবশেষে কেনা হয়েছে বলে তিনি জানান। সবমিলিয়ে ঈদে এই পূর্ব মুহুর্তে ক্রেতা সমাগমে মুখরিত দৌলতপুর বাজার। ক্রেতাদের আগমনে ব্যবসা করতে পেরে ব্যবসায়ীরাও খুশি।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*