Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / উগ্রবাদের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদারের ঘোষণা ট্রুডোর

উগ্রবাদের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদারের ঘোষণা ট্রুডোর

প্রবাহ ডেস্ক : উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দ্বিগুণ উদ্যোমী হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। দুইদিন আগে অন্টারিওতে ট্রাক চাপায় এক মুসলিম পরিবারের চারজনের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে মঙ্গলবার পার্লামেন্টের হাউজ অব কমন্সে এই প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ট্রাক চাপার ওই ঘটনাকে পুলিশ পূর্বপরিকল্পিত বলছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইসলাম বিদ্বেষ থেকেই এই হামলা চালানো হয়েছে।ট্রুডো বলেন, “এটা একটি সন্ত্রাসী হামলা। যা আরেকটি স¤প্রদায়ের প্রতি ঘৃণা থেকে একজনের হৃদয়ে উৎসরিত হয়েছে।” কানাডার পুলিশ জানিয়েছে, একটি পিকআপ ট্রাক রাস্তা থেকে লাফ দিয়ে ফুটপাতে উঠে মুসলিম পরিবারটির ওপর দিয়ে চলে যায়। মুসলিম পরিবারটি সেদেশে তিন প্রজন্ম ধরে বসবাস করছে। হামলায় ওই পরিবারের নয় বছরের একটি ছেলে বেঁচে গেছে। হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। টরন্টো ও ডেট্রয়টের মধ্যবর্তী অবস্থানে থাকা লন্ডন শহরটিতে চার লাখ মানুষের বসবাস। সেখানে মুসলিমদেরও একটি বড় অংশ বাস করে এবং শহরে অন্তত তিনটি মসজিদ আছে। পার্লামেন্টে ট্রুডো আরও বলেন, “ঘৃণার বিরুদ্ধে আমরা অফলাইন এবং অনলাইনে লড়াই চালিয়ে যাব, এর মধ্যে রয়েছেঅতি-ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে ভেঙে দেওয়া। প্রাউড বয়েজকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তালিকাভুক্তির মাধ্যমে আমরা তেমনটা করেছি।” রোববারের হামলার ঘটনায় নাথানিয়েল ভেল্টম্যান নামের ২০ বছরের একজনকে অন্টিারিও লন্ডন শহরের মসজিদ থেকে ৫০০ মিটার দূরের একটি পার্কিংলট থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শেতাঙ্গ ভেল্টম্যানের বিরুদ্ধে চার ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে সম্ভাব্য অভিযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে কর্তৃপক্ষ। ২০১৯ সালে নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় ৫১ জন নিহত হওয়ার পর কানাডার লন্ডন মুসলিম মসজিদের নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন মসজিদের ইমাম আরিজ আনোয়ার। তিনি বলেন, “তখন থেকেই আমরা নিরাপত্তা বাড়িয়েছি এবং এখন আরও বাড়াচ্ছি। ইসলামভীতি তলে তলে ফেনিয়ে উঠছে এবং মাঝে মাঝেই আমাদেরকে এর কুৎসিত চেহারাটির মোকাবেলা করতে হচ্ছে চরম পরিণতির মাধ্যমে।” ২০১৭ সালে একজন বন্দুকধারী কুইবেক সিটি মসজিদে ছয়জনকে হত্যার পর কানাডায় এটাই মুসলিমদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় হামলা। লন্ডন শহরের মেয়র অ্যাড হোল্ডার জানিয়েছেন, তার শহরের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় হত্যাকা-। জাস্টিন ট্রুডোর বক্তব্যের পর কানাডার বিরোধী দল নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা জগমিত সিং বলেন, “মুসলিমরা ভাবছে, আমরা কিছু করার আগে আর কত প্রাণ দিতে হবে, আর কত পরিবারকে গাড়িচাপা, রাস্তায় পিষে ফেলা হবে, আর কত পরিবারকে হত্যা করা হবে?”

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*