Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / মোংলায় কঠোরতর বিধি নিষেধ তেমন মানা হচ্ছে না

মোংলায় কঠোরতর বিধি নিষেধ তেমন মানা হচ্ছে না

২৬ জন সনাক্ত, পরীক্ষা করাতে এসে দুইজনের মৃত্যু
স্বাভাবিক মোংলা বন্দরের কার্যক্রম

মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
মোংলায় করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা পরীক্ষা করাতে এসে দুইজন মারা গেছেন। তারা হলেন রামপাল উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়নের ফুলপুকুর পাড়ের রফিকুল ইসলামের স্ত্রী তহুরুননেছা খুকি (৪২) ও মোংলার মালগাজী গ্রামের নুর আলমের ছেলে ইব্রাহিম (১৬)। এছাড়া গত রাতে করোনা নিয়ে মারা গেছে নতুন কবরস্থান এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে আসলাম (৪২) ও মাছমারা এলাকার খালেক (৬০)। এর আগে বুধবার সকালে জয়মনি এলাকা থেকে করোনা পরীক্ষা করাতে এসে হাসপাতালে মারা যায় আম্বিয়া বেগম নামের এক নারী। মারা যাওয়া সকলেই করোনা আক্রান্ত ছিলেন।
এদিকে গত ৩০ মে থেকে দুই দফায় দেয়া করোনা বিধি নিষেধে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে আগামী বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত চলমান কঠোর বিধি নিষেধকে আরো অধিক কঠোরতর বিধি নিষেধ জারি করে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন। নতুন করে জারি করা বিধি নিষেধে নদী পারাপার, যান চলাচল, দোকানপাট, পশুর হাট বন্ধের নির্দেশনা রয়েছে। তবে তা কার্যকর ও মানা হচ্ছেনা। নদী পারাপার ও যান চলাচল করছে, রয়েছে লোকসমাগমও। খোলা রয়েছে দোকানপাটও। নিত্য প্রয়োজনীয় মুদি, কাঁচা, মাছ ও মাংসের দোকান খোলাস্থানে নেয়ার নির্দেশনা থাকলেও তা রয়েছে আগের জায়গাতেই। সেখানে স্বাস্থ্য বিধি, সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক ব্যবহারের বালাই নেই। পৌর শহরের প্রবেশমুখগুলোতে পুলিশ আনসার থাকলেও সেখান দিয়ে হরহামেশা বিভিন্ন ইউনিয়নের লোকজন ও যানবাহন আসা-যাওয়া করছে। স্থায়ী বন্দর এলাকায়ও বাসসহ বিভিন্ন যান চলাচল ও লোকসমাগমও চোখে পড়ার মত। নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও ভারতগামী নৌযানের ষ্টাফেরা শহরে নেমে ঘুরা-ফেরা করছেন। গাদাগাদি করে নদী পারাপার ও ভারতগামী নৌযানের স্টাফদের অবাদ চলাচলের বিষয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মো: আজিজুর রহমান বলেন, বিধি নিষেধ বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন, কিন্তু স্থানীয়রা এ নিয়ে অনেকটা লুকোচুরি করছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার নতুন করে আরো ২৬ জনের করোনা সনাক্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ৫১ জন রোগী করোনা পরীক্ষা করোনা জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেজিষ্ট্রেশন করেন। এরমধ্যে পরীক্ষায় ২৬ জনের করোনা পজেটিভ হয়। বৃহস্পতিবারের আক্রান্তের হার ৫১ ভাগ। এর আগে বুধবার যা ছিল ৬৮ ভাগে।
এছাড়া সম্প্রতি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের দুই সহকারী প্রকৌশলীসহ ১০ জন। করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও মোংলা বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। বৃহস্পতিবারও বন্দরে থাকা ৭টি বিদেশী জাহাজের পণ্য ওঠানামা ও পরিবহণের কাজ চলেছে স্বাভাবিক গতিতেই।

 

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*