Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / খুলনা বিভাগে মৃত্যু ৭শ’ ছাড়ালো, শনাক্ত ৩৮ হাজার ৬৮৯

খুলনা বিভাগে মৃত্যু ৭শ’ ছাড়ালো, শনাক্ত ৩৮ হাজার ৬৮৯

খুলনায় ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ শনাক্ত ১৫৬ জন

কামরুল হোসেন মনি
খুলনা জেলায় দিনকে দিন করোনাসংক্রমন ও মৃত্যু দুটোই বেড়েই চলেছে। করোনার শুরু থেকে এ পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মৃত্যু ছাড়ালো ৭০১ জন। শনাক্ত হয়েছে ৩৮ হাজার ৬৮৯ জন। এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় খুলনায় সর্বোচ্চ শনাক্ত হয়েছে ১৫৬ জন। যা চলতি মাসে সর্বোচ্চ, শনাক্ত হার ৩৫%। করোনা হাসপাতালেও ভর্তি দিক থেকেও সর্বোচ্চ ছিলো ১৪৩ জন। করোনা ও উপসর্গে নিয়ে মারা গেছে ৫ জন। এর মধ্যে করোনায় ৩ জন রয়েছে। করোনায় মৃত ব্যক্তিরা হচ্ছে একজন সাতক্ষীরা ও দুইজন বাগেরহাটের। এদিকে গতকাল শুক্রবার খুলনা মেডিকেল কলেজে পিসিআর ল্যাবে করোনা নমুনা ৩৭৬ জনের টেস্টের মধ্যে নতুন করে শনাক্ত হয় ১৩৫ জন। এর মধ্যে খুলনায় শনাক্ত রয়েছে ১১৬ জন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
খুলনা বিভাগীয় ( স্বাস্থ্য) এর দপ্তরের সূত্র মতে, ২০২০ সালের ১০ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত খুলনা বিভাগের করোনাসংক্রমিত হয়ে মারা গেছেন ৭০১ জন। এ সময়ের মধ্যে শনাক্ত হয় ৩৮ হাজার ৬০৮৯ জন। এ পর্যন্ত খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে খুলনায় করোনায় মারা যায় ১৯২ জন। এছাড়া বাগেরহাটে ৫৩ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৬৪ জন, যশোরে ৮৫ জন, ঝিনাইদহে ৫৭ জন, কুষ্টিয়ায় ১২৭ জন, মাগুরায় ২৩ জন, মেহেরপুর ২৩ জন, নড়াইলে ২৭ জন ও সাতক্ষীরায় ৫০ জন করোনাসংক্রমিত হয়ে মারা যায়। এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় ( বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮ পর্যস্ত) খুলনা বিভাগে ১০ জেলায় নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছে ৫৯৯ জন । মারা গেছে ৬ জন। খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ( স্বাস্থ্য) এর দপ্তর থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ওই সূত্র মতে, ১১ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে খুলনায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫৬ জন। করোনায় শনাক্তের দিক থেকে খুলনায় সবচেয়ে বেশি। এছাড়া বাগেরহাটে শনাক্ত ৫৫ জন, চুয়াডাঙ্গায় ২১ জন, যশোরে ১২৮ জন, ঝিনাইদহে ৬ জন, কুষ্টিয়ায় ৪৪ জন, মাগুরায় ১৫ জন, মেহেরপুরে ১২ জন, নড়াইলে ৫১ জন ও সাতক্ষীরায় ১১১ জন করোনায় শনাক্ত হয়। এ সময়ের মধ্যে মারা গেছে যশোরে ১ জন, কুষ্টিয়ায় ৩ জন ও সাতক্ষীরায় ২ জন ব্যক্তি রয়েছে।
খুলনা সিভিল সার্জন দপ্তরের সূত্র মতে, খুলনা মহানগরীসহ ৯ উপজেলায় গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে করোনায় শনাক্ত হয়েছে ১৫৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৮৭ জন ও মহিলা ৬৯ জন রয়েছে। শনাক্ত মধ্যে রয়েছে খুলনা সিটিতেই ১০৭ জন। এয়াড়া উপজেলা দাকোপ-৮ জন, বটিয়াঘাটায়-৪ জন, রূপসায়-৪ জন, তেরখাদায়-৮ জন, দিঘলিয়ায়-৫ জন, ফুলতলায়-৬ জন, ডুমুরিয়ায়-১২ জন ও পাইকগাছায়-২ জন রয়েছে। এই পর্যন্ত খুলনা জেলায় মোট করোনা শনাক্ত ১১ হাজার ২৮০ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৯২ জনের।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরএমও ও করোনা ওয়ার্ডের ফোকাল পার্সন ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, যে হারে প্রতিদিন করোনা ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেড়েই চলেছে তাতে অক্সিজেন সংকটে দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকেই করোনা ইউনিটে অক্সিজেন সংকট দেখা দেয়। যার কারণে হাসপাতালের অন্যান্য ওয়ার্ড থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার ম্যানেজ করোনা রোগীদের দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, অক্সিজেন শেষ হয়ে গেলে ওটা রিফিল করতেও নির্দিষ্ট সময় আছে, এর ভেতর রোগীর অক্সিজেন প্রয়োজন হলে আমরা তা ম্যানেজ করতে হিমশিম খাচ্ছি। তিনি বলেন, চলতি মাসে গত ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ রোগী ভর্তি ছিলো। এর মধ্যে যাদেরকে বেড দিতে পারিনি তাদেরকে ফ্লোরে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কারণ বেড সংকট থাকলেও তাদেরকে ভর্তি করতে বাধ্য হচ্ছি, কারন অধিকাংশই ওই সব রোগীদের অক্সিজেন প্রয়োজন হচ্ছে।
গত ২৪ ঘন্টায় ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালে রোগী ভর্তি ছিলো ১৪৩ জন। এর মধ্যে রেডজোনে ৬১ জন, ইয়োলো জোনে ৩০ জন, এইচডিইউতে ৩২ জন ও সিসিইউতে ছিলো ২০ জন। এ সময়ে নতুন করে ভর্তি হয় ৫৮ জন। এর মধ্যে রেডজোনে ২২ জন, ইয়োলো জোনে ৩২ জন, এইচডিইউতে ৩ জন এবং সিসিইউতে ১ জন। ছাড়পত্র দেওয়া হয় ৩৭ জন কে। এর মধ্যে ছিলো রেডজোনে ১৩ জন, ইয়োলো জোনে ২৩ জন ও এইচডিইউ রোগী ১ জন। হাসপাতালে মারা যায় করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ৫ জন। এর মধ্যে করোনায় ৩ জন ও উপসর্গ নিয়ে ২ জন। মারা যাওয়ার মধ্যে রয়েছে সাতক্ষীরার একজন ও বাগেরহাটের দুই জন বাসিন্দা। আইসিউইতে ২০ জন ও এইচডিইউতে ৩২ জন ভর্তি রয়েছে।
খুমেক পিসিআর ল্যাবে করোনা টেস্ট : গতকাল শুক্রবার খুলনা মেডিকেল কলেজে আরটিপিসিআর ল্যাবে করোনা ৩৭৬ নমুনা পরীক্ষায় করা হয়। এর মধ্যে খুলনার নমুনা ছিলো ৩৩২টি। মোট পজিটিভ পাওয়া যায় ১৩৫ জনের। এর মধ্যে খুলনায় ১১৬ জন, বাগেরহাটে ১৩ জন, সাতক্ষীরায় ৩ জন, যশোরে ২ জন ও পিরোজপুরে ১ জন বাসিন্দা রয়েছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*