Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / আত্মসমর্পণ করা জলদস্যুদের ঘর-নৌকা-গবাদিপশু হস্তান্তর

আত্মসমর্পণ করা জলদস্যুদের ঘর-নৌকা-গবাদিপশু হস্তান্তর

উপকূলে কোথাও দস্যুবৃত্তির ঘটনা দেখতে চাই না : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী

কামরুল হোসেন মনি
সুন্দরবনের আত্মসমর্পণ করা জলদস্যুদের পুনর্বাসনে ঘর, মুদিদোকান, নৌকা ও মাছ ধরার জালসহ গবাদিপশু হস্তান্তর করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সোমবার বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা পরিষদ মাঠে দস্যুমুক্ত সুন্দরবন দিবসের ৩য় বর্ষ ও আত্মসমর্পনকৃত জলদস্যুদের পুনর্বাসন উদযাপন অনুষ্ঠানে এসব সরকারি উপহার হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্যে ১০২টি ঘর, ৯০টি মুদিদোকান (মালামালসহ), ১২টি জাল ও মাছ ধরার নৌকা, আটটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা ও ২২৮টি গবাদিপশু রয়েছে।
এদিকে দস্যুমুক্ত সুন্দরবনের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মূল পর্বের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, খুলনা মেয়র বলেছেন মংলা পোর্ট ও এর আশপাশে এলাকায় আমদানিকৃত পণ্য খোয়া যাচ্ছে। তাই এখানকার কোস্টগার্ডকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। খুলনা কোস্টগার্ড বিষয়টি দেখবে। প্রয়োজনে নৌ-পুলিশের ডিআইজি আছেন, তিনিও দেখবেন। কিন্তু আমরা নদী কিংবা উপকূলে কোথাও আর কোনো দস্যুবৃত্তির ঘটনা দেখতে চাই না। তিনি বলেন, এখানেই শুধু নয়, পাবনায় ৬০১ জন চরমপন্থী আত্মসমর্পণ করেছে, কক্সবাজারে ১০১ জন মাদক ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করেছে। এর সবই হয়ছে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায়। প্রধানমন্ত্রী শুধু আজ আমাদের নেতা নন, আজ তিনি বিশ্বনেতা। তিনি বঙ্গবন্ধুর সব স্বপ্নকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু সেখানেও ষড়যন্ত্র চলছে। যারা মনে করেন, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে বা নানা ধরনের বিশেষ অবস্থা সৃষ্টি করে অরাজকতার দিকে নিয়ে যাবেন, সফল হবেন, সে আশায় গুঁড়েবালি। সেটা কোনোভাবেই হতে দেওয়া হবে না। জঙ্গি-সন্ত্রাসের ন্যায়, মাদকের ব্যাপারেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন।
র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ প্রমুখ। এছাড়াও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. শামসুল হক টুকু, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সালাহউদ্দিন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. হাবিবুর রহমান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পীর ফজলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল কে এম আজাদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সব সময় খোঁজ খবর রাখছেন সুন্দরবনে দস্যুতা ছেড়ে যারা আত্মসমর্পণ করেছেন তারা এখন কেমন আছেন। তাদের পুনর্বাসন করা হয়েছে কিনা তাও জানতে চেয়েছেন। আপনাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দাবি ছিল মামলা প্রত্যাহারের। ধর্ষণ ও খুনের মামলা ছাড়া অবশ্যই পর্যায়ক্রমে সব মামলা তুলে নেওয়া হবে। মামলার কাগজ নিয়ে আসেন। সরকারি অনুদান যাতে মামলা লড়তে উকিল খরচ না হয় সেটা আমরা দেখব। মামলা তুলে নেওয়ার ব্যবস্থা আমরা করব। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করেই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। মন্ত্রী বলেন, পটুয়াখালী থেকে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট এলাকায় জলদস্যুর কারণে বাড়িতে থাকা যেতো না। আটকে রাখা হতো, মুক্তিপণ দাবি করা হতো, ডাকাতি করা হতো, ডাকাতিতে জড়াতে বাধ্য করা হতো। মধু সংগ্রহকারীরাও রেহাই পেতেন না। আজ সে চিত্র বদলেছে। সব কিছুর সমাধান হয়েছে। সুন্দরবন আজ দস্যুমুক্ত। তিনি বলেন, সুন্দরবনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে র‌্যাবের স্থায়ী ক্যাম্প প্রতিষ্ঠার জোর প্রচেষ্টা চলছে। যদি কেউ মনে করেন আবারও জলদস্যুতা করবেন, সে স্বপ্ন যেন ভেঙে যায়।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের র‌্যাবের কাছে সর্বমোট ৩২টি দস্যু বাহিনীর ৩২৮ জন আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় ৪৬২টি অস্ত্র, ২২ হাজার ৫০৪ রাউন্ড গোলাবারুদ জমা দেন জলদস্যুরা। ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর সুন্দরবনকে ‘দস্যুমুক্ত সুন্দরবন’ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই হিসাবে প্রতি বছরই ১ নভেম্বর ‘দস্যুমুক্ত সুন্দরবন’র বর্ষপূর্তি পালন করে আসছেন র‌্যাব।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*