Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / খালিশপুর পৌর সুপার মার্কেটের ছাদের সিলিং ভেঙ্গে অল্পের জন্য দোকানদারের প্রাণ রক্ষা

খালিশপুর পৌর সুপার মার্কেটের ছাদের সিলিং ভেঙ্গে অল্পের জন্য দোকানদারের প্রাণ রক্ষা

স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) কর্তৃক নির্মাণাধীন খালিশপুর পৌর সুপার মার্কেটের ছাদের সিলিং ভেঙ্গে পড়ে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেন মুদি দোকানদার মকবুল হোসেন। গতকাল সকাল সোয়া ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আতংকগ্রস্ত মুদি দোকানদার মকবুল হোসেন বলেন, এ মার্কেট শুরু থেকে তিনি এখানে মুদি দোকান দিয়ে আসছেন। মার্কেটের অবস্থা সব দিক দিয়েই খুব খারাপ। বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে দোকানের মালামাল নস্ট হয়। ছাদের সিলিং ভেঙ্গে পড়ে প্রায় ছোট খাটো দুর্ঘটনা লেগেই আছে। সকাল ৮টার দিকে দোকান খুলে মালামাল গোছানোর সময় বাইওে থেকে মালামাল গোছানোর সময় হঠাৎ তার গা ঘেষে ছাদের সিলিং-এর বড় অংশ ভেঙ্গে পড়ে। অল্পের জন্য তিনি প্রাণে রক্ষা পান। তবে তার দোকানের সাটারের কভার ভেঙ্গে পড়ে তিনি ব্যাথা পান। তিনি আরো বলেন, মাকের্টের গেটগুলো নস্ট হয়ে গেছে। চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে দোকান বন্ধ করে বাড়ি যেতে হয়। দুর্বৃত্তরা দোকান ভেঙ্গে মালামাল নিয়ে যায় কি না- এমন আতংকের মধ্যে রাত যাপন করতে হয়। আতংকে অনেক রাতে ঘুম হয় না। শুধু তিনি একা নন, সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাঃ সম্পাদক রাফেল ফেরদৌস রানা ও আরেক নেতা শফিউল আজম আদু একই কথা বলেন। তারা বলেন, নির্মানাধীন মাকের্টটির কাজ বন্ধ হওয়ার পর নতুন করে চালুর জন্য আমরা মেয়রের নিকট আবেদন করেছি। শুনেছি মেয়রও মার্কেটটি নির্মাণ কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করতে চেষ্টা করছেন। এছাড়া মার্কেটের সার্টারের অংশের অবস্থা খুবই খারাপ। ক্লোবসিবল গেটগুলো ভাল নেই। চোরেরা রাতের আধারে বিনা বাঁধায় বাজারের ভিতরে প্রবেশ করতে পারে। এ বাজারের ব্যবসায়ীরা ভাল নেই। কেসিসির নিয়মিত টোল ট্যাক্স দিলেও তার সুফল ব্যবসায়ীরা পাচ্ছে না। অবিলম্বে নিমাণাধীন মার্কেটের কাজ নতুন করে শুরু করা ও মার্কেটের বাকী অংশ (সার্টার) সংস্কার করে তা ব্যবহারের উপযোগী করার জোর দাবি জানান এই ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৩০ মে ৯ কোটি ৬০ লাখ ৮৯ হাজার টাকা ব্যয়ে খালিশপুর পৌর সুপার (চিত্রালী কিচেন) মার্কেট প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। কাজ শেষ করার কথা ছিল ২০২১ সালের ৩০ মে। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে না পারায় গত ১৬ জুন বিএমডিএফ (বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড) কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি বাতিল করে দেয়। যদিও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের প্রায় ৭৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন করে ৭ কোটি ৯ লাখ ৫১ হাজার টাকার চূড়ান্ত বিল উত্তোলন করে নিয়েছে।
বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, প্রকল্পের কাজ শেষ করতে না পারায় এ বাজারের ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির মুখে। হতাশাগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা অন্য পেশায় মনোনিবেশ করছে। কেসিসির সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র আনিসুর রহমান বিশ্বাসের নিকট বাজারের নস্ট গেটগুলো মেরামত করার জন্য গেলে তিনি পরিত্যক্ত মার্কেটের পিছনে কোন অর্থ ব্যয় করা যাবে না মর্মে সাফ জানিয়ে দেন। অথচ সেই মার্কেটের ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে কেসিসি নিয়মিত টোল ট্যাক্স নিচ্ছে। এমন কি সম্প্রতি দোকান ঘরের ভাড়া বৃদ্ধি করেছে। যা কমানোর দাবি করে মেয়রের নিকট স্মারকলিপি দেয়া হলেও এখনও কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি। অবিলম্বে অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করতে মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এই নেতা।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*