Breaking News
Home / সম্পাদকীয় / খেলনা উৎপাদন শিল্প উন্নয়নে যতœবান হতে হবে

খেলনা উৎপাদন শিল্প উন্নয়নে যতœবান হতে হবে

করোনা অতিমারীতে আক্রান্ত শিশু-কিশোররা লকডাউন-সাটডাউনে কার্যত যখন শিক্ষাবঞ্চিত ও গৃহবন্দী এবং তাদের সময় কাটছে নিছক টিভি দেখে অথবা মোবাইলফোনে গেম খেলে, তখন বিকল্প হিসেবে বিবিধ খেলনা সমগ্রী হতে পারে বিনোদনের ভাল ও নির্মল উপাদান। কোন কোন খেলনা যেমন- লেগো, রুবিকের কিউব শিশু ও শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল উদ্ভাবনী শক্তি বাড়াতে সহয়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। বর্তমানে রাজধানীর আশপাশে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় ১৫০টি খেলনা তৈরির কারখানা। শুধু দেশেই ছোট ও মাঝারি খেলনার বাজার রয়েছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার। প্রায় ৩শ’ কোটি খেলনা রফতানিও হচ্ছে বিদেশে, যেগুলো প্রধানত প্লাস্টিক পণ্য রফতানির সঙ্গে সংযুক্ত। এ খাতে বিশেষ করে রফতানি প্রক্রিয়াজাত অঞ্চলগুলোতে বিদেশী বিনিয়োগও আসছে। তবে খেলনার সার্বিক চাহিদার দুই-তৃতীয়ংশ তৈরি হয় দেশে, যেগুলো ছোট ও মাঝারি খেলনা। রফতানির বড় অংশও ছোট খেলনা। বড় খেলনার ৭০ শতাংশ এখনও আমদানি করতে হয় বিশ্বের নানাদেশ থেকে। ফলে এ খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে প্লাস্টিক পণ্য রফতানির বাজার প্রধানত চাঙ্গা রেখেছে নানাবিধ খেলনা সামগ্রী। কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীও বিনিয়োগ করতে শুরু করেছে খেলনা উৎপাদন শিল্পে, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।
এর বাইরেও দেশে নানাবিধ প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার ও চাহিদা বাড়ছে দিন দিন। গরিব থেকে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত এমনকি ধনীরাও বর্তমানে বিবিধ আকর্ষণীয় খেলনাসহ প্লাস্টিক পণ্যসামগ্রী দৈনন্দিন ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। সংসারে ব্যবহার্য যেসব পণ্য আগে তৈরি হতো মাটি দিয়ে অথবা এ্যালুমিনিয়ামে, সেসব ভঙ্গুর ও মহার্ঘ্য হওয়ার কারণে বিদায় নিয়েছে অনেক আগেই। কাঁচ কিংবা চিনামাটির সামগ্রী দামী হলেও সেসব ভঙ্গুর এবং দৈনন্দিন রক্ষণাবেক্ষণও দুরূহ। তুলনায় প্লাস্টিকের তৈরি পণ্য দামে সাশ্রয়ী, প্রায় সবার নাগালের মধ্যে, সর্বোপরি টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী। পরিবেশের জন্য প্লাস্টিক ক্ষতিকারক হলেও অন্যবিধ পণ্যের সঙ্গে প্রধানত মূল্য প্রতিযোগিতায় এগিয়ে গেছে। তদুপরি প্লাস্টিক দিয়ে ছাঁচ ও ঢালাইয়ের মাধ্যমে দৈনন্দিন ব্যবহার্য সম্ভার ছাড়াও প্রায় সর্ববিধ পণ্য উৎপাদন সম্ভব। যেমন- খেলনা, বালতি, চেয়ার, টেবিল ইত্যাদি। সেসব দেখতেও সুন্দর, রঙ্গিন দামে কম সর্বোপরি সহজে ভাঙ্গে না বলে হয় দীর্ঘস্থায়ী। প্লাস্টিক প্রকৃতিতে পচনশীল না হলেও একে টুকরো টুকরো করে গলিয়ে পুনর্ব্যবহার সম্ভব এবং তা হচ্ছেও। আগে যেসব পণ্য তৈরি হতো পাট থেকে কাপড়-দড়ি, চটের ব্যাগ, সেসবের উৎপাদন খরচ বেশি বলে বিকল্প হয়ে উঠেছে প্লাস্টিক। সর্বোপরি বাংলাদেশের প্লাস্টিক পণ্যের মানও উন্নত ও দৃষ্টিনন্দন। যে কারণে এসবের রফতানির সম্ভাবনাও উজ্জ্বল বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোতে। যেমন- ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্যে, নেপাল ও ভুটানে। এসব দিক বিবেচনায় দেশে প্রথমবারের মতো কেরানীগঞ্জে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লাস্টিক ইঞ্জিনিয়ারিং এ- টেকনোলজি (বিআইপিইটি)। এটি প্রতিষ্ঠার অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো- প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন শিল্পের জন্য দক্ষ জনবল তৈরিসহ আন্তর্জাতিক মানের টেস্টিং ল্যাব তৈরি। বর্তমানে দেশে ছোট-বড় সাড়ে তিন হাজার প্লাস্টিক শিল্প কারখানা করেছে, যেগুলোর মধ্যে বড় শিল্পকারখানা অর্ধশত। এ ক্ষেত্রে বিপুল কর্মসংস্থানও হয়েছে। বর্তমানে দেশে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন ও বিপণন হচ্ছে। মাথাপিছু ব্যবহৃত হচ্ছে ৫-৭ কেজি প্লাস্টিক পণ্য। আগামীতে ২০৩০ সাল নাগাদ যা দাঁড়াবে মাথাপিছু ৩৫ কেজিতে। আন্তর্জাতিক বাজারে এর রফতানির সম্ভাবনাও সুবিশাল ও সুমুজ্জ্বল। ২০৩০ সাল নাগাদ বছরে ৮৫ হাজার কোটি টাকার প্লাস্টিক পণ্যসামগ্রী রফতানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। সুতরাং বিবিধ খেলনাসহ প্লাস্টিক সামগ্রীকে আর উপেক্ষা করার উপায় নেই। কাজেই, সরকার এই খাত উন্নয়নে কার্যকরি পদক্ষেপ নেবে এটাই প্রত্যাশা।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*