Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / খুলনা-যশোর মহাসড়কের দু’ধার দখল করে কাঠ-লকের ব্যবসা

খুলনা-যশোর মহাসড়কের দু’ধার দখল করে কাঠ-লকের ব্যবসা

মোঃ আশিকুর রহমান
নগরীর দৌলতপুরস্থ খুলনা-যশোর মহাসড়কের রেলস্টেশনের সম্মুখ হতে রেলিগেট, মানিকতলাস্থ খুলনা-যশোর মহাসড়কের দু’পাশ জুড়ে কাঠ ব্যবসায়ী ও স-মিলের মালিকরা দখল করে রেখেছে। সড়ক বিভাগের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর সড়কের পাশের জায়গা দখল করে দিদারছে ব্যবসা করে যাচ্ছে তারা।
এলাকাবাসী জানান, সড়কের সাথে গাছের লক রাখার দরুন সড়ক দিয়ে চলাচলরত বাস, ট্রাকসহ মাঝারী, ছোট বড় যান চলাচলের সময় ওভারট্রেকিং করার কারণে অনেক সময় এ যানবহন গুলো চাপ খেয়ে ফুটপথে নেমে যাওয়ার দরুন দূর্ঘটনার কবলে পড়ছে। খুলনা সড়ক বিভাগ পাওয়া সূত্রে, মহাসড়কের পাশে রাখা গাছের লকগুলো সড়িয়ে নেওয়ার জন্য লিখিত নোটিশ করলেও অপসারণের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়নি সড়ক বিভাগের জায়গা অবৈধভাবে দখল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা মালিকেরা।
পথচারী শাহিন বলেন, শীত নামতে শুরু করেছে। সামনে ভারী কুয়াশা দেখা দেবে। কুয়াশায় কিছুই দেখা যায় না। ভারী কুয়াশা বাতি জ্বালিয়ে চলতে হয় ড্রাইভারদের। মহাসড়কের পাশের পাশের জায়গায় বিপজ্জনকভাবে বড় বড় গাছের লক ও কাঠ রেখে ব্যবসা করছে একশ্রেনীর ব্যবসায়ীসহ স-মিল মালিকেরা। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটে যানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তাই সড়ক বিভাগের নির্দেশ অনুসারে দ্রুতই এই ঝুঁকিপূর্ণ গাছের কাঠ বা লক অপসারণ করা দাবি জানাচ্ছি।
সিএনজি চালক সজিব বলেন, ইচ্ছাস্বাধীন এলোমেলো অবস্থায় এ রকম গুরুত্বপুর্ন সড়কের পাশে এখানে-সেখানে বিপজ্জনকভাবে বড় বড় গাছের লক ও গাছ রাখা হয়েছে । এতে এ সড়কে চলাচলকারী মানুষ ও যানবাহন বিশাল ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আমরা নিরাপদ চলাচলের জন্য এ গাছ গুলো লক সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করছি।
এ ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কেসিসি’র ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ্ব মাস্টার আব্দুস সালাম বলেন, খুলনা যশোর মহাসড়কের দৌলতপুর থানাধীন ৩নং ওয়ার্ডের মধ্যে যারা সড়ক বিভাগের জায়গা তথা ফুটপথ দখল করে গাছের বা কাঠের ব্যবসা করে আসছে, আমি একাধিক এ প্রতিষ্ঠান গুলো মৌখিকভাবে গাছের লক ও গাছের কাঠ সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু কেউ কথা আমলে না নিয়ে নিঃভয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে।
খুলনা সড়ক বিভাগের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আরিফুজ্জামান মাসুদ বলেন, মহাসড়ক হতে সড়কের দু’পাশে ৩০ ফুট জায়গা ছেড়ে দিয়ে যে কোন স্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। এবং এ সকল স্থাপনার মালিকগনকে প্রতিষ্ঠান একাধীক বার মহাসড়কের পাশে রাখা গাছের লকগুলো সড়িয়ে নেওয়ার জন্য লিখিত নোটিশ করলে ও সড়ক দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা করা মালিকরা প্রতিষ্ঠান অপসারণ করেনি। তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যেই সড়ক বিভাগ মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা পেয়েছে সীমানা নির্ধারনের এবং সেনুসারে সকল প্রস্তুতি চলছে। ইতিমধ্যেই সড়ক বিভাগ হতে ডিসি, কেডিএ চেয়্যারম্যান ও কেসিসি’র এস্টেট অফিসার দাপ্তরিক ভাবে জানানো হয়েছে।
যেহেতু করোন সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে লকডাউন চলছিল, যে কারণে ভ্রাম্যমান কোর্ট পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। অচিরেই মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনাক্রমে সড়কের সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে জানান এ কর্মকর্তা।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*