Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষে কেডি ঘোষ রোড রণক্ষেত্র

পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষে কেডি ঘোষ রোড রণক্ষেত্র

সাংবাদিক-পুলিশসহ আহত অর্ধশতাধিক
সমাবেশ প-, বিএনপির কয়েক কর্মী আটক

স্টাফ রিপোর্টার : দফায় দফায় পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারসেল নিক্ষেপের ঘটনায় চিকিৎসাধীন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে খুলনায় বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত সমাবেশ কর্মসূচি সমাবেশ পন্ড হয়েছে। লাঠিচার্জের বিরুদ্ধে রূখে দাঁড়াতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, পাঁচজন ফটো সাংবাদিক এবং খুলনা থানার ওসি তদন্তসহ অন্তত ২০জন আহত হয়েছে। সোমবার বেলা পৌনে ১২ টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত থেমে থেমে কয়েক দফায় নগরীর কেডি ঘোষ রোডের বিএনপি কার্যালয়ের সামনে চলে এ সংঘর্ষ।
এদিকে, বিএনপির নেতাকর্মীদের ইটের আঘাতে খুলনা সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. হানিফসহ পুলিশের পাঁচজন সদস্য আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীকে আটক করেছে।
অপরদিকে, পুলিশ-বিএনপি’র এ হামলা-প্রতিরোধে পাল্টা হামলার মাঝে ঘটনাস্থলের আশ-পাশে বোমার মত বিকট আওয়াজ শোনা যায়। অনেকেই এটিকে বিএনপি’র সমাবেশ পন্ড করতে দুর্বৃত্তদের বোমাবাজি বলে ধারণা করছেন। তবে, কেউ এর সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
জানা গেছে, চিকিৎসাধীন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি নগরীর কেডি ঘোষ রোডের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করে। একপর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এ সময় বিএনপির উত্তেজিত নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ করে। এতে বিএনপির সমাবেশ প- হয়ে যায়। একপর্যায়ে পুলিশ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে কেডি ঘোষ রোড এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রায় ১০/১৫ মিনিট ধরে চলা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পুলিশ পিছু হটে। পরে বিএনপি আবারো সমাবেশ শুরু করে। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, মহানগর সহ-সভাপতি মীর কায়সেদ আলী, মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, সিরাজুল হক নান্নু, রূপসা থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বাবু কাজী, বিএনপি কর্মী পাইলট ও হাসান, দৈনিক ইত্তেফাক ও জন্মভূমির ফটো সাংবাদিক দেবব্রত রায়, প্রথম আলোর ফটো সাংবাদিক সাদ্দাম হোসেন, যমুনা টেলিভিশনের ক্যামেরা পারসন আমীর সোহেল, সময় টিভির ক্যামেরা পারসন আব্দুল হালিম ও এস এ টিভির ক্যামেরা পারসন ইব্রাহিমসহ অন্তত ২০জন আহত হয়।
পরে কেডিঘোষ রোডের পশ্চিম দিক থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এ সময় ইটের আঘাতে খুলনা থানার ওসি তদন্ত মো. হানিফ আহত হন। পুলিশ দুই রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের তাড়া খেয়ে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয়। এই সময় পুলিশ দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করে। এদিকে, সংঘর্ষে আহতরা খুলনা জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
এরপর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বিএনপির অপর অংশ সমাবেশ করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এরপর পুলিশকে লক্ষ্য করে মিছিল থেকে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশের সাথে বিএনপি কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৬ জন পুলিশ ও ১২ জন রাজনৈতিক কর্মী আহত হন বলে জানা গেছে।
নগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, পুলিশ অতি উৎসাহী হয়ে মারমুখী আচরণ শুরু করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোববার বলেছেন বিএনপি তাদের নেত্রীর মুক্তির জন্য্ যে কোন আন্দোলন করতে পারে। সেখানে পুলিশ কোন আক্রমণ করতে পারবে না। অনুমতি দেওয়া সত্বেও পুলিশ আমাদের উপর চড়াও হয়েছে।
তিনি বলেন, নেত্রীর মুক্তির জন্য মানবিক কর্মসূচীর আয়োজন করে নগর ও জেলা বিএনপি। সকাল থেকে প্রশাসন কার্যালয় ঘিরে রাখে। পুলিশকে তিনি সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। পুলিশ তা না করে সাধারণ নেতাকর্মীর ওপর হামলা করে। জনতার রোষানলে পড়ে পুলিশ পিছু হাটতে বাধ্য হয়। পরে আবার তারা সমাবেশ শুরু করে। পরে সোয়া ১২ টার দিকে আবারও হামলা চালায়। নেতাকর্মীদের সরে যাওয়ার জন্য গুলি করার হুমকি দেয়। আমাকেও গুরলি করার হুমকি দেয়। তৃতীয় দফায় এসে তারা আমাকেসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। এ ঘটনায় সংগঠনের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত ও ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বিএনপি নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশ এ সময় টিয়ার সেল ছোঁড়ে। বিএনপি নেতাকর্মীদের টানা হেচড়া করে। এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি মীর কায়সেদ আলী, তিনি নিজে, সিরাজুল হক নান্নু ৫জন সাংবাদিকসহ অর্ধশত আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, পুলিশ ২৫ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে।
এর আগে সকাল থেকে খুলনায় সমাবেশ স্থলে অবস্থান নেয় পুলিশ। অপরদিকে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড আগত দলীয় কর্মীরা জড়ো হতে থাকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে দলে দলে আসতে থাকে ও স্লোগান দিতে থাকে।
খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের ইটের আঘাতে ওসি তদন্ত মো. হানিফসহ পুলিশের পাঁচজন সদস্য আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৬ রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করেছে। পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*