Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / ভয়ঙ্কর মাদক এলএসডি’র সন্ধান খুলনায়

ভয়ঙ্কর মাদক এলএসডি’র সন্ধান খুলনায়

১০ লাখ টাকার মুল্য’র মাদকসহ আটক ৩
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকার বিশেষ টিম’র খুলনায় অভিযান
সুন্দরবন কুরিয়া সার্ভিসে খুলনা থেকে ঢাকায় পাচার

কামরুল হোসেন মনি
মাদকের সর্বশেষ সংযোজন ভয়ংকর এলএসডির (লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইইথ্যালামাইড) খুলনায় সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মেট্রো (উত্তর কার্যালয়) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি বিশেষ টিম। ওই বিশেষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে নগরীর বয়রা পূজা খোলা ও মুজগুন্নীতে অভিযান চালিয়ে ভয়ঙ্কর এলএসডি মাদক বিক্রেতা মো: আসিফ আহম্মেদ শুভ (৩১) ও অর্নব কুমার শর্মা (৩০) সহ ১০ লাখ টাকার মূল্যের ১০০ পিস এলএসডিসহ তাদেরকে আটক করা হয়। এছাড়া বয়রা শাখা সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের ম্যানেজার মো: মামুনুর রশীদ (৩২) কেও আটক করা হয়েছে। এলএসডি বিক্রেতারা এই কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ভয়ঙ্কর মাদক এলএসডি বিভিন্ন জায়গায় প্রেরন করতেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলছে, নতুন এই মাদক এলএসডি বাংলাদেশে খুব বেশি পরিচিত নয়। তবে, এই মাদকটি অধিক দামি হওয়ায় এখনও উচ্চবিত্তদের নাগালে রয়েছে। একপিস এলএসডি বিক্রি হচ্ছে ১০ হাজার টাকা। অবার অনেক ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি দামেও বিক্রি হয়।
ঢাকা মেট্রো (উত্তর কার্যালয়) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মো: মেহেদী হাসান বলেন, এলএসডি বিক্রেতারা একটি চক্র কুরিয়ার সার্ভিসের পার্সেলের মাধ্যমে ভয়ঙ্কর মাদক এলএসডি বিভিন্ন জায়গায় পাচার করছেন। এ রকম একটি লিংকের সূত্রে ধরে আমার ঢাকায় একটি কুরিয়ার সার্ভিস থেকে এলএসডি জব্দ করি। তারাই সূত্র ধরে আমরা জানতে পারি খুলনায় এলএসডি মাদক বিক্রেতারা সক্রিয় রয়েছে। এই ধারাবাহিকতার সূত্র ধরে খুলনায় আজ আমাদের এই অভিযান। অভিযানে ১০০ পিস এলএসডিসহ দুইজনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে এলএসডি চালান এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পাঠাতেন। কুরিয়ার সার্ভিসদের আমরা বার বার বলে আসছি, কোন ব্যক্তি পার্সেল বা ডকুমেন্ট দিলে তার নাম ও ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর যাচাই করতে। কিন্তু তারা সেটা করছে না।
ঢাকা মেট্রো (উত্তর কার্যালয়) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: রাশেদুজ্জামান বলেন, আমার জানতে পারি খুলনা থেকে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ঢাকায় এলএসডি পাচার করা হচ্ছে। এরকম একটি লিংক প্রথমে ঢাকা একটি কুরিয়া সার্ভিস থেকেই পাই। ওই সূত্র ধরে প্রযুক্তির ব্যবহার করে খুলনায় এলএসডি বিক্রেতাদের চক্রের সন্ধান পেয়ে যাই। ওই চক্রটি ধরতে তার তত্ত্বাবধানে খুলনায় অভিযানে পরিচালনা করার জন্য ৫ সদস্য একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। টিমের প্রধান ছিলেন ঢাকা মেট্রো (উত্তর কার্যালয়) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মো: মেহেদী হাসান। এছাড়া অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে পরিদর্শক মো: হেলাল, পরিদর্শক কামরুল ইসলাম, উপ-পরিদর্শক মো: আশরাফ, উপ-পরিদর্শক মো: হান্নান এবং উপ-পরিদর্শক মো: আজাদ। এই বিশেষ টিম খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহযোগিদের নিয়ে খুলনায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ‘খ’ সার্কেলের পরিদর্শক মো: আতাউর রহমানসহ অনেকেই অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে একপিস এলএসডি ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুলনায় অভিযানে ১০০ পিস এলএসডি আটক করা হয়। যার মূল্য দাড়ায় ১০ লাখ টাকার। খুলনায় এই প্রথম ভয়ঙ্কর মাদক এলএসডি’র সন্ধান পাওয়া গেলো।
বয়রাস্থ সুন্দরবন কুরিয়া সার্ভিসের বুকিং ক্যাশিয়ার মোসা: হিরা বলেন, গত ২০ নভেম্বর রাকিব নামে সন্ধ্যা ৬ টা ৩৫ মিনিটে একটি ডকুমেন্ট ঢাকাস্থ এলিফ্যান্ড রোডে শান্ত ইসলাম নামে এক ব্যক্তির নামে বুকিং করেন। ওটার মধ্যে যে মাদক ছিলো আমি বুঝতে পারিনি। ভোটার আইডি কার্ড ও মোবাইল নম্বর যাচাই করছেন কি না এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি তাও যাচাই করেননি। পরে তিনি জানতে পারেন এসব নাম ও মোবাইল নম্বর ভূয়া। গত ২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর বয়রা সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস শাখার উদ্বোধন করা হয়। ম্যানেজার মামুনুর রশীদ কয়েক মাস হলো যোগদান করেছেন।
এলএসডি কী?
এলএসডি ড্রাগ মস্তিষ্কে এমন এক প্রভাব সৃষ্টি করে যা হ্যালুসিনেশনে (সম্মোহন) সাহায্য করে। ফলে যারা এই ড্রাগ ব্যবহার করে তারা বিভিন্ন রকম রং এবং আকৃতির জিনিস দেখে, যার অস্তিত্ব পৃথিবীতে নেই। এ ছাড়া এই ড্রাগ মানব মস্তিষ্কের এমন সব স্নায়ুর কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় যা অনেক সময় অতীত স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। এমনকি এই ড্রাগ মানুষকে তার জন্মকালীন স্মৃতিও মনে করাতে সক্ষম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এলএসডির হ্যালুসিনেশন তৈরি করার প্রবণতা থেকে অনেক মানুষই এই ড্রাগটি ব্যবহার শুরু করে। এমনকি ষাটের দশকে এই ড্রাগ থেকে নতুন একটি সাইকেডেলিক কালচার তৈরি হয়। জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী ও ব্যান্ড মেম্বাররা এই ড্রাগ ব্যবহার শুরু করেন। ১৯৬৮ সালে বিশ্বব্যাপী এলএসডি নিষিদ্ধ করা হয়। নিষিদ্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রেট ব্রিটেনের প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ এই ড্রাগ ব্যবহার করেছিল। বর্তমানেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে রিক্রিয়েশনাল ড্রাগ হিসেবে এলএসডি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে এই ড্রাগ ভারতে এখনো গোপনে ব্যবহার হয়।
এলএসডি অত্যন্ত দামি একটি মাদক। সাধারণত ব্লটিং পেপারের ওপরে এই তরল মাদক ফেলে সেই কাগজ শুঁকে নেশা করে মাদকাসক্তরা। এলএসডি মাখা এক একটি ছোট ছোট টুকরো ব্লটিং পেপারের দাম কয়েক হাজার টাকা।
গ্রেফতারকৃত আসিফ আহম্মেদ শুভ নগীরর মুজগুন্নী এলাকার বাসিন্দা মৃত আফসার উদ্দিন আহম্মেদ এর পুত্র। মুজগুন্নী আবাসিক এলাকায় বসাবস করেন। এবং অর্নব কমুার শর্মা নগরীর বয়রা পূজা খোলা এলাকা বাসিন্দা অশোক কুমার শর্মার পুত্র। তারা দুই জনই এ প্রতিবেদক বলেন, তারা ওয়েভডিজাইনার ও আার্টিস কাজে নিয়োজিত। পাশাপাশি অনলাইনে বিভিন্ন প্রতিষ্টানে সাথে যুক্ত রয়েছেন। তারা গান ও গাইতেন।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*