Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / চন্দ্রমহল ইকোপার্ক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পরিবেশ দুর্ষণের অভিযোগ: তদন্ত দাবী

চন্দ্রমহল ইকোপার্ক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পরিবেশ দুর্ষণের অভিযোগ: তদন্ত দাবী

শিশির শিকদার, চুলকাটি
বাগেরহাটের রনজিৎপুর গ্রামের বহুবির্তকিত বেসরকারী বিনোদন কেন্দ্র চন্দ্র মহল ইকোপার্ক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উচ্চস্বরে মাইক ও সাউন্ড বক্স বাজিয়ে শব্দ দুষন এবং যত্রতত্র বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দুষণ করার অভিযোগ উঠেছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে তারা নিয়মকে অনিয়মে রুপ দিয়ে এ কাজ গুলি করেই চলেছেন। ফলে উক্ত এলাকায় বসবাসকারী শতশত শিক্ষার্থীদের পড়ারলেখা মারাতœক ক্ষতির পাশাপাশি দুর্গন্ধে জনজীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। অতিদ্রুত পার্ক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করা না হলে শব্দ ও বর্জ্য দুষণ চরম আকার ধারন করবে।
জানা গেছে, ২০০৯ সালে উপজেলার রনজিৎপুর গ্রামে জনৈক সৈয়দ আমানুল হুদা সেলিম ব্যাবসায়ীক উদ্যোশ্যে এই বহু বির্তকৃত বিনোদন কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সময় অথ্যাৎ ২০১২ সালে ৬ ই মে খানপুর ইউপি তৎকালিন চেয়ারম্যান মরহুম হাজী মোঃ আমীর আলী তরফদারে লিখিত আপত্তি উপেক্ষা করে শর্ত-সাপেক্ষে পরিবেশ অধিদপ্তর বাগেরহাট উক্ত প্রতিষ্ঠানটিকে পরিবেশের ছাড়পত্র প্রদান করেন। এরই প্রেক্ষিতে একই বছর ২৯শে নভেম্বর তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোঃ আকরাম হোসেন প্রতিষ্ঠাটিকে পাবলিক এ্যামুজমেন্ট এ্যাক্ট (বেঙ্গল) ১৯৩৩ এর ক্ষমতা বলে চন্দ্রমহল ইকোপার্কের নামে ১১.৭৮ একর জমিকে পাকলিক এ্যামুজমেন্টপ্লেস ঘোষনা করেন। যাহা পরবর্তিতে গ্রেজেট প্রকাশ করেন সরকার। কিন্তু সেই সময় থেকে শুরু করে অদ্যাবদী সময় পর্যন্ত পরিবেশ নীতিমালার তোয়ক্কা না করে অনুমোদিত জমির পরিমানের সাথে পরবর্তিতে ক্রয়কৃত জমি ও প্রতিষ্ঠাটির পশ্চিম পাশ দিয়ে প্রবাহমান ভোলা খালের বিপুল পরিমান চর দখল করে প্রতিষ্ঠানের আয়তন প্রায় দ্বিগুন বৃদ্ধি করে ফেলেছে। সেক্ষেত্রে পার্ক কর্তৃপক্ষ আইনের কোন তোয়াক্কাই করেন নি। তাদের বর্তমান জমির পরিমান প্রায় ২২একর বলে প্রচার চালালেও অনুমতি নিয়েছেন ১১.৭৮একরের। তাছাড়া তারা ভোলা খালের পূর্বপাড় ও চরের বিপুল পরিমানে জমি দখল করে নিজেদের আয়াত্বে নিয়েছেন।
ভাটপাড়া ইউনিয়ন ভুমি অফিস সুত্রে জানা গেছে, অতিতে এই ভোলা খাল স্থানভেদে ১৬০থেকে ২৪০ফুট চওড়া ছিল। সেই বৃহৎ খালটির পূর্বপার্শ্বে পার্ক কর্তৃপক্ষ দখল করে প্রচীর নির্মাণ করেছেন। যে কারণে খালের পূর্বপার্শ্বে নব্যতা দেখা দিয়েছে। তারা প্রবাহমান খালের গতি অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়ায় নদীটিতে চর পড়ার আশাংখা দেখা দিয়েছে। আর চর পড়ে গেলে আগামী বর্ষা মৌসুমে উপরে জমে থাকা বিপুল পরিমানে পানি নামতে না পেরে বন্যার রুপ ধারণ করবে। শুধু তাই নয়, চন্দ্র মহল ইকোপার্কের ভিতরে জমে থাকা বিপুল পরিমানে ময়লা-অবর্জনা খালের মধ্যে ফেলে খালের পানিও চরম ভাবে দুর্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় নাম প্রকাশ না করার সর্ত্তে কৃষকরা বলেছেন,পার্ক কর্তৃপক্ষের ময়লা-অবর্জনা ফেলার কারণে খালের পানি পচাদুর্গন্ধ হয়ে পড়েছে। তারা পূর্বপার্শ্বে এমন ভাবে দখল করে প্রচীর নির্মাণ করেছে যে তা নিজে চোখে না দেখলে বুঝা যাবেনা। তাছাড়া তাদের দখলকৃত অধিকাংশ জমির কোন বৈধ কাগজপত্র নাই। তারা খালের সরকারী জায়গা দখল করে প্রচীর নির্মাণ করেছে, যা তদন্ত করলে থলের বেড়াল বেরিয়ে আসবে। শব্দ ও পরিবেশ দুষণ সম্পের্কে চন্দ্র মহল ইর্কোপার্কের ব্যাবস্থাপক মহব্বত আলী চাকলাদার এর নিকট জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এ ব্যাপারে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আরফিন বাদল এর সাথে আলাপ করা হলে তিনি বলেন,পরিবেশ অধিদপ্তরকে না জানিয়ে সিমানা বাড়ানোর কোন সুযোগ নেই। এবং উচ্চশব্দে ও যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার বিষয়টি জানতে পারলাম, বিষয় গুলি তদন্ত করে কঠোর ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*