Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / শীত সবজিতে স্বস্তি, ব্রয়লার মুরগির দাম উর্ধ্বমূখি

শীত সবজিতে স্বস্তি, ব্রয়লার মুরগির দাম উর্ধ্বমূখি

উৎপাদন খরচ ও খাবারের দাম বৃদ্ধির প্রভাব

মোঃ আশিকুর রহমান
শীতের আগমন ঘটতে না ঘটতেই বাজারে শীতকালীন শাক-সবজির ব্যাপক সরবরাহ শুরু হয়েছে। দৌলতপুরস্থ পাইকারী-খুচরা সবজির বাজারে শীতকালীন সবজির এখন পর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে দাম ক্রেতাদের নাগালে আসতে শুরু করেছে। যে কারণে শীত সবজি ক্রয়ে বেশ স্বস্তিবোধ করছে বাজার আসা ক্রেতারা। এই সকল সবজির তালিকায় রয়েছে ফুলকপি, পাতাকপি, ওলকপি, লাল-সাদা মূলা, মেটে আলু, পালংশাক, দেশী কাঞ্চন শিম, জলপাই, টমেটো, আমড়া, ধনেপাতা ইত্যাদি।
তবে বর্তমানে বাজারে শীত সবজি ক্রেতাদের ক্রয় নাগালে থাকলে বেশ উর্ধ্বগতি সল্প বা ক্রেতা নাগালে পাওয়া সহজলোভ্য আমিষের অন্যতম উৎস ব্রয়লার মুরগীর। বিগত কয়েক মাস আগে পাওয়া ১২০-১৩০ টাকায় ক্রয় করা ব্রয়লার মুরগী এখন ১৫০ হতে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সরেজমিনে নগরীর দৌলতপুরস্থ মুরগীর বাজার ঘুরে দেখা দেখে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকার মধ্যে। আর মাসখানেক আগে ব্রয়লারের কেজি ছিল ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা। বিগত কয়েক মাস আগে পাওয়া ১২০-১৩০ টাকায় ক্রয় করা ব্রয়লার মুরগী এখন ১৫০ হতে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি কক ২২০ টাকা, সোনালিকা ২৫০ টাকা, লেয়ার সাদা ২২০ টাকা, লেয়ার লাল ২৫০ টাকা, ছোট ব্রয়লার মুরগী ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দৌলতপুর মুরগী বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান মের্সাস মুমু এন্টার প্রাইজ, মেসার্স হক হাওলাদার, শেখ এন্টার প্রাইজ, ফাহিমা এন্টার প্রাইজ, গাজী পোল্ট্রি সহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায় ব্রয়লার মুরগীর বাচ্চা সহ খাবারের দাম বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় খামার হতে সংগ্রহ করা মুরগীর ক্রয়ে দর বেশি পড়ছে। যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারের ক্রেতাদের নিকট। মেসার্স মুমু এন্টার প্রাইজের ব্যবসায়ী মুন জানান, আমরা সাধারণ স্থানীয় বাজার বটিয়াঘাটা, শাহ্পুর, ফুলতলা, জামিরা, নওয়াপাড়া, তেরখাদা, দিঘলিয়াসহ স্থানীয় অঞ্চলগুলোর খাবার হতে ব্রয়লার সহ অন্যান্য মুরগী সংগ্রহ করে দৌলতপুর বাজারে এনে বিক্রি করি। তবে ক্রেতারা যেভাবে বলছে মুরগীর দাম উর্ধ্বমুখি কিন্তু বাচ্চা, ডিম, খাবারের দামসহ প্রভৃতি বৃদ্ধির তুলনায় দাম সহনীয় কারণ বর্তমানে একটি ব্রয়লার মুরগীর বাচ্চা উৎপাদন খরচ ৫০ হতে ৬০ টাকার মধ্যে। তাছাড়া আমরা মুকাম হতে যে দামে কিনি খুচরা বাজারে খরচ খরচা বাদ দিয়ে কেজি প্রতি ৭/১০ লাভে বিক্রি করি। মুরগী ক্রেতা ফরহাদ হোসেন জানান, গরুর মাংস সকলের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে না থাকলেও মুরগী ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে। বিশেষ করে ব্রয়লার। তবে বর্তমানে বাজারে ব্রয়লার দাম ক্রমশ উর্ধ্বমূখি হতে শুরু করেছে। যে কারণে সাধারণ মানুষ ব্রয়লার ক্রয়ে বেশ হিমশিম খেতে শুরু করেছে।
কথা হয় মের্সাস সাদিক ট্রেডার্স, পোল্ট্রি এন্ড ফিস ফিডের সত্বাধীকারী মোঃ জিয়াউর রহমান টিপুর সাথে। তিনি জানান, করোনার মধ্যে ছোট খাটো হ্যাচারীর মালিকগণ করোনাকালীন সময়ে প্রচুর ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন। তাদের নিজস্ব পুজি হারিয়ে তার আজ সর্বশান্ত, অনেকে ব্যাংক লোন পরিশোধ করতে না পারায় ঘাড়ে মামলা ঝুলছে।
তিনি আরো জানান, বাজারে যে ব্রয়লার মুরগীর দাম বেশি মনে করা হচ্ছে, আমি মনে করি দাম ঠিকই আছে। কারণ এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রান্তিক কৃষকদের বাচিয়ে রাখতে হবে। বর্তমানে বড় বড় হ্যাচারীর বাচ্চা ও ডিম উৎপাদন কম। পাশাপাশি ব্রয়লারের বাচ্চা উৎপাদন করতে লাগছে ৫০ হতে ৬০ টাকা মধ্যে। ভ্যাকসিন বা মেডিসিন করোনা আগের তুলনায় তুলনায় ২০-৪০% বাড়ছে। একই সাথে ব্রয়লারের মূল খাদ্য ভুট্টাদানা, সয়াবিন, পালিশ, কুড়া, মিডবোন, শামুকের গুড়া, ওষুধ সহ অন্যান্য দ্রবাদির দাম বেশি। এই প্রেক্ষাপটে বাচ্চা, খাবার ও ওষুধের দাম বৃদ্ধির কারণে তৃনমূল কৃষকদের উৎপাদনে ক্ষতির সম্মুখিন হতে হচ্ছে। তাই বাজার নিয়ন্ত্রনে আনতে হলে উৎপাদন খরচ ও খাবারের দাম কমাতে হবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*