Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / খুলনায় ওমিক্রম শনাক্তের ব্যবস্থা নেই

খুলনায় ওমিক্রম শনাক্তের ব্যবস্থা নেই

শ্যাম্পল ঢাকায় প্রেরণ করতে হয়

কামরুল হোসেন মনি
রূপ বদলে ফেলেছে করোনা। কোভিডের নতুন স্ট্রেন ওমিক্রন এখন গোটা বিশ্বেও চিন্তার কারন। ইতিমধ্যেই দেশে ধরা পড়েছে ওমিক্রন। বিশেষজ্ঞদের মতে করোনা সংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধি না মানলে ওমিক্রন আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
গত সপ্তাহ থেকে খুলনা বিভাগে করোনা শনাক্ত বেশ কয়েকটি জেলায় শনাক্ত হচ্ছে। যা গত মাসে শনাক্তের সংখ্যা প্রায়ই শূন্য কোঠায় ছিলো। গত ২৪ ঘন্টায় খুলনা বিভাগে ৬ জেলায় ১০ জন নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মহানগরীতে একজন মহিলা রয়েছে। এর আগে খুলনা জেলায় দুইজন ব্যক্তি করানো শনাক্ত হয়েছে। খুলনা বিভাগে মৃত্যু সংখ্যা শূণ্য থাকলেও নতুন করে করোনার শনাক্ত বেড়েছে। কিন্তু তাঁরা করোনার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত কি না, তা জানার কোনো খুলনায় ব্যবস্থা নেই। এটা জানতে হলে ঢাকায় আইইডিসিআর (রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট) শ্যাম্পল প্রেরণ করতে হয়।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (রোগ নিয়ন্ত্রণ) সহকারি পরিচালক ডাঃ ফেরদৌসী আক্তার বলেন, গত সপ্তাহ থেকে খুলনা বিভাগে করোনা আক্রান্ত সংখ্যা কয়েকটি জেলায় নতুন করে শনাক্ত হচ্ছে। তবে শনাক্তের সংখ্যা তুলনামুলক অনেক কম। বাইরে দেশের থেকে কোন ব্যক্তি খুলনা বিভাগে প্রবেশ করলে তাদের করোনার পজিটিভ হলে তাদের শ্যাম্পল আইইডিসিআর প্রেরণের ব্যবস্থা করা হয়। তাদের করোনার ভ্যারিয়েন্টটা শনাক্তের জানার জন্য।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক ডা: রবিউল হাসান বলেন, ফ্লু কর্ণারে করোনায় একজন পজিটিভ রোগী ভর্তি আছে। তিনি বলেন, করোনা পজিটিভ ব্যক্তিকে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট কি না, তা নির্ণয়ের জন্য আমাদের এখানে সেই মেশিন নেই। সে জন্য আমাকে তার শ্যাম্পল সংগ্রহ করে ঢাকায় প্রেরণ করতে হবে। ওমিক্রন খুলনায় কেউ শনাক্ত হয়েছে কি না এমন তথ্য আমার কাছে নেই।
খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা: মেহেদী নেওয়াজ বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে কেউ ওমিক্রনে আক্রান্ত হননি, এমনটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কেননা কোভিডের ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন শনাক্তের ব্যবস্থা এ অঞ্চলে নেই। ওই জিনোম সিকোয়েন্সিং মেশিন ঢাকায় রয়েছে। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে ওমিক্রন ভেরিয়েন্ট সন্দেহ হলে আমাদেরকে জানালে আমরা তখন শ্যাম্পল পাঠানোর উদ্যোগ নেবো।
খুমেক হাসপাতালের (রেসপিরেটরী মেডিসিন) বিভাগীয় প্রধান সহযোগি অধ্যাপক ডা: খসরুল আলম মল্লিক এ প্রতিবেদক বলেন, করোনার যে ধরনের হোক না কেনো তার ট্রিটমেন্ট সব একই রকম। ওমিক্রন সিমটম এর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাধারণত খুব বেশি একটা জ্বর না। নতুন উপসর্গগুলি হল শরীরে দুর্বলতা অনেকটা বেশি। জিনোম সিকোয়েন্সিং করে ওমিক্রন শনাক্ত করতে হয়। খুলনায় করোনা পজিটিভ ব্যক্ত কাউকে সন্দেহ হলে ওই ব্যক্তির শ্যাম্পল আইইডিসিআর (রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট) পাঠাতে হবে।
খুলনা সিভিল সার্জন ডা: নিয়াজ মোহাম্ম বলেন, ওমিক্রন কেউ আক্রান্ত হয়েছে এমন তথ্য আমার কাছে নেই। যদি কোন করোনা পজিটিভ রোগীকে সন্দেহ হলে তার শ্যাম্পল ঢাকায় প্রেরণ করতে হবে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরএমও ডা: সুহাস রঞ্জন হালদার বলেন, ফারজানা ইয়াসমিন নামে এক মহিলার এনটিজেন এর মাধ্যমে করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। বর্তমানে তাকে ফ্লু কর্ণারে ভর্তি করা হয়েছে। তার শ্যাম্পল আরটিপিসিআর প্রেরণ করা হয়েছে। তার ওমিক্রন হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। যতক্ষুন না পর্যন্ত তার পরীক্ষার না হয়। খুমেক হাসপাতালের সূত্র মতে, এনটিজেন এ পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ হওয়া ওই মহিলা ঢাকা থেকে খুলনায় আসেন। সে নগরীর এজি অফিসের একজন কর্তকর্তা। করোনা পজিটিভ হলে সে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তার রক্ত বমিও হয়েছিলো। এখন আগে থেকে সুস্থ রয়েছে। তবে তার ওমিক্রন হতে পারে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ৬ জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে খুলনায় ১ জন, বাগেরহাটে ১ জন, চুয়াডাঙ্গায় ২ জন, যশোরে ৩ জন, কুষ্টিয়ায় ২ জন এবং সাতক্ষীরায় ১ জন রয়েছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*