Breaking News
Home / জাতীয় সংবাদ / নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও ৫ পৌরসভার ভোট কাল

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও ৫ পৌরসভার ভোট কাল

প্রবাহ রিপোর্ট : নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল রোববার। পাশাপাশি এদিন পাঁচটি পৌরসভারও ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই পাঁচ পৌরসভা হচ্ছে- নোয়াখালী, নাটোরের বাগাতিপাড়া, যশোরের ঝিকরগাছা, চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও স্থগিত থাকা নাটোর পৌরসভা। ২০১১ সালে সিটি করপোরেশন হিসেবে যাত্রা শুরুর পর নারায়ণগঞ্জে এটি হচ্ছে তৃতীয় নির্বাচন। এর আগের দুই নির্বাচনেই মেয়র নির্বাচিত হন সেলিনা হায়াৎ আইভী। এবার তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার। গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে শেষ হয় সব ধরনের প্রচারণা। জমজমাট প্রচারে মেয়র পদে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নানা অভিযোগ ও দাবি করেন। প্রচারণার সময় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটারদের কেন্দ্রে ভোট দিতে যাওয়ার আহ্বান জানান। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী হলেও বাড়তি কোনো সুবিধা পাননি বলে মন্তব্য করেন তিনি। আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির পদ থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত তৈমুর আলম খন্দকার বেশ কয়েকদিন ধরেই তার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি, হয়রানি ও আটকের অভিযোগ করেন। ভোটের দিনের পরিস্থিতির ওপর ‘নজর’ রাখতে মানবাধিকার সংস্থা ও বিদেশি দূতাবাসগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে রোববারের নির্বাচন সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে ৯টি সংস্থার ৪২ পর্যবেক্ষককে অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে কমিশনের নীতিমালা মানার পাশাপাশি রোববার ভোট শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে সংস্থাগুলোকে। সংস্থাগুলো হলো- জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদ (জানিপপ), সার্ক মানবাধিক ফাউন্ডেশন, আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশন, সমাজ উন্নয়ন প্রয়াস, তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা, তালতলা যব উন্নয়ন সংগঠন, রিহাফ ফাউন্ডেশন, বিবি আছিয়া ফাউন্ডেশন এবং মানবাধিক ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা-মওসুস। নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান জানান, ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় নারায়ণগঞ্জ সিটির নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট আইন মেনে নিবন্ধিত ৯টি পর্যবেক্ষক সংস্থার ৪২ জন পর্যবেক্ষককে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পর্যবেক্ষণ নীতিমালা অনুযায়ী- কোন সংস্থা কোন ইউনিটে মোতায়েন করা হবে তা ইসি নির্ধারণ করবে। প্রতিটি সংস্থা প্রতি দলে সর্বোচ্চ ৫ জনের ভ্রাম্যমাণ দল নিয়োগ করতে পারবে। দল নির্ধারিত ইউনিটের সব ভোটকেন্দ্রের প্রতি বুথে স্বল্প সময়ের জন্য অবস্থান ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। ভোটকেন্দ্রের বুথভিত্তিক সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা যাবে না। ভোটকেন্দ্রের ভোট গণনার কক্ষে ও রিটার্নিং অফিসারের দপ্তরে ফলাফল একত্রীকরণের সময় একজন করে পর্যবেক্ষক পাঠাতে পারবে। এর আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আগ্রহী প্রার্থীরা মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ২০ ডিসেম্বর বাছাইয়ের পর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল ২৭ ডিসেম্বর। এ সিটিতে প্রথমবার ৯টি ওয়ার্ডে ইভিএমে এবং বাকিগুলোয় ব্যালট পেপারে ভোট হয়। ২০১৬ সালে সব কেন্দ্রে ব্যালট পেপারে এবং এবার ইভিএমে পুরো সিটিতে ভোট হবে। প্রথমবার নির্দলীয় প্রতীকে ভোট হয় এ সিটিতে। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন চালুর পর এটি দ্বিতীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে রয়েছে একজন মেয়র, ৯ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর এবং ২৭টি ওয়ার্ডে একজন করে কাউন্সিলর পদ। এবার ভোটার সংখ্যা বাড়বে বেশ; পাঁচ বছর আগে ভোটার ছিল চার লাখ ৭৪ হাজার ৯৩১ জন। ভোট নেওয়া হয় ১৭৪ কেন্দ্রের এক হাজার ৩০৪টি কক্ষে। ২০১১ সালের ৫ মে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা, কদম রসুল পৌরসভা ও সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভাকে বিলুপ্ত করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠনের গেজেট প্রকাশ করে সরকার। সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচন হয় ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর। এতে ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত প্রার্থী সাবেক সাংসদ শামীম ওসমানকে এক লাখেরও বেশি ভোটে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন শহর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সেলিনা হায়াৎ আইভী। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী পান এক লাখ ৮০ হাজার ৪৮ ভোট; তার প্রতীক ছিল দোয়াত কলম। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত শামীম ওসমানের দেয়াল ঘড়িতে ভোট পড়েছিল ৭৮৭০৫ ভোট। বিএনপি সমর্থিত তৈমুর আলম খন্দকারের প্রতীক ছিল আনারস; তিনি পান ৭৬১৬ ভোট। এ ছাড়া গরুর গাড়ি প্রতীকে আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী ৬৬১২ ভোট, হাঁস প্রতীকে শরীফ মোহাম্মদ ১৪৯৩ এবং তালা প্রতীকে আতিকুল ইসলাম জীবন ১৮৫৫ ভোট পান। ২০১১ সালের ২৭ নভেম্বর দেশের প্রথম নারী সিটি মেয়র হিসেবে শপথ নেওয়া আইভী ১ ডিসেম্বর দায়িত্ব নেন। ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা হওয়ায় ২০১৬ সালের ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে ভোট করার আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল ইসির। দ্বিতীয় নির্বাচন হয় ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর। দলীয় প্রতীকের এ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খানকে পৌনে ১ লাখ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে মেয়র পদে পুনঃনির্বাচিত হন নৌকা প্রতীকের আইভী। আইভী পান এক লাখ ৭৫ হাজার ৬১১ ভোট। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত পান ৯৬ হাজার ৪৪ ভোট। মেয়র পদে দুই প্রধান প্রার্থীর পর তৃতীয় সর্বোচ্চ ভোট পান হাতপাখা প্রতীকে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি মাছুম বিল্লাহ ১৩ হাজার ৯১৪টি। কোদাল প্রতীকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মাহবুবুর রহমান ইসমাইল পান ৬৭৪ ভোট; মিনার প্রতীকে ইসলামি ঐক্যজোটের মুফতি এজহারুল হক প্রাপ্ত ভোটসংখ্যা ৯১০। ২০১১ সালে ভোটের হার ছিল ৬৯ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা কমে ৬২ দশমিক ৩৩ শতাংশে দাঁড়ায়। টানা দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হয়ে আইভী ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি শপথ নেন। এরপর ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি করপোরেশনের প্রথস সভা হয়। সে অনুযায়ী ২০২২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি মেয়াদ শেষ হবে বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*