Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে লাগাতার আন্দোলন

ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে লাগাতার আন্দোলন

মোঃ আব্বাস উদ্দীন, মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি ঃ যশোর-খুলনার দুঃখ ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে টেকসই প্রকল্প তথা টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবি আদায়ে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে ভুক্তভোগী জনগণ। আন্দোলনের অংশ হিসেবে পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির ডাকে ভবদহ পাড়ের ভুক্তভোগী কয়েক’শ নারী-পুরুষ যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ৫ দিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। গত বৃহস্পতিবার এ অবস্থান কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করে পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমটির নেতৃবৃন্দ ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দেন। তারা আগামী ২৪ জানুয়ারী রাজধানীতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মহাপরিচালকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন। ৬ দফা দাবি হলো প্রস্তাবিত প্রায় ৪৫ কোটি টাকার ‘ভবদহ ও তৎসংলগ্ন বিল এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ’ সেচ প্রকল্প বাতিল, ক্রাস প্রোগ্রামে মাঘী পূর্ণিমার আগেই বিল কপালিয়ায় টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট বা জোঁয়ারাধার) চালু, ভবদহ স্লুইচ গেটের ভাটিতে ৫-৬টি এক্সকাভেটর দিয়ে পাইলট চ্যানেল খনন ও ভবদহের ২১, ৯, ৬ ভেন্টের গেটগুলো ওঠা-নামার ব্যবস্থা করা, জনপদের ফসল, বাড়ি-ঘরসহ অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ, কৃষিঋণ মওকুফ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আমডাঙ্গা খাল সংস্কার কাজে প্রি-ওয়ার্ক ও পোস্ট ওয়ার্ক জনসমক্ষে টাঙিয়ে দেওয়া ও কাজের স্বচ্ছতা নিরূপণে আন্দোলনকারী সংগঠন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে তদারকি কমিটি গঠন করা এবং সরকারকে মিথ্যা তথ্য প্রদান, নদী হত্যা, জনপদের অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশা, ফসল, বসতবাড়ি, জানমালের ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে জড়িত পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ। এ সব দাবিতে আন্দোলনরত সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির যশোরের অবস্থান কর্মসূচি সমাপ্তি বক্তব্যে আগামী ২৪ জানুয়ারি রাজধানীতে পাউবোর মহাপরিচালকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে বলে ঘোষণা দেন এবং সমস্যার সমাধান না হলে যশোরে মহাসড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৬১ সালে যশোর জেলার মণিরমাপুর উপজেলার আড়পাতা, বিল কপালিয়া, অভয়নগর উপজেলার দামুখালি, ভবানিপুর, দত্তগাতি, বারান্দি, চুমড়ডাঙ্গা ও খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার কাটেঙ্গা, চেঁচুড়ি, বরুণাসহ ২৭ বিলের পানি নিস্কাশনে ভবদহ স্লুইস গেট নির্মাণ করা হয়। বর্ষা মৌসুমে ২৭ বিলে বৃষ্টির পানি ভবদহ স্লুইস গেট দিয়ে নিস্কাশিত হয়। ১৯৮৬ সালে স্লুইস গেটে পলি জমে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় ভবদহ অঞ্চলের কুলটিয়া, মশিয়াহাটি,মহিষদিয়া, পোড়াডাঙ্গা, সুজাতপুর, ডুমুরতলা, হাটগাছা, সুন্দলীসহ কয়েক’শ গ্রামের মানুষ অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়ে। এবারের বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ওই এলাকায় দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সেই বর্ষা মৌসুমের পর থেকে আজও ভবদহ অঞ্চল থেকে পানি সরছে না। জলাবদ্ধ দুর্গত এলাকার জনদুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*