Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / নগরীতে খেলতে গিয়ে দেওয়াল চাপায় শিশু নিহত, আহত ২

নগরীতে খেলতে গিয়ে দেওয়াল চাপায় শিশু নিহত, আহত ২

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনায় খেলার সময় বিদ্যুৎ অফিসের দেওয়াল ধসে তামিম (৭) নামে এক শিশু নিহত ও অপর দুই শিশু আহত হয়েছে। শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে বেসরকারি আদদ্বীন আকিজ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত তামিম বয়রার করিম নগর এলাকার মিঠুর ছেলে। শিশু তামিমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমতাজুল হক।
এলাকাবাসী জানায়, শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বয়রার করিমনগর এলাকার মো. মিঠুর ছেলে তামিম এবং একই এলাকার মাসুদ রানার ছেলে ইয়ামিন (১১) ও রাব্বি (৯) বয়রা এলাকার ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) অফিসের পেছনের দেওয়ালের পাশে খেলা করছিল। একপর্যায়ে বিদ্যুৎ অফিসের জরাজীর্ণ দেওয়ালটি তাদের ওপর ধসে পড়ে। এতে তামিম, ইয়ামিন ও রাব্বি আহত হয়। এদের মধ্যে গুরুতর আহত তামিম বিকাল ৪টার দিকে বেসরকারি আদদ্বীন আকিজ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। বাকি দুই শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শিশু ইয়ামিনের বাবা মাসুদ রানা বলেন, ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষকে আমরা জরাজীর্ণ দেওয়াল সংস্কারের জন্য বারবার জানিয়েছি। কিন্তু তারা তাতে কর্ণপাত করেনি।
সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমতাজুল হক বলেন, নগরীর বয়রা এলাকায় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) অফিসের পেছন দিকের দেওয়াল জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। সেই দেওয়াল সংস্কার করার জন্য সম্প্রতি দুই পাশের প্লাস্টার খুলে ফেলা হয়েছে। দেওয়ালটিতে সংস্কার কাজ হচ্ছিল। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ করে প্রায় ১০০ ফুট দেওয়াল ধসে পড়ে। এ সময় দেওয়ালের পাশে খেলাধুলা করা অবস্থায় ৩ শিশু আহত হয়। এদের মধ্যে শিশু তামিম বিকালে চিৎিসাধীন অবস্থায় মারা যায়। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলাকাবাসি জানায়, করিমনগর সুর মোহাম্মাদ গলির শেখ শওকাত হোসেনের ভাড়াটিয়া মিঠু। দু’মেয়ে ও এক সন্তান নিয়ে মিঠুর পরিবার। পাঁচ বছরের অধিক সময় সেখানে তাদের বসবাস। তিন সন্তানের মধ্যে তামিম সবার ছোট। সে করিমনগর ফোরকানিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল।
‘তামিমের বাবা মিঠু বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলনা আর্ট কলেজের পাশে। সেখানে কিছুক্ষণ থাকার পর খবর আসে তামিমসহ আরও দু’জন দেয়াল চাপায় আহত হয়েছে। সংবাদ পেয়ে ছুটে আসি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে ওর অবস্থা খারাপ হতে থাকলে তখন সোনাডাঙ্গাস্থ হেলথ কেয়ারে নেওয়ার জন্য রওনা হই। কিন্তু পথিমধ্যে আমারা বাবা আমাকে ছেড়ে চলে যায়।’
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওজোপাডিকো’র দেয়াল জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। একাধিকবার বলা সত্ত্বেও কোন কর্ণপাত করেনি তারা। অবশেষে এলাকার মানুষ একত্রিত হয়ে ২২ মার্চ লিখিত আবেদন করলে তারা কাজ শুরু করে। কিন্তু গলির মানুষের চলতি পথের রাস্তায় কোন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেনি তারা। সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় শ্রমিকদের বলা হয় যে এখানে পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। তারা সেটিও করেনি। এরআগে দেয়াল লাগোয়া নারকেল গাছ থেকে নারকেল পড়ে তামিমের মায়ের মাথা জখম হয়। সেটিও তাদের জানানো হয়। তখনও তারা কোন পদক্ষেপ নেয়নি। পদক্ষেপ নিলে আজ আমার তামিমের মৃত্যু হত না। আমার বুকের ধন হরিয়ে গেছে, আমি আর তাকে কোন দিনও ফিরে পাবনা। এই বলে অঝরে কাঁদতে থাকেন তামিমের বাবা।
তামিমের মা সেলিনা বেগম। সন্তান হারিয়ে পাগলের মতো প্রলাপ বকছে। যাকে দেখছে তাকে বলছে আমার তামিককে এনে দেও। কিন্তু তামিমকে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই। তামিমের মায়ের আর্তনাদ ও চোখের পানি দেখে ওই করিমনগরের সুর মোহাম্মাদ গলির কেউ চোখে পানি ধরে রাখতে পারেনি। ছেলেটির অকাল মৃত্যুর ঘটনাকে কেউ মেনে নিতে পারছেনা।
এদিকে তমিমের মৃত্যুর ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধান প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রধান করে ৫ সদস্যের ঐ কমিটিকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট ওজোপাডিকো’র ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নিকট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*