Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / খুলনার সড়কে শৃঙ্খলা ফিরছে না

খুলনার সড়কে শৃঙ্খলা ফিরছে না

অনুমোদনহীন যানবহনের ছড়াছড়ি

মোঃ আশিকুর রহমান ঃ খুলনা ব্যস্ততম সড়কে মোটরচালিত রিক্সা চলাচলের নিষেধাজ্ঞা, অনুমোদনহীন বা লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইকের ধরপাকড়, বৈধ ইজিবাইকের রুট নির্ধারণসহ একের পর এক পরিকল্পনা হাতে নিলেও কার্যত শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে শৃঙ্খলা ফিরছে না বলে একাধীক অভিযোগ রয়েছে, সড়কে সড়কে ভোগান্তি বেড়েই চলেছে, মিলছেনা পরিত্রান। অপরদিকে ২৫ জুন পদ্মা সেতু চালু হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যানজন বাড়ার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞমহল। এখনই অপরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণহীন ও অনুমোদনহীন যানবাহন কঠোরহাতে নিয়ন্ত্রণের দাবি উঠেছে।
শহরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বছরব্যাপী রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, বিভিন্ন স্থাপনা অপসারণসহ বহুবিধ কারণে সংকীর্ণ হচ্ছে সড়ক, একই সাথে অফিস-আদালতে ছুটির দিন ব্যতীত খুলনা সড়কে চলাচলে ভোগান্তির শেষ, গরমের এই মৌসুমে সড়কে চলাচলরত ভারী, মাঝারী ও ক্ষুদ্র যানবহন তথা মাহেন্দ্র, সিএনজি, ইজিবাইক, ইঞ্জিনের রিক্সা-ভ্যান, যাত্রী ওঠা নামার প্রতিযোগীতা, অনুমোদনহীন পার্কিং এর কারণে দীর্ঘ যানজটে পড়ে কাহিল পথচারীসহ যাত্রী সাধারণ। খুলনা গুরুত্বপূর্ন সড়কে সড়কে চলাচলে ভোগান্তি নগরবাসীর নিত্যদিনের সঙ্গী। ঢাকা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল বা খুলনায় ঢুকতে বড় বড় নদী প্রধান অন্তরায় বলে মনে করেন অনেকে। ফেরি বা লঞ্চ পারাপার না থাকলে সোজা সেতু হয়ে এ অঞ্চলে যখন দেশের বিভিন্ন স্থানের বিভিন্ন ধরণের গাড়ী প্রবেশ করবে তখন আরও যানজট বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞমহল। এখন যে যানজট তার অন্যতম কারণ শুধুমাত্র অনুমোদনহীন বহিরাগত ইজিবাইক, মাহেন্দ্রা, অতুল ও ব্যাটারিচালিত রিক্সা। ব্যাটারিচালিত রিক্সা অপসারণে কেসিসি ও প্রশাসন কঠোর হস্তক্ষেপ গ্রহণ করলেও তারা বহুবার আন্দোলন করে তাদের বাহন ঠিকই চালু রেখেছে। এভাবে চলতে থাকলে খুলনা একটি অপরিকল্পিত যানবহানের শহর হিসাবে খেতাব পাবে বলে মানুষের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে। তখন এই সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর ডাকবাংলা, শিববাড়ী, পাওয়ার হাউজ, ফেরিঘাট, পাওয়ার হাউজ, শান্তিধাম, ময়লাপোতা মোড়, গল্লামারী, সোনাডাঙ্গা, জিরোপয়েন্ট, শামসুর রহমান রোড, কমার্স কলেজ মোড়, সাউথ সেন্ট্রাল রোড, সিমেট্টি রোড, স্যার ইকবাল রোড, পিটিআই মোড়, টুটপাড়া কবরখানা মোড়, সাতরাস্তা মোড়, ফুলমার্কেট, ক্লে রোড, কদমতলা স্টেশন রোড, কালীবাড়ি রোড ও খুলনা-যশোর মহাসড়ক সহ নগরীর ব্যস্ততম সড়কে কর্মব্যস্ত মানুষের পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। অফিস, স্কুল-কলেজে প্রবেশ ও সারাদিনের কর্ম শেষে যানজটে ক্ষুব্ধ হচ্ছেন কর্মজীবী, শিক্ষার্থী সহ অভিভাবকরা।
জানা গেছে, ২০১০ সালের শেষের দিকে খুলনা মহানগরীতে নগরবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে যাত্রা শুরু করে ইজিবাইক নামক বাহনটি। কিন্তু এক যুগের পর সেই দিনের সেই পরিবেশ বান্ধব আর শব্দহীন স্বল্প বাহনটি অপরিমিত বৃদ্ধির কারণে আজ নগরবাসীর চলাচলে বিঘœ, প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দূর্ঘটনা, যানজটের সংকট সৃষ্টি সহ চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
কেসিসি’র লাইসেন্স শাখা সূত্রে জানা যায়, খুলনায় প্রায় ৭ হাজার ৮৯৬ টি ইজিবাইকের লাইসেন্স রয়েছে। তবে কেসিসি নথিভূক্ত লাইসেন্স ছাড়াও শহরের মূল সড়ক সহ শহরের মধ্যে কয়েক হাজার ইজিবাইক অবাদে দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সচেতন নাগরিক সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন উঠেছে? কেসিসি নির্দিষ্ট লাইসেন্স প্রদানকৃত লাইসেন্স ছাড়া শহর জুড়ে কিভাবে এই অনুমোদিত ইজিবাইক বুক ফুলিয়ে অবাধে চলাচল করছে শহর জুড়ে? এর নেপথ্যে কারা?

খুলনা পাওয়ার হাউজ মোড়ে তপ্ত গরমে যানজটে আটকে পরা সাবিহা জানান, একাধীক যাত্রী ও চলাচলকারী ব্যক্তিবর্গ অভিযোগ করেন বলেন, খুলনা মহানগরীর যানজট এখন নিত্যদিনের ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে নগরবাসী যানজটের দুর্ভোগে অতিষ্ঠ হলেও মিলছেনা কোনো স্থায়ী সমাধান। যানজটের কারণে কর্মস্থলমুখী অনেকেই এখন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ব্যস্ততম সড়ক এড়িয়ে বিকল্প সড়কে চলাচলা করেছেন। তাতেও সুফল মিলছে না; এখন অলিগলিতেও সর্বদাই জোট বাঁধছে যানবাহনের।

পথচারী ইকবাল হোসেন জানান, জিরোপয়েন্ট গল্লামারি প্রচুর পরিমানে ইজিবাইকের যানজট। যানজটে ভোগান্তির শেষ নেই। সেই সাথে ধুলাও। অস্থির গরমে তীব্র যানজটে পড়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

নাগরিক নেতা শাহিন জামাল পন জানান, বর্তমানে যানবহনের সংখ্যা ব্যাপক আকারে বেড়ে গেছে। সড়কে চলাচলরত ভারী, মাঝারী ও ক্ষুদ্র যানবহন তথা মাহেন্দ্র, সিএনজি, ইজিবাইক, ইজ্ঞিনের রিক্সা-ভ্যান, দূরপাল্লার বাসগুলোর যাত্রী ওঠা নামার প্রতিযোগীতা, অনুমোদিত পার্কিং, অদক্ষ ড্রাইভারদের ইজিবাইক চালনাতে যানজট সৃষ্টি হচেছ। পাশাপাশি ট্রাফিক বিভাগের মনিটরিংয়ের অভাব রয়েছে। খুলনার যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্ব পালন করা উচিত।

কেএমপি’র ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ তাজুল ইসলাম জানান, অনিয়ন্ত্রিত ইজিবাইকের কারণে যানজট নিয়ন্ত্রণে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। কেসিসি’র প্রদত্ত একই মালিকের লাইসেন্স ব্যবহার করে একের অধিক ইজিবাইক চলছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কেসিসি পক্ষ হতে ট্রাফিক বিভাগ সার্বিক সহয়তা করতে হবে। তিনি আরো জানান, ট্রাফিক বিভাগ যানজট নিরসনে কাজ করছে তবে। খুলনা শহরের ৬৪০ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার সড়কে অপরিকল্পিত ও মাত্রাতিরিক্ত যানবাহনের নিয়ন্ত্রনের কেএমপি’র ট্রাফিক বিভাগে কিছু জনবল সংকটও রয়েছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*