Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / খুলনায় ত্রিমুখী সংঘর্ষে বিএনপি নেতা বকুলসহ ৮ শতাধিক নেতাকর্মীর নামে মামলা

খুলনায় ত্রিমুখী সংঘর্ষে বিএনপি নেতা বকুলসহ ৮ শতাধিক নেতাকর্মীর নামে মামলা

তুহিনসহ ৪১ জন গ্রেফতার : বিএনপি ও ছাত্রলীগের প্রেস ব্রিফিং

স্টাফ রিপোর্টারঃ বিএনপি, ছাত্রলীগ ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির ৮ শতাধিক নেতাকর্মীর নামে খুলনা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃস্পতিবার রাতে খুলনা সদর থানার এসআই বিশ্বজিৎ কুমার বোস বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার বিকাল অনুমান ৩টার সময় খুলনা থানাধীন ৬ নং কে ডি ঘোষ রোডস্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি চলছিল। অপর দিকে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল বিকেল ৪টার দিকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি চলছিল। সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ডাক বাংলো মোড় থেকে ঘুরে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ে আসার সময় বিক্ষোভ মিছিলটি নগরীর পিকচার প্যালেস মোড় ক্রস করার সময় খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা ইট পাটকেলসহ খুলনা জেলা ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের উপর হামলা চালায়। সে সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা বিএনপির নেতাকর্মীদের নিভৃত করার চেষ্টা করলে বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় পিকচার প্যালেস মোড় থেকে বিএনপি অফিস পর্যন্ত ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিআর সেল নিক্ষেপ এবং রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের ছোড়া ইট পাটকেলের আঘাতে ১৪ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ খুলনা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন, যুগ্ম আহবায়ক সৈয়দা রেহানা ঈসা, নগর মহিলা দলের সভাপতি আজিজা খানম এলিজা, ছাত্র নেতা আবু সালেহ শিমুলসহ ৪১ জন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় ৮ শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীকে আসামী করে খুলনা সদর থানায় একটি মামলা হয়। মামলা নং-৩১। শুক্রবার বিকেলে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। শুনানী শেষে গ্রেফতারকৃত নারী নেত্রীদের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।
এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পারভেজ হাওলাদার প্রেস ব্রিফিংয়ে অভিযোগ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের অশালীন মন্তব্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশের শিক্ষাঙ্গনের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রতিবাদে খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্রলীগের পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেল ৪টায় দলীয় কার্যালয়ে সমাবেশের মাধ্যমে বিক্ষোভ মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি দলীয় কার্যালয় হতে শুরু হয়ে পিকচার প্যালেস মোড়, ডাকবাংলা, ফেরীঘাট মোড় হয়ে দলীয় কার্যালয়ে ফেরত আসার সময়ে মিছিলটি পিকচার প্যালেস মোড়ে পৌঁছালে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পিছন থেকে বিএনপি, যুব ও ছাত্রদল অতর্কিত হামলা চালায়। মিছিলটিতে গুলিবর্ষণ, বোমা ও ককটেল এবং ইট পাটকেল নিক্ষেপ এবং আশেপাশের বিভিন্ন বিল্ডিংয়ের ছাদ হতে ইট পাটকেল ও গুলতি দিয়ে কাচের গুলি নিক্ষেপ করে। হাতে দেশীয় অস্ত্রসহ নগরীর কেডি ঘোষ রোড, পিকচার প্যালেস মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে তান্ডব চালায়। বিএনপি, ছাত্র ও যুবদলের হামলায় ছাত্রলীগের শতাধিক নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা জেনারেল হাসপাতালসহ নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ও ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের হামলায় মহানগর ও জেলা ছাত্রলীগের আবির হোসেন হৃদয়, রেজওয়ান হোসেন ইমন, তানভির রহমান আকাশ, কাজী নজিবসহ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়।
হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তাৎক্ষণিক দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে মহানগর ও জেলা ছাত্রলীগ। সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ এ ন্যাক্কারজনক হামলায় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা আ’লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ হারুনুর রশীদ, নগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা, জেলা সাধারণ সম্পাদক এড. সুজিত কুমার অধিকারী প্রমুখ।
অন্যদিকে খুলনা মহানগর বিএনপির আহবায়ক শফিকুল আলম মনা অভিযোগ করেছেন, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ পুলিশের সহায়তায় আমাদের সমাবেশের ওপর আক্রমণ চালায়। পুালিশ টিয়ারসেল ও গুলি করে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। তিনি শুক্রবার সকালে দলীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে আগেরদিন সংঘর্ষ হামলা ভাংচুর ও সমাবেশ পন্ড হওয়া নিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন।
সেখানে তিনি বলেন, কেএমপি দপ্তর থেকে অনুমতি নিয়ে সমাবেশ শুরু করা হয়। সরকার শেষ মুহুর্তে এসে অসহিষ্ণু আচরণ করছে। আমাদের ওপর বিভিন্ন দমননীতি চালাচ্ছে। এমনকি এ ঘটনায় যারা আহত হয়েছে তাদের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে আটক করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবারের ঘটনায় ৫০০ চেয়ার ভাংচুর করা হয়েছে। ৪১ জন নেতাকর্মীকে আহত করা হয়েছে। আমাদের ওপর হামলা করে আমাদের নামে মামলা করেছে পুলিশ। আদালত খুললে তারা আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক আমীর এজাজ খান, নগর যুগ্ম আহবায়ক তরিকুল ইসলাম জহির ও জেলা সদস্যে সচিব মনিরুল ইসলাম বাপ্পিসহ নেতৃবৃন্দ।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*