Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / নগরীতে বিএনপি ও অঙ্গ দলের সব শীর্ষ নেতাসহ আসামি ৮ শতাধিক

নগরীতে বিএনপি ও অঙ্গ দলের সব শীর্ষ নেতাসহ আসামি ৮ শতাধিক

ছাত্রলীগ-বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের মামলা
২৯ নেতা-কর্মীকে কারাগারে প্রেরণ, ১২ নারী নেত্রীর জামিন

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের ৯২ নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা সাত-আটশ’ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে খুলনা সদর থানার এসআই বিশ্বজিৎ কুমার বোস বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় নগর বিএনপির আহবায়ক এ্যাড. শফিকুল আলম মনা, খুলনা-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত সাবেক এমপি প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল ও জেলা বিএনপির আহবায়ক আমির এজাজ খানসহ সকল শীর্ষ নেতাদেরও আসামি করা হয়েছে।
এদিকে, এজাহারভূক্ত আসামীদের মধ্যে ৪১জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে শুক্রবার আদালতে তোলা হয়। সেখানে ১২জন নারী নেত্রীর জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। বাকি ২৯জনকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এছাড়া বিএনপি নেতা মনা, এজাজ ও বকুলসহ অন্যদের পলাতক দেখানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ২০ টুকরা ইট, ১২টি কাঠের আছাড়ি ও ৫টি লোহার রড জব্দ দেখানো হয়েছে।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলায় বিএনপি নেতা শফিকুল আলম তুহিনকে প্রধান আসামি করে ৯২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো সাত-আটশ’ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারভুক্তরা হলেন- নগর বিএনপির আহবায়ক এ্যাড. শফিকুল আলম মনা, জেলা বিএনপির আহবায়ক আমির এজাজ খান, খুলনা-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত সাবেক এমপি প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল, নগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক তরিকুল ইসলাম জহির, নগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন, নগর বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক সৈয়দা রেহেনা আক্তার, নগর বিএনপির যুগ্ম-আহবায়খ স ম আবদুর রহমান, নগর বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক কাজী মাহামুদ আলী, নগর বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক শেখ সাদী, নগর বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ, নগর যুবদলের সভাপতি মাহাবুব হাসান পিয়ারু, নগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা চৌধুরী সাগর, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইবাদুল হক রুবায়েত, নগর ছাত্রদলের আহবায়ক মোঃ ইসতিয়াক আহম্মেদ ইস্তি, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোত্তফা তুহিন, নগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোঃ তাজিম বিশ্বাস, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল মান্নান মিস্ত্রী, নগর বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ মাসুদ পারভেজ বাবু, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা হেলাল আহম্মেদ সুমন, নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি একরামুল হক হেলাল, নগর বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক আজিজুল হাসান দুলু, রূপসার জোয়ার এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে মোঃ রনি শেখ, দিঘলিয়ার উত্তর চন্দ্র্রনীমহলের মোঃ আলতাফ হোসেনের ছেলে মোঃ হাফিজুর রহমান, দিঘলিয়ার পানিগাতির গ্রামের মৃত আব্দুল রউফের ছেলে মোঃ মালেক খা, নগরীর ডাকবাংলো এলাকার কায়েম উদ্দিনের ছেলে মোঃ আবু জাফর, বটিয়াঘাটার আমীরপুরের মৃত আব্দুল ওহাব মোল্লার ছেলে মোঃ আসাদ মোল্লা, দৌলতপুরের দেয়ানার শেখ মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে শেখ খালিদ বিন ওয়ালিদ শোভন, বটিয়াঘাটার বড়কড়িয়া গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম, যশোরের কেশবপুরের ভেরচি গ্রামের শেখ আলী মোস্তফার ছেলে শেখ মোঃ রুবেল হোসেন, ডুমুরিয়া হুলাডাঙ্গা গ্রামের সাজ্জাত শেখের ছেলে মেঃ তিতাস শেখ, ডুমুরিয়ার থুকড়া গ্রামের মৃত জনাব আলীর ছেলে উপজেলা বিএনপির সদস্য্য সচিব শেখ সরোয়ার হোসেন, পাইকগাছার নোয়াকাটি গ্রামের শফিকুল ফকিরের ছেলে মোঃ রেজাউল ইসলাম, ডুমুরিয়া রুদাঘরা গ্রামের মোজাহার আলী সরদারের ছেলে আলী আজগর সরদার, খালিশপুর লাল হাসপাতাল এলাকার মৃত রফিউদ্দিন মোল্লার ছেলে মোঃ উজ্জল মোল্লা, ফুলতলার খানজাহানপুর গ্রামের আজিজ বিশ^াসের ছেলে ইমরান বিশ্বাস, বেজেরডাঙ্গা এলাকার আলী হাফিজ মোল্লার ছেলে মোঃ শহিদুল ইসলাম, দিঘলিয়ার ফরমেজ খামার এলাকার মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে রহিউল ইসলাম, ডুমুরিয়ার চুকনগরের মৃত নাজিম সরদারের ছেলে নয়ন সরদার, বটিয়াঘাটার আমিরপুর এলাকার আব্দুর রহমান আকুঞ্জির ছেলে মোঃ বোরহান আলী আকুঞ্জি, চুকনগরের রুস্তুম এলাকার মৃত হাশেম আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম, খালিশপুরের ৮০নং এনআই হাউজিং স্টেটের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আবু সালেহ শিমুল, লবণচরা বান্দা বাজারের শাহ আলীর ছেলে মোঃ দুলাল, ডুমুরিয়ার রানাই গ্রামের মোঃ এবাদ আলী ফকিরের ছেলে মোঃ লিটন ফকির, নগরীর ছোট বয়রা এলাকার আমীর মীরের ছেলে সুমন মীর, রূপসার আইচগাতীর মৃত ইউনুস আলীর ছেলে মোল্লা তরিকুল ইসলাম, নগরীর ২০ বকশীপাড়া লেনের রফিকুল ইসলামের ছেলে সাজ্জাত হোসেন জিতু, ৬৬নং পশ্চিম বানিয়াখামার মেইন রোডের আর বিশ^াসের ছেলে নুর আলম নুরু, লবনচরা আমতলা এলাকার মোবারক খানের ছেলে মোঃ সোবহান খান, বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের আমুরবুনিয়া শুলিশাখালী এলাকার বারেক শিকদারের ছেলে মোঃ কদর শিকদার, নগরীর হাজীবাড়ীর আরিফুর হকের স্ত্রী কাওসারী জাহান মঞ্জু, খালিশপুরের শারমিন আক্তার, সোনাডাঙ্গার মরিয়ম খাতুন মুন্নি, খালিশপুরের ইভা জামান, বয়রা রায়েরমহলের সোহেলের স্ত্রী মনি, দৌলতপুরের রুকাইয়া দোলা, সোনাডাঙ্গার রুবিনা, আড়ংঘাটার কাজলী, বৈকালী এলাকার মৃত মোশারফ হোসেনের স্ত্রী সাবেক কাউন্সিলর আনজিরা খাতুন, খালিশপুরের পাপিয়া আক্তার পারুল, খালিশপুর চরের আফরোজা জামান, রূপসার নূরুল ইসলামের ছেলে মোঃ রাজু আহম্মেদ, মিয়াপাড়ার আবুল মোমিন বেনু খানের ছেলে মোঃ মাসুদ খান বাদল ওরফে বোমারু হাল, ২৫নং রূপসা স্ট্যান্ড রোডের মোঃ মতিউর রহমান বুলেট, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পি, , হাজী মহসিন রোডের আশিকুর রহমান অনি, ইসলামিয়া মসজিদ রোডের কিমিয়া সাদাত, সোনাডাঙ্গা খা বাড়ী মোড়ের মাহমুদ নিবিড়, রূপসার রামনগর এলাকারমৃত রাফি মোল্লার ছেলে রিয়াজ মোল্লা, আলীর ক্লাবের মোড়ের মাসকুর হাসান ফ্রান্স, রূপসা রামনগর এলাকার আব্দুল হকের ছেলে মেহেদী হাসান, ডুমুরিয়া চুকনগরের নজরুল ইসলাম গাজীর ছেলে মোঃ অনিক আহম্মেদ, চারাবাটি বিমান অফিস এলাকার রবিউল ইসলাম রবি, টুটপাড়ার তৌহিদুর রহমান তৌহিদ, রূপসা স্ট্যান্ড রোডের মোঃ শাওন, রূপসার সেনেরবাজার আইচগাতির আলকাস মোল্যার ছেলে মোঃ জাহিদ মোল্যা, মন্টু মোল্য্যার ছেলে বাচ্চু মোল্যা, স্টেশন রোডের বাসিন্দা শ্রমিকদল নেতা মোঃ শফিকুল ইসলাম শফি, নতুন বাজার বাশঁপট্টির মফিজুল সরদার মাফিজুল, জেলা বিএনপির জাফরিন নেওয়াজ চন্দন, মুন্সিপাড়ার হেলাল হোসেন গাজী, বেলাল হোসেন গাজী, রেলওয়ে হাসপাতাল রোডের মোঃ ফরিদ মোল্যা, নগর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মজিবুর রহমান (৫৫), সোনাডাঙ্গার মোঃ ফারুক হোসেন, দৌলতপুরের নাইম, ৫নং মাছঘাটের গাউসুল গাউস, রূপসার রাজাপুরের সোহেল, ৪৩নং বয়রা মার্কেট রোডের মোঃ সজ্জাদ আহসান পরাগ, মিনারা মসজিদ রোডের একরামুল কবির মিল্টন, বসুপাড়ার ডালিম গাজী, পশ্চিমবানিয়াখামারের মনিরুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম টিপুসহ অজ্ঞাত ৭শ’ থেকে ৮শ’ জন।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৬মে) বিকাল অনুমান ৩টার সময় খুলনা থানাধীন ৬ নম্বর কে ডি ঘোষ রোডস্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি চলছিল। অপর দিকে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল বিকেল ৪টার দিকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি চলছিল। সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ডাক বাংলো মোড় থেকে ঘুরে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ে আসার সময় বিক্ষোভ মিছিলটি নগরীর পিকচার প্যালেস মোড় ক্রস করার সময় খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা ইট পাটকেলসহ খুলনা জেলা ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিলের উপর হামলা চালায়। সে সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা বিএনপির নেতাকর্মীদের নিভৃত করার চেষ্টা করলে বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এসময় পিকচার প্যালেস মোড় থেকে বিএনপি অফিস পর্যন্ত ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে। এসময় সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ এবং রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
খুলনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান আল মামুন বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের ছোড়া ইট পাটকেলের আঘাতে ১৪ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ খুলনা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিনসহ ৪১ জন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরকে গ্রেপ্তার করে। পলাতক আসামীদেরও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অপরদিকে, শুক্রবার বিকালে গ্রেফতারকৃত বিএনপির ৪১ নেতাকর্মীকে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) মো. আল আমিনের আদালতে হাজির করা হলে মহানগর মহিলা দলের যুগ্ম আহবায়ক সৈয়দা রেহেনা ঈসা, সাবেক কাউন্সিলর আনজিরা খাতুন, কাওসারী জাহান মঞ্জু ও মুন্নীজামান ১২জন নারী নেত্রীকে জামিন দেওয়া হয়। বাকি ২৯জনকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*