Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / শরণখোলায় ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ২১ দোকান, ক্ষতি ৩ কোটি টাকার

শরণখোলায় ভয়াবহ আগুনে পুড়ল ২১ দোকান, ক্ষতি ৩ কোটি টাকার

শরণখোলা প্রতিনিধি ঃ
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের রাজাপুর বাজারে ভয়াভহ আগুনে ২১টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে ওই বাজারটিতে এই অগ্নিকান্ডে ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জের দুটি ইউনিট প্রায় তিন ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়। আগুনে তিন কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন।
ঘটনার পর পরই বগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন, শরণখোলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন শান্ত ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নূর-ই আলম সিদ্দিকী ঘনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে এমপি মিলন তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে তাৎক্ষনিকভাবে ৫০হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সরকারিভাবে সহায়তারও আশ্বাস দেন।
ধানসাগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়রম্যান ও বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মইনুল ইসলাম টিপু এবং বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির তালুকদার জানান, শরণখোলার ইতিহাসে এতোবড় অগ্নিকান্ডের ঘটনা আর ঘটেনি। ধানসাগর ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় বাজার এটি। এই বাজারে দুই শতাধিক বিভিন্ন দোকানপাট রয়েছে। আগুনে ২১টি দোকান নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। সময় মতো আগুন নিয়ন্ত্রন করা না গেলে পুরো বাজার ধ্বংস হয়ে যেতো। আগুনে তিন থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন এবং দ্রুত সহযোগীতা প্রদানের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তারা।
শরণখোলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামসুর রহমান জানান, বাজারের একটি ইলেকট্রনিক্সের দোকান থেকে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সুত্রপাত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রায় তিন ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হয়েছে। তাদের প্রচেষ্টায় বাজারটি রক্ষা পেয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বাগেরহাটের উপসহকারি পরিচালক গোলাম সরোয়ার জানান, তার নেতৃত্বে মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলার দুটি ইউনিটের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রনে কাজ করেছে। এছাড়া বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় শত শত মানুষ তাদের সহযোগীতা করেছে। আগুনে ২১টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নিরুপনে তাদের কাজ চলমান রয়েছে।
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নূর-ই আলম সিদ্দিকী বলেন, উপজেলা পরিষদ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে পাঁচ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে সরকারি সহায়তা পান সেব্যাপারে চেষ্টা করা হবে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*