Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / খুলনায় রিয়েল সমিতির মূলহোতা ধোয়াশায়, হতাশায় ভূক্তভোগীরা

খুলনায় রিয়েল সমিতির মূলহোতা ধোয়াশায়, হতাশায় ভূক্তভোগীরা

স্টাফ রিপোর্টার ঃ সালমান চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্র ছিল। পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে লেখাপড়া করতে পারিনি। তাই নিজের অজান্তে আর পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে ঘরের বাইরে পা রাখতে হয়েছে। যেহেতু লেখাপড়া বন্ধ তাই ভবিষ্যৎ হতে এমন একটি কাজ খুঁজতে হবে তাকে? সালমান অবশেষে মটর গ্যারেজে একটা কাজ নেয়। বছর ঘুরতে না ঘুরতে হাতে বেশ কারিশমা খুলে যায়। জব্দ করে নেয় কাজ টাকে। আজ ছোট্ট এই ছেলেটি মটরসাইকেলের সমস্যা দেখা দিলে তার সমাধান করতে সক্ষম। এক কথায় বলা যায়, পুরাদমে আত্মনির্ভর না হলেও বেশ স্বাবলম্বী। ডাইনে কিছু টাকা রাখা যায় কিনা, তার পরামর্শ গ্যারেজ মালিক ইমরানে সাথে।
এমই সময়ে গ্যারেজে পা রাখলো সম্প্রতি সময়ে খুলনার আলোচিত সমিতি রিয়েল সমিতির একজন কর্মকর্তা। তিনি গ্যারেজ মালিক ইমরানসহ দু’ কর্মচারীকে বুঝালেন দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক, ডিপিএস, এফডিআরসহ বিভিন্ন পলিসিতে টাকা রেখে বছর শেষে লাভ সহ আসল টাকা ফেরৎ পাওয়া যাবে। আর আদায় প্রতিদিন গায়ে লাগবেনা। এভাবে এক সময় ইমরানসহ উক্ত কর্মচারীরা তিনটি একাউন্ট খোলেন। বছর শেষ এবার টাকা উত্তোলনে জন্য অফিসে যান তারা, দেখে অফিস তালা মারা। পরে জানতে পারে ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবি, বিভিন্ন পেশাজীবি ও বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষের ৩০ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে রিয়েল সঞ্চয় ও ঋণদান কো-অপারেটিভ সোসাইটি নামের আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি।
এ ঘটনায় গত ৭ মে প্রতারণার শিকার মোঃ খালিদ হোসেন খান বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ সর্বমোট ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন (নং০২)। পুলিশ এ ঘটনায় এজাহার নামীয় আসামী ইসতিয়াক রাব্বি শোভন, মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেছে। আসামী রাব্বির স্বীকারোক্তীতে পরবর্তীতে পুলিশ অপর এজাহার নামীয় আসামী মোঃ হিরাকেও গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে।
খুলনার বিভিন্ন এলাকার একাধীক ভূক্তভোগীরা জানিয়েছেন, প্রশাসন আমাদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না, তারা আমাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলানো টাকা আদায়ে মোটেও গুরুত্ব দিচ্ছে না। তার এতদিন হয়ে গেল দু’ তিনটা চুনোপুটিকে আটক করেছে, এখনো মূল আসামী শিপলু ও তার ভাইকে গ্রেফতার করতে পারিনি। অচিরেই শিপলু সহ তার ভাইকে গ্রেফতার করে আমাদের পাওনা আদায়ে সহয়তা করার অনুরোধ জানাচ্ছি প্রশাসনের নিকট।
জানা গেছে, রিয়েল সঞ্চয় ও ঋণদান কো-অপারেটিভ সোসাইটি নামের আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি নগরীর ডাকবাংলা, শিববাড়ী, ফেরীঘাট, নিউমার্কেট, জোড়াগেট, ৪, ৫ ও ৭নং ঘাট এলাকা, ময়লাপোতা, সাতরাস্তার মোড়, গল্লামারী, নিরালা, জিরোপয়েন্ট, সোনাডাঙ্গা, খালিশপুর, দৌলতপুর, রেলিগেট, মানিকতলা, ফুলবাড়ীগেট, শিরোমনি, ফুলতলাসহ নগরী ও নগরীর বাইরে এলাকা হতে ঋণ আদায় কর্মী নিয়োগ করে নির্দিষ্ট মেয়াদে জমাকৃত অর্থ ফেরত সহ লভ্যাংশ প্রদানের নিমিত্তে নিক, সাপ্তাহিক, মাসিক, ডিপিএস, এফডিআর সহ বিভিন্ন পলিসিতে টাকা আদায় করতো।
ব্যবসায়ী শহিদুল জানান, সমিতি কার্যক্রম ভালো ছিল। আমি যে কয়বার টাকা রেখেছি, সেই কয়বার টাকা ফেরৎ দিয়ে দিয়েছে। এবার এতো মানুষের টাকা নিয়ে পালিয়ে যাবে বুঝতে পারিনি। আমারও বড়সড় কিছু টাকা আছে। খুবই কষ্টে আছি। তারা।

মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বিপ্লব জানান, রিয়েল সঞ্চয় ও ঋণদান কো-অপারেটিভ সোসাইটি নামের আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির ৫ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একজন ভিকটিম বাদী হয়েছে সংশ্লিষ্ট থানায় নিজের ২৫ লক্ষ সহ সর্বপরি ৩০ কোটি টাকার অর্থআত্মসাৎদের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন । ইতিমধ্যে এ ঘটনার সাথে জড়িত দুই এজাহারনামীয় আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামঃী রাব্বির জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিজ্ঞ আদালতে আবেদন করার পরিপ্রক্ষিতে আদালত তা মজ্ঞুর করলে রাব্বির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার এজাহার নামীয় অপর আসামী মোঃ হিরাকে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে আদালতে সোপার্দ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তনাধীন এবং বাকি আসামীদের গ্রেফতারের ব্যাপারে জোরদার প্রচেষ্টা অব্যহত আছে।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*