Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / নগরীতে অনিবন্ধিত ৩৯ টি ক্লিনিক ও ডায়াগণস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম চলছে

নগরীতে অনিবন্ধিত ৩৯ টি ক্লিনিক ও ডায়াগণস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম চলছে

নিবন্ধনের আবেদন ওপর চলে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান
লাইসেন্সপ্রাপ্তির আগে কার্যক্রম চালাতে পারবে না : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
অনিবন্ধিত ক্লিনিক ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযানে কমিটি গঠন
৭২ ঘণ্টার মধ্যে অনিবন্ধিত সব ক্লিনিক বন্ধের নির্দেশ

কামরুল হোসেন মনি :
নগরীতে অনিয়ম-বিশৃঙ্খলায় চলছে অধিকাংশই বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগণস্টিক সেন্টারগুলো। বর্তমানে খুলনা মহানগরীতে অনিবন্ধিত ৩৯টি ক্লিনিক ও ডায়াগণস্টিক সেন্টার চালু রয়েছে। শুধু অনুমোদনের জন্য অনলাইনে আবেদন করেই বছরের পর বছর চলছে ওই সব প্রতিষ্ঠানগুলো। আবার কোনো প্রতিষ্ঠান কোনো কিছু না করেই বহালতবিয়তে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষরা মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও পরবর্তীতে অদৃশ্যর কারণে আবারও পুনরায় চালু করেন। রমরমা ব্যবসার কারণে খুলনা শহর থেকে শুরু করে উপজেলাগুলোতেও এখন রোগ নির্ণয় কেন্দ্রের ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটেছে।
খুলনা সিভিল সার্জন ডা: সুজাত আহমেদ বলেন, আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে সব অনিবন্ধিত ক্লিনিক বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নগরীতে ও জেলায় যে সব অনিবন্ধিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো আছে সেগুলো বন্ধে অভিযানের জন্য তিন সদস্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, গতকাল শনিবার উপজেলায় কয়েকটি অনিবন্ধিত ক্লিনিক ও ডায়াগণস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, খুলনার ৯ উপজেলায় ১২৬ টি ক্লিনিক ও ডায়াগণস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে ৬৪টি ডায়াগণস্টিক সেন্টার আছে। অনিবন্ধিত ক্লিনিক ও ডায়াগণস্টিক সেন্টার আছে ৬টি। তিনি বলেন, আজ ( রোববার) থেকেই অনিবন্ধিত ক্লিনিক ও ডায়াগণস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযানের টিম মাঠে থাকবে। সিভিল সার্জন ডা: সুজাত আহমেদ বলেন, স্বাস্থ্য অধিপ্তরের থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ি নগরীতে ২২৯ ক্লিনিক ও ডায়াগণস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে ক্লিনিক রয়েছে রয়েছে ১৩২টি। বাকিগুলো ডায়াগণস্টিক সেন্টার। তার দেয়া তথ্য মতে অনিবন্ধিত ক্লিনিক ও ডায়াগণস্টিক সেন্টার রয়েছে ২৯টি।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গতকাল শনিবারের সূত্র মতে, বর্তমানে নগরীতে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে ২৩৯ টি। এর মধ্যে অনিবন্ধিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সংখ্যা আছে ৩৯টি।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক ( প্রশাসন) ডা: মো: হারুন অর রশিদ বলেন, খুলনা মহানগরীতে আনুমানিক ৪০ টি মতো অনিবন্ধিত ক্লিনিক ও ডায়াগণস্টিক সেন্টার রয়েছে। এছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন করলেও নবায়ন করেননি তাদেরকে সময় বেধে দিয়ে চিঠি দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নবায়ন না করলে সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে দেশের সব অনিবন্ধিত ক্লিনিত বন্ধের নিদের্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এসময়ের মধ্যে ক্লিনিক বন্ধ করা না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে অধিদপ্তর। গত ২৬ মে (বৃহস্পতিবার) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবিরের সাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চারটি নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেগুলো হলো- আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের অনিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসমূহ বন্ধ করতে হবে। অনিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসমূহের বিরুদ্ধে এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। এ কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন গ্রহণ করলেও নবায়ন করেননি, তাদের নিবন্ধন নবায়নের জন্য সময়সীমা প্রদান করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নবায়ন গ্রহণ না করলে, সেসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহে অপারেশনের সময় এনেস্থিসিয়া প্রদান ও ওটি অ্যাসিস্ট করার ক্ষেত্রে নিবন্ধিত চিকিৎসক ছাড়া অন্যান্য চিকিৎসক রাখা হলে সেসব প্রতিষ্ঠান ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান নতুন নিবন্ধনের আবেদন করেছেন, তাদের লাইসেন্স প্রদানের কার্যক্রম দ্রুত শেষ করতে হবে। লাইসেন্সপ্রাপ্তির আগে এসব প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাতে পারবে না।
জানা গেছে, নগরীতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিপরীতে মাদ্রাসা রোডে ও আশপাশ এলাকাতে অনিবন্ধিত ক্লিনিক ও ডায়াগণস্টিক সেন্টারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি রয়েছে। খুমেক হাসপাতালে বিপরীতে মাদ্রাসা গলিতে সিটি ম্যাক্স হসপিটাল, নিউ মেঘনা ক্লিনিকসহ আরও এরকম অনেক স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন করা হয়নি। টিন শেডের নিচে ডায়াগণস্টিক সেন্টার পরিচালনা করা হচ্ছে। যা নিয়ম বহির্ভুত। নিয়ম রয়েছে ডায়াগণস্টিক সেন্টার চালু করতে শর্ত অনুযায়ী উপরে ছাদ বাধ্যতামুলক হতে হবে। কিন্তু খুমেক হাসপাতালের বিপরীতে চিস্তি মিন্টু প্লাজায় মার্কেট পুরোটাই টিন শেডের। সেখানে সাউথ সিটি ডায়াগণস্টিক এন্ড কনস্যালটেন্ট সেন্টার চালু রয়েছে। বয়ার সেন্ট্রাল ডায়াগণস্টিক সেন্টারটি উপরে টিনশেড রয়েছে।
খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের সূত্র অনুযায়ী, সরকারি নীতিমালায় একটি ১০ শয্যার ক্লিনিক পরিচালনায় ৩ জন এমবিবিএস ডাক্তার, ৬ জন ডিপ্লোমা নার্স, ৬ জন আয়া এবং ৩ জন সুইপার নিয়োগের বিধান রয়েছে। কিন্তু ক্লিনিক পরিচালনায় সরকারি নীতিমালা বিভিন্ন অজুহাতে মানছেন না অনেক প্রভাবশালী ক্লিনিক মালিক। অভিযোগ রয়েছে, কোন তদারকি না থাকায় বছরে একবার স্বাস্থ্য বিভাগের পরিদর্শনের সময়ে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে পার পেয়ে যায় নীতিমালা তোয়াক্কা না করা অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*