Breaking News
Home / স্থানীয় সংবাদ / জননেত্রী প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে ২১ জেলার মানুষের বড় পাওয়া “স্বপ্নের পদ্মা সেতু”

জননেত্রী প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে ২১ জেলার মানুষের বড় পাওয়া “স্বপ্নের পদ্মা সেতু”

নাগরিক নেতা শাহিন জামাল পন

মোঃ আশিকুর রহমান ঃ আমি প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই খুলনার বহুল সর্বাধিক প্রচারিত পত্রিকা দৈনিক প্রবাহ পরিবারকে যারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে আগামী ২৫ জুন যে ঐতিহাসিক পদ্মা সেতুর উদ্ধোধন হতে যাচ্ছে তার ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছেন। পদ্মা সেতু খুলনাসহ ২১ টি জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও দাবি ছিল। যে দাবিটি আগামী ২৫ শে জুন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। আমরা সকলেই আনন্দিত, পাশাপাশি এই কথাটি বলতে চাই সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন পদ্মা সেতুর বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন, আমি সরাসরি নাম ধরে বলতে চাই একটি সেতুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশকে একটি দূর্নীতির রাষ্ট্রে পরিনত করার জন্য একটি মহা-পরিকল্পনা চলে। সেই মহাপরিকল্পনা ও গভীর ষড়যন্ত্র করে একটি রাজনৈতিক দল, যখন তারা ক্ষমতায় ছিল পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের কথা বলেছিল কিন্তু বাস্তবায়নে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। সেই দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়াসহ দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ড. ইউনুস সেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে ছিলেন। পদ্মা সেতুতে অর্থায়নকারী সংস্থা বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিপি জ্যাইকাসহ অন্যান্য সংস্থা যখন অর্থায়নে সমর্থন জানান, তখন নাকি সেতু নিয়ে দূর্নীতি হয়েছে এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তারা পদ্মা সেতুর বাস্তবায়নে অর্থায়ন প্রদান হতে সরে দাঁড়ান।
সেতুকে নিয়ে চলে গভীর ষড়যন্ত্র, সেই ষড়যন্ত্রের বেড়াজালকে ছিন্ন করে বিশ্ব ব্যাংককে চ্যালেঞ্জ করে, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার অদম্য সাহসিকতার হাত বাংলাদেশের নিজ অর্থায়নে শুরু হয় পদ্মা সেতুর বাস্তবায়নের কাজ। অবশেষে সকল ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ছিন্ন করে জননেত্রী শেখ হাসিনার অদম্য সাহসিকতা এবং বীরত্বের অর্জন এই স্বপ্নের পদ্মা সেতু আজ উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত। তাই আজ গর্বের সাথে বলতে হয়, জননেত্রী প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে ২১ জেলার মানুষের বড় পাওয়া “স্বপ্নের পদ্মা সেতু”। বুধবার (২২ জুন) দৈনিক প্রবাহ পত্রিকাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন নাগরিক নেতা শাহিন জামাল পন।
আগামী ২৫ শে জুন স্বপ্নের পদ্মা সেতুর ঐতিহাসিক উদ্বোধনকে সামনে রেখে নাগরিক নেতা শাহিন জামাল পন প্রবাহকে জানান, আমি মনে করি এই সেতু উম্মুক্তের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের দ্বার খুলছে। যে স্বপ্ন দেখতে জানে, সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন জানে। বাঙালী যে সাহসি জাতি, হেরে হাওয়া বা কারো কাছে মাথা নত করার জাতি নয়, তা আবারো প্রমানিত হলো এই পদ্মা সেতু তৈরির মধ্য দিয়ে। যা কেবল জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই সম্ভব হয়েছে।
নাগরিক নেতা শাহিন জামাল পন প্রবাহকে জানান, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির ভাইস প্রেডিডেন্ট হিসাবে আমি বলতে চাই এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে খুলনার বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যে পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম অব্যহত রেখেছে। পদ্মা সেতুর দাবিতে মাওয়াতে বিগত ২০০৩ ও ২০০৪ সালে এই সংগঠন একটি মহা সমাবেশ করে। এই সমাবেশে বিভিন্ন জেলা হতে আগত নেতৃবৃন্দ পদ্মা সেতুর স্থাপনের দাবি জানান। আগামী ২৫ জুন সেই আন্দোলন সংগ্রামের ফসল পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য উম্মুক্ত হতে চলেছে, এটা এই অঞ্চলের মানুষের আনন্দের আর গর্বের, যা কেবল বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সাহসিকতা আর সততার মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে।
পদ্মা সেতুর ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যাতায়াতের যে সার্বিক উন্নয়ন ঘটবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রবাহকে জানান, আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জীবনযাত্রার মান সম্পূর্ন বদলে যাবে। এই দ্বার উম্মুক্তের সাথে সাথে গোটা বাংলাদেশে জিডিপি বৃদ্ধি পাবে ২ শতাংশ। এই সেতুর জন্য এক সময়ের বাংলাদেশের দুটি বিভক্ত অঞ্চল জোড়া লাগতে যাচ্ছে, আর যোগাযোগ ব্যবস্থা একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত। পদ্মা সেতুর কারণে এপার ওপারের বিছিন্ন যোগাযোগে সহজলজ্য আসবে। মাত্র সাড়ে ৩ হতে ৪ ঘন্টায় পৌঁছানো যাবে রাজধানীতে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার, ফেরিতে ভোগান্তি আর পোহাতে হবে না। লঞ্চ ডুবিতে আর কোনো প্রাণ হারাতে হবে না। দীর্ঘ লাইনে পড়ে ফেরির অপেক্ষায় যে কৃষিজাত পণ্য নষ্ট হতো তার বিড়ম্বনা শেষ হলো এই সেতু চলাচলের মধ্যে দিয়ে। আমরা দেখেছি জরুরী রোগী নিয়ে ফেরীর বিড়ম্বনায় এ্যাম্বুলেন্সেই রোগী মারা গেছে, কিন্তু আজ এই সেতু কারণে খুব অল্প সময়ের মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর বুকে পাড়ি জমাতে পারবে সাধারণ মানুষ।
পদ্মা সেতুর মাধ্যমে মোংলা সহ স্থলবন্দরের কর্মচঞ্চল্যতার বিষয়ে জানতে চাইলে এই নাগরিক নেতা প্রবাহকে জানান, আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে বেড়ে যাবে মোংলা বন্দরের গুরুত্ব, বাড়বে কর্মচাঞ্চল্যতা। পদ্মা সেতুর দ্বার উম্মুক্ত হওয়ার পর পরই এই মোংলা বন্দরে বিদেশী জাহাজ হ্যান্ডেলের প্রসারতা বাড়বে, বৃদ্ধি পাবে আমদানি-রপ্তানী। পদ্মা সেতুর দ্বার উন্মোচন হলে বিনিয়োগকারীরা সময় ও খরচ বাঁচাতে চট্টগ্রাম বন্দর হতে মোংলা বন্দরের প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে উঠবে, যে কারণে মোংলা বন্দরে আমদানি-রপ্তানীর সম্ভাবনা বাড়বে। এই সেতুকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলে বিরাট অর্থনৈতিক পরিবর্তন ঘটবে। এই সেতু নির্মানে এপারের ২১ জেলার মানুষের যোগাযোগের ব্যবস্থার উন্নতিকরণ ছাড়াও শিল্পায়ন, বিনিয়োগ, আমদানী-রপ্তানীসহ বানিজ্যিকভাবে বিশাল অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটবে, পাশাপাশি বেকারত্বের বিপরীতে সৃষ্টি হবে নতুন নতুন সম্ভবনাময় কর্মসংস্থান। একই সাথে পদ্মা সেতুর কারণে মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দর, ইপিজেডসহ স্থল বন্দর বেনাপোল ও ভোমরা হতে দেশে আমদানি-রপ্তানীতে বিনিয়োগ বাড়বে বলে আমি মনে করি।
সর্বোপরি, নাগরিক নেতা শাহিন জামাল পন প্রবাহকে জানান, পদ্মা সেতুর কারণে কেবল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অর্থনৈতিক প্রসারতায় নতুন নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে, যা ইতিবাচক মাইল ফলক হিসাবে কাজ করবে। উন্নয়নের যে যোগসূত্র তা কেবল জননেত্রী শেখ হাসিনাই আমাদের দেখিয়েছে। সুতরাং আগামী ২০২৩ সালে যে নির্বাচন আসছে, সেই নির্বাচনকে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় এনে বাংলার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নসহ অনুন্নত বাংলাকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য তার হাতকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। কারণ জননেত্রী হাতকে শক্তিশালী করতে পারলে বাংলা একদিন সোনার বাংলায় পরিনত হবে নাগরিক নেতা হিসাবে আমি মনে করি। আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতুর যে আনন্দ তার পাশাপাশি দুঃখ প্রকাশ করছি সাম্প্রতিক সময়ের সিলেট অঞ্চলের ভয়াবহ বন্যার কারণে যারা গৃহহীন ও যারা মৃত্যুবরণ করছেন তাদের প্রতি আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*