আরিফ হত্যাকারীদের আগামী ৩ দিনের মধ্যে গ্রেফতার করা না হলে কঠোর কর্মসুচি দেওয়া হবে

# যুবলীগ নেতা আরিফ হত্যার প্রতিবাদে ফুলবাড়ীগেটে মানববন্ধনে বক্তারা #
# বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে শতশত মানুষ খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে রাজপথে #
খানজাহান আলী থানা প্রতিনিধি ঃ যোগিপোল ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর ও যুবলীগ নেতা মোঃ আরিফ হোসেন হত্যার প্রতিবাদে এবং হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবীতে ফুলবাড়ীগেটে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ২৮ জুন শুক্রবার বিকাল ৫টায় ফুলবাড়ীগেট বাসস্টান্ডে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে দলমত নির্বিশেষে শতশত নারী-পুরুষ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে বক্তারা প্রশাসনের প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন হত্যাকান্ডের ঘটনার ৪দিন অতিবাহিত হলেও হত্যার রহস্য এবং খুনিদের গ্রেফতার করতে আইন শৃংখলা বাহিনী ব্যর্থ হয়েছে। তাই আগামী ৩ দিনের মধ্যে যুবলীগ নেতা আরিফ হোসেনের খুনিদের গ্রেফতার করতে না পারলে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে কঠোর কর্মসুচি দিয়ে রাজপথে নামা হবে।
যোগিপোল ৩নং ওয়ার্ডবাসীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা আরো বলেন, আরিফ হোসেনকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করে তার শিশু সন্তানদের পৃত্রি হারা করে এতিম করেছে তাদেরকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিহিৃত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দিতে হবে। বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে আইন শৃংখলা বাহিনী প্রযুক্তিতে দক্ষ তারা ইচ্ছে করলে যে কোন হত্যাকান্ডের মোটিভ দ্রুত উৎঘাটন সহ ঘটনার সাথে সম্পৃক্তদের আইনের আওতায় আনতে পারে। মানববন্ধনে বক্তারা প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিন দিনের মধ্যে আরিফ হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের ব্যার্থ হলে যে কোন পরিস্তিতির জন্য প্রশাসন দায়ি থাকবে। খানজাহান আলী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আবিদ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং আ’লীগ নেতা এফ এম জাহিদ হাসান জাকিরের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে নিহত আরিফের শিশু সন্তান আরিয়ান ও আয়ান পিতার খুনিদের বিচারের প্লাকার্ড নিয়ে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে। মানববন্ধনে বক্তৃতা করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বেগ লিয়াকত আলী, খানজাহান আলী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আনিছুর রহমান, সহ-সভাপতি মাস্টার মনিরুল ইসলাম, কেসিসি ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মনিরুজ্জামান মুকুল, নিহতের ছোট ভাই মো. আসিফ হোসেন ও মো. আশিকুর রহমান, থানা আওয়ামী লীগ সুরুজ্জামান হানিফ, শেখ কামাল আহমেদ, কাজী জাকারিয়া রিপন, মনির শিকদার, মো. শাকিল আহমেদ, লিয়াকত মুন্সি, জেলা পরিষদের সদস্য ও শ্রমিকলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম বাবু, সাবেক কাউন্সিলর মো. সাইফুল ইসলাম, যুবলীগের থানা যুগ্ন আহবায়ক মিজানুর রহমান রুপম, মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মো. ফয়সাল হোসেন, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী রুমা খন্দকার মুন্নি, এ্যাড, নার্গিস খানম, ইউপি সদস্য জিএম এনামুল কবির, ইউপি সদস্য মো. মামুন শেখ, ইউপি সদস্য গোলাম কিবরিয়া, সবেক মেম্বর শহিদুল ইসলাম, বিএনপি নেতা মো. মহিউদ্দিন, খানাবাড়ী যুব সংঘ ক্লাবের সভাপতি আবু হেনা বাবলু, সাধারণ সম্পাদক তৈয়বুর রহমান লিটন, আ’লীগ নেতা নাছির উদ্দিন, তরিকুজ্জামান মনির, যুবলীগ নেতা জাহিদ আল মামুন, আ’লীগ নেতা বেগ খালিদ হাসান, কামাল মুন্সী, মোহন মুন্সি, আলামিন, যুবদল নেতা মশিউর রহমান, মশিউর রহমান, মিজানুর রহমান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। মানববন্ধনে যোগিপোল ইউনিয়ন সহ পার্শবর্তি এলাকার নারী-পুরুষসহ সর্বস্থরের মানুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য যোগিপোল ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর ও যুবলীগ নেতা মোঃ আরিফ হোসেন(৪০)কে গত ২৪ জুন সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ১১টায় আড়ংঘাটা থানাধিন কুয়েট পকেটগেটস্থ খানাবাড়ী আরিফ হোসেনের বাড়ীর সামনে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই ঘটনায় নিহতের পিতা মো. আমির হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে আড়ংঘাটা থানায় মামলা করেছে। আড়ংঘাটা থানা পুলিশ গত ২৫ জুন রাতে বাইপাস থেকে সন্দেহভাজন হিসাবে শলুয়া গ্রামের দুলাল সরকারের পুত্র সুজন সরদারকে একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও তিন রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করে।



