স্থানীয় সংবাদ

সহিংসতার অভিযোগ করলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী দারা ও আকরাম

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা- ৪ এলাকার তেরখাদা, রূপসা ও দিঘলিয়ায় পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মারধর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে খুলনা-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা এসব অভিযোগ করেন। তার আগে একই অভিযোগ করলেন ৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ফুলতলা উপজেলা আ’লীগের সভাপতি শেখ আকরাম হোসেন। দারা নিজেকে আওয়ামী লীগের পরিবারের সদস্য দাবি করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তারা প্রার্থী হয়েছিলেন। নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। এখন তাদের হাতেই আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থক, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ হামলা, মারধর ও হুমকির শিকার হচ্ছে। কিন্ত প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এতে দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি এসব ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও বিচারের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে খুলনা-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোত্তর্জা রশিদী অভিযোগ করে বলেন, নৌকার প্রার্থী আব্দুস সালাম মূর্শেদীর কর্মী, স্থানীয় কয়েকটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের হুমকি ও ভয়ভীতিকে অনেকে ভোট দিতে যাননি। ফলে ভোটের হার কম হয়েছে। এখন নির্বাচনী এলাকাগুলো ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। তৃণমূল আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এই প্রার্থী বলেন, খুলনা-৪ নির্বাচনী এলাকায় অর্ধশতাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। অনেকে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। হামলার শিকার হয়েছেন তেরখাদা উপজেলার ছাগলাদহে মোহাম্মদ এসকেন্দার শেখ, অজগড়ায় মো. আব্দুস কুদ্দুস তালুকদার, তার মেয়ে শিল্পী বেগম, শেখপুরার বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. নওয়াব আলী, কুমিরডাঙ্গা শেখ কাইস জামান, কোদলার হাসান শেখ, পানতিতার সোনিয়া আক্তার, রূপসা তিলকের দেবপ্রসাদ কুন্ডু, আইচগাতীর তপু, সোহেল রানা, সেলিনা বেগম, ইলাইপুরের বাপ্পারাজ শেখ, ইমরান, খায়রুল হাওলাদার, মামুন, শ্রীফলতলার আসাদ হাওলাদার। দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাটের মো. শাকিল, লিটন শেখ, মাজাহারুল ইসলাম, মো. সফিকুল ইসলাম, অলোক পাত্রও মিলন মিশ্রসসহ অর্ধশতাধিক কর্মী। যারা সকলেই আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী। এছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অথচ স্থানীয় পুলিশ এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। দল ও দলের কর্মীদের রক্ষায় জন্য তিনি দাবি জানান। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা দারা আরো বলেন, নির্বাচনী এলাকাটিতে অনেকে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারছে না। নৌকার মাঝিদের কাজ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। চাষাবাদ করতে পারছেন না। আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের এমন অবস্থা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। সংবাদ সম্মেলনে কৃষক লীগ জেলা সভাপতি অধ্যাপক আশরাফুজ্জামান বাবুল, সাবেক জেলা আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ূন কবির ববিসহ নির্যাতিত নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে শেখ আকরাম হোসেন বলেন, আওয়ামীলীগের বঞ্চিত, ত্যাগী, অবহেলিত ও নিস্ক্রিয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা তার কাজ করেছে। সে জন্য তার লোকজনকে বিজয়ী প্রার্থীর গুন্ডা বাহিনী নির্যাতন করবে। এলাকা ছাড়া করবে। অংশ গ্রহণমূলক নির্বাচনের স্বার্থে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনের পর কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা, এজেন্টদের বাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ করেছেন খুলনা-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ফুলতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকরাম হোসেন। বিষয়গুলো ওসি, পুলিশ সুপারকে জানিয়েও সুরাহা হচ্ছে না। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ অভিযোগ করেন। ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে আসনটিতে নৌকা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ১০ হাজার ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। নির্বাচনে আকরাম হোসেন পেয়েছেন ৯৩ হাজার ভোট। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, শোভনা বিরাজময়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আমার এজেন্ট ছিল সাবিনা বেগম। ভোটের দিন ফলাফল ঘোষণার পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত বৈদ্যের নেতৃত্বে সাবিনার বাড়িয়ে হামলা করে ব্যাপক ভাংচুর করা হয়। তাকে মেরে গুরুতর আহত ও তার দোকনপাটও ভাংচুর করা হয়। এছাড়া পল্লীশ্রী কলেজ কেন্দ্রে আমার এজেন্ট প্রিয়াংকা মন্ডল, তার স্বামী প্রকাশ মন্ডল, তার শশুর ও শাশুড়িকে মারপিট করা হয়। বাদুরগাছায় নয়ন গাজী ও তার স্ত্রী খাদিজা বেগমকে মারপিট করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর ভাংচুর করা হয়। পরে তাদেরকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা বাড়ি ঘর ছেড়ে রাস্তায় বসবাস করছে। তিনি অভিযোগ করেন, সাহস ইউনিয়নে নোয়াকাঠী গ্রামের নৌকার সমর্থক ইলিয়াস ফকিরের নেতৃত্বে আমার সমর্থক তুহিন শেখ, আদম শেখ ও পল্লী চিকিৎসক ওহিদুল শেখকে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়। তুহিনের মাথা গুরুতর জখম হয়েছে। ডুমুরিয়া সদরে মির্জাপুর গ্রামে দিবাশীষ মেম্বরের নেতৃত্বে জোর করে ভোট নেওয়ার অভিযোগ আগেই প্রিজাইজিং অফিসারের কাছে করা হয়। ফলাফল ঘোষনার পরে দিবাশীষ মেম্বর, গনেশ বৈরাগী ও আশিষ মহালদারের নেতৃত্বে ওই ওয়ার্ডের আমার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক স্কুল শিক্ষক শ্যামপদ মন্ডলের বাড়িতে হামলা হরা হয়। মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামের শহর আলী, বেতাগ্রামের শহিদুল ইসলাম ও মজিদ গাজীকে মারপিট করে গুরুতর আহত করা হয়। তার বাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। মাগুরখালী ইউনিয়নের কাঠালিয়া গ্রামে নিতিশ মন্ডল ও বিমল কৃষ্ণ মন্ডলের বাড়ি এবং দোকান ভাংচুর করেছে। মাগুরাঘোনার মতি মেম্বরের নেতৃত্বে রমজান সরদারকে মারপিট করা হয়েছে। শোভনার গাবতলায় আব্বাস খান, দিনেশ মল্লিক ও তার ছেলে সত্য মল্লিকের দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান গোপাল চন্দ দের’র নেতৃত্বে হাজিবুনিয়া গ্রামের শম্ভু মন্ডল, পাপন মন্ডল ও পেড়িখালী গ্রামের পরিমল বাছাড়কে মারপিট করা হয়েছে। এছাড়া নাম না জানা অনেক নেতাকর্মীর ওপর নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আকরাম হোসেন বলেন, ফুলতলা উপজেলা এবং ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বোমা ফাটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করা হয়েছে। ভোটের আগের দিন মশিয়ালী, দামোদর, ফুলতলা সদর, জামিরা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে বোমা ফাটানো হয়েছে। ডুমুরিয়ার কাঠালতলায় বোমা ফাটানো হয়েছে। এসব আতংক সৃষ্টি করে ভোটার উপস্থিতি কমানো হয়েছে। আর যে কারনে আমার পরাজয় ঘটেছে। তারপরেও আমি পরাজয় মেনে নিয়েছি।তিনি বলেন, নির্বাচন পরবর্তী আমার নিরীহ এজেন্ট, কর্মী ও সমর্থকদের ওপর একের পর এক হামলা, বাড়ি ঘর ভাংচুর ও লুটপাট অব্যাহত থাকলেও বিজয়ী প্রার্থী তাদের নিবৃত করছেন না। ফলে অত্যাচারের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি হামলা, ভাংচুরে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডুমুরিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোস্তফা কামাল খোকন ও এবিএম শফিকুল ইসলাম, ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আলমগীর হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত সচিব সর্দার ইলিয়াস হোসেন প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button