মোংলা মৎস্য অফিসের বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগে নারীদের সংবাদ সম্মেলন

বাগেরহাট প্রতিনিধি ঃ বাগেরহাটের মোংলা মৎস্য অফিসের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ উত্থাপন করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলার নারী চিংড়ী চাষীরা। সংবাদ সম্মেলনে মোংলা উপজেলা মৎস্য অফিসের মেরিন অফিসার হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে চিংড়ি চাষীদের কাছে উৎকোচ ও কমিশন বানিজ্যের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। দাবিকৃত কমিশন বানিজ্যে সাড়া না দেওয়ায় চিংড়ী চাষীদের জন্য সরকারি বরাদ্ধের টাকা তুলতে পারছে না ক্লাষ্টার ভিত্তিক নারী চিংড়ি চাষিরা। যথা সময়ে অর্থ না পাওয়ায় মৌসুম শুরু হলেও চিংড়ি ঘের প্রস্তুতসহ পোনা সংগ্রহ করতে পারছেন না চাষীরা। এ অবস্থায় আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে সরকারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া চাষীদের। রবিবার বেলা ১১ টায় মোংলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তুলে ধরেন উপজেলার কাইনমারী বাগদা চাষি ক্লাষ্টার-১ গ্রুপের নারী সদস্যরা। বাগদা চিংড়ি চাষি ক্লাষ্টার-১ গ্রুপের সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসী লিখিত বক্তব্যে ও সংবাদ কর্মীদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ২০২৩ সালে সরকারিভাবে ২৫ জন নারী বাগদা চিংড়ি চাষের প্রশিক্ষন গ্রহন করেন। পরে উপজেলা মৎস্য অফিসের তত্তাবধানে তারা সফলভাবে চিংড়ী চাষ করে আসছেন। এ বছর প্রাকৃতিক দূর্যোগে তাদের মাছের পোনা নষ্ট হওয়ায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন এসব নারীরা। এ অবস্থায় সরকারিভাবে মৎস্য চাষে তাদের জন্য বরাদ্দ হওয়া ‘ সাসটেইনেবল কোষ্টাল এন্ড মেরিন ফিশারিজ’ প্রকল্পের টাকা চাইতে গেলে মেরিন অফিসার হেলাল উদ্দিন বলেন চাষীদের জন্য ওই প্রকল্পের আওতায় ৪ লাখ টাকা অগ্রণী ব্যাংক মোংলা শাখায় জমা আছে। এই টাকা ছাড় করাতে হলে এক লাখ ঘুষ লাগবে বলে দাবি করেন হেলাল উদ্দিন। চাহিদাকৃত ওই ঘুষের টাকা না দেওয়ায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অসহায় এসব নারী মৎস্য চাষীরা বিপাকে পড়েছেন। এ অবস্থায় মৌসুমের শুরুতে এখনও তারা ২৫ টি চিংড়ি ঘেরে বাগদার রেনু পোনা ছাড়তে পারেনি। সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয় মেরিন অফিসার হেলাল উদ্দিনকে ২০২৩ সালে ‘সাসটেইনেবল কোষ্টাল এন্ড মেরিন ফিশারিজ’ প্রকল্পের ১২ লাখ টাকা ছাড় করাতে প্রায় ৩ লাখ ঘুষ দিতে হয়েছে। এ বিষয়ে সদ্য যোগদান করা মোংলা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন বিশ্বাসের কাছে সরাসরি অভিযোগ দিয়েও লাভ হয়নি বলেও দাবী করেন সংবাদ সম্মেলন কারীরা। সংবাদ সম্মেলনে আনিত অভিযোগ বিষয়ে মেরিন অফিসার হেলাল উদ্দিন বলেন নারী চাষীরা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন। যা উদ্দেশ্য মুলক। এ বিষয়ে জানার জন্য মোংলা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন বিশ্বাসের ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।



