চিতলমারীতে পৃথক সন্ত্রাসী হামলায় ৩ জন রক্তাক্ত জখম

বাগেরহাট প্রতিনিধি ঃ বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়ীয়া ও কলাতলা এলাকায় একদিনের ব্যবধানে পৃথক ২টি সন্ত্রাসী হামলায় ইউপি মেম্বর ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ ৩ জন জখম হয়েছেন। জখমীরা হলেন বড়বাড়ীয়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড মেম্বর মোঃ মহসীন ওরফে রেজা(৫৫) এবং উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজ শেখের ছেলে লিটন শেখ (৩৪) ও বজলু শেখের ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী শাকিল শেখ (১৭)। এদের মধ্যে ইউপি সদস্য রেজা কে গুরুতর অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্ত্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধিন আহতরা জানান,ইউপি সদস্য মহসীন রেজা বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ীর পাশে তার মৎস্যঘেরে পাহারায় যান এবং ঘেরের মাছ চুরি করতে দেখে সে ডাক-চিৎকার দেয়। এ সময় পাশর্^বর্ত্তি বড়গুনি এলাকার সাইফুল, সাদ্দাম ও আমিনুলসহ ৫/৬জন মেম্বর কে বেধড়ক মারপিট করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চিতলমারী উপজেলা হাসপাতালে নিলে অবস্থা বেগতিক দেখে রাতেই ইউপি মেম্বর কে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্ত্তি করা হয়। এ ঘটনা রাতেই থানা পুলিশ কে জানানো হয়েছে। অপরদিকে, এর আগের দিন বুধবার বিকেলে পুর্ব-শত্রুতার জের ধরে উপজেলার কলাতলা গঙ্গাচন্না সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে রাস্তার পর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান লিটন শেখ ও এসএসসি পরিক্ষার্থী শাকিল শেখ কে হাতুড়ী দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। আহত এ দ’ুজন কে চিতলমারী উপজেলা হাসপাতালে ভর্ত্তি করা হয়। ঘটনা বিষয়ে আহত লিটনের ভাবী রোজিনা আক্তার জানান, উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকার সরোয়ার শেখের ছেলে মনির শেখের সাথে তাঁর দেবর লিটন শেখের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বুধবার বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে লিটন শেখ গোপালগঞ্জের পাটগাতী বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে গঙ্গাচন্না সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে মনির শেখ তার দুই ছেলে সাব্বির শেখ ও নয়ন শেখ হাতুড়ী ও লাটি দিয়ে লিটনের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় এসএসসি পরীক্ষার্থী শাকিল শেখ বাধা দিতে এলে তাকেও হাতুড়ী দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। এ ঘটনায় চিতলমারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। চিতলমারী থানার ওসি এ এইচ এম কামরুজ্জামান খান শুক্রবার সকালে জানান ইউপি মেম্বর কে মারপিটের ঘটনায় এখনও কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। আর মুক্তিযোদ্ধাসন্তানসহ দুইজন আহত হওয়ার ঘটনায় দুই পক্ষের কাছ থেকেই লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



