সম্পাদকীয়

প্রযুক্তির অপব্যবহার গ্রাস করছে তরুণ প্রজন্মকে

পৃথিবীর আয়ু বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিপুল সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে প্রযুক্তি। বিজ্ঞানের অবিশ্বাস্য উন্নতির ফলে বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তিতে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। বিশ্বকে হাতের মুঠোয় এনেছে অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তি। বিভিন্ন উদ্ভাবনের ফলে বর্তমান বিশ্ব এগিয়েছে অনেক দূর, তাল মিলিয়ে এগিয়েছে বাংলাদেশও। কিন্তু প্রযুক্তির অসংখ্য ইতিবাচক দিক থাকা সত্ত্বেও অপব্যবহার গ্রাস করছে তরুণ প্রজন্মকে। প্রযুক্তির অকল্যাণকর দিকগুলো যেন ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে তরুণদের। এমনকি পরিক্ষায় নকল করার পদ্ধতিতেও প্রযুক্তির অপব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা। যাতে একাধিক জেলায় পরীক্ষা চলাকালীন নকল ধরা পড়ে। ১২৩ জন পরীক্ষার্থীসহ ২ জন শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন বাইরে পাঠিয়ে দ্রুত সমাধান করে তা অসাদুপায়ে পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মতো অপকর্ম চলেছে। এবার যে অভিনব পদ্ধতিতে নকল হয়েছে সেটি হলো- ব্যাংকের মাস্টার কার্ড, ভিসা কার্ডের অপব্যবহার। এসব কার্ডের মাধ্যমে সাধারণত টাকা তোলা হয়। কার্ডগুলোর মধ্যে যেসব চিপ থাকে, সেগুলোর সঙ্গে ডিভাইসকে সংযুক্ত করা হয়। আর পরিক্ষার্থীর কানে থাকে ছোট ব্লুটুথ। সেটির সাহায্যে মোবাইল ফোনের মতো কথা বলে উত্তর শুনে উত্তরপত্রে লেখা যায়। এখানে মূল সমস্যা শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতায়। প্রাথমিক শিক্ষক নিবন্ধনের জন্য কয়েক বছর আগে পর্যন্ত নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল উচ্চমাধ্যমিকপাস। এখন সেটি বাড়িয়ে নূন্যতম স্নাতক করা হয়েছে। এতে করে পরীক্ষার্থীরা ভালো-মন্দ বোঝার মতো বয়স এবং পরিপক্ব মানসিকতা নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। সেখানে তাদের মধ্যে নকল করার প্রবণতা থাকা নীতিহীনতার পরিচায়ক বৈকি। এর পেছনে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাও প্রত্যক্ষভাবে দায়ী। শিক্ষককে বলা হয় মানুষ গড়ার কারিগর। যেখানে কারিগর নিজেই অন্যায় এবং অনৈতিকতায় পর্যুদস্ত, সেখানে তার কাছে নৈতিকতা আশা করা কতটুকু যৌক্তিক? সম্প্রতি যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা। এতে একজন শিক্ষার্থীকে যথেষ্ট পরিশ্রমসাধ্য লেখাপড়া করে উত্তীর্ণ হতে হয়। সেখানে আরেকজন পরীক্ষার্থী কোনোরকম শ্রম ছাড়া শুধু অসাদুপায় অবলম্বনের মাধ্যমে উত্তীর্ণ হয়ে যাবে- এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি আরও কলুষিত হয়ে ওঠে যখন তাতে শিক্ষকের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমাদের শিকড় থেকে সমাধানের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি যেসব শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক অসদুপায় অবলম্বন করে ধরা পড়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি বাঞ্ছনীয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button