আয়বৈষম্য হ্রাসে উপর্যুক্ত পদক্ষেপ নিন

বাংলাদেশে আয়বৈষম্য বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশের দারিদ্র্য-পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিশ্বব্যাংক কিছুদিন আগে আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্ধেক মানুষই দারিদ্র্যঝুঁকির মধ্যে অবস্থান করছে। যে স্বপ্নাদর্শ নিয়ে মানুষ একদিন যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছিল, বর্তমানে তার লেশমাত্র নেই। আমাদের সমাজে দেশপ্রেমহীন একটি লুণ্ঠন গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। যারা প্রতিনিয়ত ব্যস্ত নিজেদের নিয়ে। অন্যদিকে দেশের লাখ লাখ মানুষের দুরবস্থার কথা তাদের বোধের মধ্যেও থাকে না। এমনকি নূন্যতম পাওনাটুকু ছাড়তেও তারা নারাজ। এই অর্থদস্যুপনা বিশাল এক বৈষম্য সৃষ্টি করেছে মানুষের মধ্যে; বিশেষ করে নগরজীবনে বসবাস করা মানুষের মধ্যে এই বৈষম্য পৌঁছে গেছে উদ্বেগজনক পর্যায়ে। এতে করে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কারণে ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে, আয়বৈষম্য বাড়ছে।
শহর এলাকাগুলোতে দুর্নীতি, সরকারি অব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কারণে আয়বৈষম্য বাড়ছে। অথচ এমনটি হওয়ার কথা ছিল না। কথা ছিল, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার। কিন্তু শহরে আয়বৈষম্য বাড়ছে। এর মূল কারণ হচ্ছে, সমাজে জবাবদিহির প্রচ- অভাব। একশ্রেণির মানুষ বিত্তের পাহাড় গড়ে তুলছেন। আর এই কারণে হেন কোনো কাজ নেই, যা তারা করছেন না। একদিকে অর্থ পাচার, লুণ্ঠন, আরেকদিকে হাড় হাবাতে অস্থিমজ্জাসার একদল মানুষ। যাদের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এই সমস্যা সমাধানে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে যে পরিমাণ বরাদ্দ রয়েছে, তা কি যথেষ্ট? এই মুহূর্তে বরাদ্দ বৃদ্ধিসহ আওতা সম্প্রসারিত হলে দেশে দারিদ্র্যের হার কমে আসবে। এক জরিপে উঠে এসেছে, বর্তমানে ধনীদের আয় আরও বেড়েছে।
দেশের সবচেয়ে বেশি ধনী ১০ শতাংশ মানুষের হাতেই এখন দেশের মোট আয়ের ৪১ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে গরিব ১০ শতাংশ মানুষের আয় দেশের মোট আয়ের মাত্র ১ দশমিক ৩১ শতাংশ। গত ৫০ বছরে ধনীদের আয় অনেক বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে ধনী ও গরিবের আয়বৈষম্য। এরপরেও আয়বৈষম্যের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের এ দুঃখজনক অমনোযোগ অগ্রহণযোগ্য। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে আয়বৈষম্য বেড়ে দেশটি অচিরেই একটি ‘উচ্চ আয়বৈষম্যের দেশে’ পরিণত হবে তা কারোই কাম্য হওয়ার কথা নয়। ফলে বাংলাদেশের আয়বৈষম্য হ্রাসে উপর্যুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি জরুরি হচ্ছে বৈষম্য কমাতে টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ ও তার সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। তাহলেই নিশ্চিত হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন।
