স্থানীয় সংবাদ

পেঁয়াজে হাসি, পেঁয়াজে কান্না!

খুলনাঞ্চলে প্রতিকেজি পেঁয়াজে সেঞ্চুরি

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান : মসলা পণ্য পেঁয়াজের মূল্য ভারতের ওপর নির্ভরশীল। ৭ ডিসেম্বর ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ পণ্য রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওই সময় ভারতের নাসিক থেকে আসা ৩০ কার্গো পেঁয়াজ ৮ ডিসেম্বর থেকে গজল ডাঙ্গা বন্দরে এবং মালদার মাহাদিপুর বন্দরের ভেতরে ৭০ ও বাইরে ৮০ কার্গো ট্রাক আটকা পড়ে। একদিকে আমদানিকারকদের কোটি কোটি টাকার পেঁয়াজ পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়। তাদের চোখে মুখে ছিল কান্নার ছাপ। অপরদিকে, পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হওয়ার পর কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও নাটোরের চাষিদের মুখে হাসির বন্যা। দু’বছর পর এবারে ভালো দাম। সূত্র জানায়, ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে সংকটের কারণে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করে। এ আদেশে রপ্তানি ও আমদানিকারক উভয় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। বিভিন্ন বন্দরে তিন হাজার টন পেঁয়াজ আটকা পড়ে। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে ট্রাক বোঝাই পেঁয়াজ দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে। ডিসেম্বরের প্রথম দিকে ভারতে প্রতি কিলো পেঁয়াজের মূল্য ছিল ৭০ রুপি। ৮ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১৫০-২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। যদিও ভারত সরকার আগের এলসির পেঁয়াজ রপ্তানির সিদ্ধান্ত দিলে ১৯ ডিসেম্বর থেকে দেশে আমদানি শুরু হয়। এ কারণে মধ্যে দাম কিছুটা কমলেও বর্তমানে আবারও বেড়ে খুলনাঞ্চলে কেজিপ্রতি ১শ’ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। খুলনা নগরীর কদমতলাস্থ নিউ তাজ ট্রেডিং-এর ম্যানেজার কাশিফ রেজা জানান, দেশি পেঁয়াজের আমদানি বেড়েছে। ডিসেম্বরে নাটোর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ থেকে প্রতিদিন ট্রাক ভর্তি পেঁয়াজ নগরীর মোকামে এসেছে। জানুয়ারীতে গোপালগঞ্জ, শরিয়তপুর, ফরিদপুর ও মাদারীপুর জেলা থেকে এ পণ্য আসতে শুরু করে। প্রতি কেজির পাইকারী মূল্য প্রকার ভেদে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা। এই সূত্রের দাবি এবারের রমজানে পেঁয়াজের সংকট দেখা দেবে না। হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকেরা জানান, গত ৭ ডিসেম্বর অভ্যন্তরীণ সংকট ও দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। ফলে দেশের বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ শূন্য হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় হিলি স্থলবন্দরের মোকামে কেজিতে ১০০-১২০ টাকা করে দাম বেড়ে ২০০-২২০ টাকায় বিক্রি হয়। গত কয়েকদিন ধরে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজের দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ১শ’ টাকায়। বন্দরের আমদানিকারক শহিদুল ইসলাম বলেন, পেঁয়াজের সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত থেকে বাড়তি দামেই পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রাখা হয়েছিল। কিন্তু অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সংকটের অজুহাত দেখিয়ে গত ৭ ডিসেম্বর হঠাৎ ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। ৭ তারিখের আগে করা এলসির পেঁয়াজ রপ্তানি করার জন্য সেদেশের ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে চাপ তৈরি করা হচ্ছিল। এ অবস্থায় ভারত সরকার আগের এলসির পেঁয়াজ রপ্তানির সিদ্ধান্ত দিলে ১৯ ডিসেম্বর থেকে দেশে আমদানি শুরু হয়। বছরের এই সময়ে পেঁয়াজের বাজারে এরকম পরিস্থিতি ২০১৯ সাল থেকে প্রায় প্রতিবছরই হয়ে আসছে বাংলাদেশে। প্রতি বছর সেপ্টেম্বরে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ার পর থেকে বাংলাদেশের বাজারে বাড়তে থাকে। পেঁয়াজের দাম, যা নভেম্বর মাসে কেজি প্রতি দুইশ’ টাকা ছাড়িয়ে যায়। কুষ্টিয়ার চরবাহেরমাদি গ্রামের ব্যবসায়ী মোঃ ফারুক হোসেন জানান, অধিক লাভের আশায় চাষিরা পেঁয়াজ মজুদ করেছে। স্থানীয় পাইকারী বাজারে কেজি প্রতি ৮৩-৮৫ টাকা ও খুচরা বাজারে ১শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সেখানকার ব্যবসায়ীরা প্রতিদিনই ট্রাক যোগে খুলনা মোকামে পাঠাচ্ছে। এই সূত্র বলেছে, চরবাহেরমাদি গ্রামের চাষি মোঃ বজলু শেখ, মোঃ হাকিম উদ্দিন ও জহুরুল দারোয়ান দাম পেয়ে খুব খুশি। এদিকে, ভরা মৌসুমেও পেঁয়াজের দাম বাড়তি থাকায় সাধারণ ভোক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button