খুমেক হাসপাতালে নতুন ‘ব্লাড সেল সেপারেট’ মেশিন পুনরায় চালু

দীর্ঘ ৫ বছর পর অসহায় ও গরীব রোগীদের চিকিৎসার ব্যয় কমবে
কামরুল হোসেন মনি ঃ ‘ব্লাড সেল সেপারেটর’ নামের এ যন্ত্র দিয়ে এক ব্যাগ রক্ত থেকে ৩টি উপাদান বের করা হয়। রক্তের লহিতকণিকা, রক্তের তরল অংশ (প্লাজমা) ও রক্তের প্লাটিলেট আলাদা করার কাজে ব্যবহার করা হয় এ মেশিন। হিমোলাইটিক, এনিমিয়া, থ্যালাসেমিয়া, ডেঙ্গু, জোড়া রোগীসহ নানা ধরনের রোগীদেরকে চিকিৎসা সেবা দিতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে ওই মেশিনটি। এর আগে মেশিনটি থাকলেও অকেজো থাকায় রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত থাকতো। দীর্ঘ ৫ বছর খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগ (ব্লাড ব্যাংক) নতুন ‘ব্লাড সেল সেপারেটর’ মেশিন স্থাপন করেন হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের (১০ ফেব্রুয়ারি) শনিবার থেকে মেশিনটি যাত্রা শুরু করে। এর আগে গত ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্র্রণালায় থেকে এ হাসপাতালে কর্তৃপক্ষের কাছে ওই মেশিনটি হস্তান্তর করা হয়। খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের সূত্র মতে, ২০০২ সালে এ হাসপাতালে স্থাপন করা হয় ‘ব্লাড সেল সেপারেটর’ নামের এ যন্ত্রটি। ওই সময়ে কিছুদিন মেশিনটি চলার পর বন্ধ থাকে প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে মেশিনটি আবারও চালু করা হয়। কিন্তু তা চালানো যায়নি বেশিদিন। সেল সেপারেট মেশিনটি ২০২০ সালে আবারও বিকল হয়ে পড়ে। পরে ঢাকায় (সিএসএসডি)ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বেশ কয়েকবার চিঠি চালাচালির পর নিমিইউ-এর একটি প্রতিনিধি দল এখানে আসে এবং তারা জানায় মেশিনটি আর ব্যবহার করা সম্ভব না। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর ওই নামে একটি নতুন মেশিন খুমেক হাসপাতালে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। মেশিনটি সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারদের মাধ্যমে স্থাপন করে গত শনিবার থেকে যাত্রা শুরু করে। মেশিনটির মাধ্যমে গতকাল বুধবার পর্যন্ত রোগীদের চিকিৎসার প্রয়োজনে ৫ জনকে বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের সদস্যসচিব ও মেডিকেল অফিসার ডা: মো. জিল্লুর রহমান তরুন বলেন, যন্ত্রটি যখন নষ্ট ছিলো তখন থেকেই থ্যালাসেমিয়া রোগীদের রক্তের উপাদান আলাদা করে দেওয়া সম্ভব হতো না। অভিভাবকেরা বাইরে থেকে সেটি করিয়ে নিচ্ছেন অথবা পুরো রক্তই এক সঙ্গে দিচ্ছেন। খুলনা বিভাগের মধ্যে সরকারিভাবে আর কোনো হাসপাতালে এ ধরনের যন্ত্র নেই। এখন নতুন যন্ত্রটি আসার পর এবং চালু হওয়াতে গরীব ও অসহায় রোগীরা স্বস্তির নি:শ^াস ফেলেছেন। তিনি বলেন, বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের রক্ত দেওয়া থেকে শুরু করে সব ধরনের চিকিৎসা সেবা সরকারিভাবে ফ্রি তে করা হয়। তিনি বলেন, সেল সেপারেট মেশিনের মাধ্যমে এক ব্যাগ রক্ত থেকে ৩টি উপাদান বের করা হয়। রক্তের লহিতকণিকা, রক্তের তরল অংশ (প্লাজমা) ও রক্তের প্লাটিলেট আলাদা করার কাজে ব্যবহার করা হয় এ মেশিন। এছাড়াও পাজমা অ্যাফারেসিস মেশিনের মাধ্যমে রোগীর শরীরে চাহিদা অনুযায়ী সরাসরি প্লাজমা বা প্লাটিলেট প্রবেশ করানো যায়। যা অন্য পদ্ধতিতে করতে গেলে সৃষ্টি হয় নানা জটিলতার। এছাড়াও এই মেশিন দুইটি রোগীর নানা রকম চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় বলে জানান তিনি। গত শনিবার মেশিনটি রান করা হয়েছে। আরও একটি মেশিন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ওই মেশিনটিও খুব তাড়াতাড়ি চলে আসবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, ‘ব্লাড সেল সেপারেটর’ নামের ওই যন্ত্র দিয়ে রক্তের লোহিত কণিকা, অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেট ও প্লাজমা আলাদা করা যায়। রক্তদাতার কাছ থেকে যে পরিমাণ রক্ত সংগ্রহ করা হয়, তার পুরোটা অধিকাংশ সময় রোগীর লাগে না। কিন্তু উপাদান আলাদা করার যন্ত্রটি যদি হাসপাতালে না থাকে, সে সময় পুরো রক্ত দিতে হচ্ছে রোগীকে। এতে একদিকে যেমন রক্তের অপচয় হচ্ছে, আবার অনেক সময় রোগীরা নতুন জটিলতায় পড়ছেন। এখন মেশিনটি পুনরায় খুমেক হাসপাতালে চালু হওয়াতে অসহায় ও গরীবরা বিশেষ করে যাদের রোগ জটিল তাদের জন্য এ মেশিনটি একটি আশির্বাদ স্বরূপ। এছাড়া সেবার মানের দিক থেকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো।



