স্থানীয় সংবাদ

পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হামলায় একই পরিবারের তিনজন আহত গ্রেফতার ১

যশোর ব্যুরো ঃ পূর্ব শক্রতার জের ধরে তুচ্ছ ঘটনায় একই পরিবারের বাপ মা ও ছেলেকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে গলায় থাকা ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারী দুপুরে কোতয়ালি থানায় মামলাটি করেছেন, যশোর সদর উপজেলার ১নং হৈবতপুর ইউপি,৭নং ওয়ার্ডের বানিয়ালী গ্রামের শফিয়ার রহমানের স্ত্রী মোসাঃ সুফিয়া বেগম। মামলায় আসামী করেন, একই গ্রামের সাখাওয়াত হোসেন খোকনের ছেলে শিমুল হোসেন, মৃত মালেক মন্ডলের ছেলে সাখাওয়াত হোসেন খোকন,সহোদর লিটন হোসেন ও সাখাওয়াত হোসেন খোকনের স্ত্রী মোছাঃ ফরিদা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা ২জন। পুলিশ এজাহার নামীয় আসামী শিমুল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে। মামলায় বাদি উল্লেখ করেন, আসামীদের সাথে বাদির পুর্ব হতে শত্রুতা চলে আসছে। শত্রুতার জের ধরে আসামীরা বাদিসহ তার পরিবারের সদস্যদের মারপিট খুন জখম করার হুমকী প্রদানসহ সুযোগ খুঁজতে থাকে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারী বিকেলে আসামীদের পোষা একটি গরু বাদির বাড়িতে ঢুকে বাড়িতে থাকা ঘাস খেতে থাকলে বাদি গরুটি তাড়িয়ে দিয়ে বাড়ি হতে বের করে দেয়। এতে আসামীরা রেগে দিয়ে পুর্ব শত্রুতার বিষয়কে পুঁজি কওে বাদিসহ তার পরিবারের সদস্যদেও মারপিট করার হুমকী দেয়। ওই দিন বিকেল ৫ টা ৫৫ মিনিটের সময় সকল আসামীরাসহ অজ্ঞাতনামা আসামীরা হাতে দেশীয অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাদিরে বাড়িতে প্রবেশ করে। পূর্ব শত্রুতার জের ধওে বাদিসহ সদস্যদেও অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। বাদির স্বামী শফিয়ার রহমান গালিগালাজ করতে নিষেধ করায় আসামীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে সাখাওয়াত হোসেন খোকনের হুকুমে ও সহযোগীতায় সকাল আসামীরা বাদির স্বামীকে এলোপাতাড়ীভাবে মারপিট জখম করে। শিমুল ধারালো রামদা দিয়ে বাদির স্বামীকে খুন করার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ মারলে ঘুরে দাঁড়ালে কোপ শফিয়ার রহমানের ঘাড়ের পিছনে লেগে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। সাখাওয়াত হোসেন খোকন একই ভাবে বাদির স্বামীকে খুন করার উদ্দেশ্যে ধারালো হাসুয়া দিয়ে মাথায় কোপ মারলে স্বামী নিজেকে বাঁচানোর জন্য সড়ে দাঁড়ালে আঘাত লক্ষভ্রষ্ট হয়ে ডান বাহুতে লেগে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। ওই সময় বাদির স্বামীর ডাক চিৎকারে বাদির ছেলে আকিদুল ইসলাম (২৫) ঠেকাতে গেলে সকল আসামীরা তাকে এলোপাতাড়ী মারপিট কওে জখম করে। লিটন হোসেন রামদা দিয়ে ছেলৈ আকিদুল ইসলামকে খুন করার জন্য মাথায় কোপ মারলে ঠেকাতে গেলে কোপ বাম হাতের কনুই লেগে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। লিটন হোসেন বাদির ছেলের পিঠে কোমরের কাছে কোপ মেওে কাটা রক্তাক্ত জখম করে। বাদির ছেলে ও স্বামীর ডাক চিৎকারে বাদি এগিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করলে সকল আসামীরা বাদিকেও মারপিট শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারপিট করে নীলাফোলা জখম করে। আসামী মোছাঃ ফরিদা বেগম বাদির গলায় থাকা ৮ আনা ওজনোর স্বর্নের চেইন ছিড়ে নেয়। সকল আসামীরা বাদি ও তার স্বামী এবং ছেলেকে একই ভাবে মারপিট অব্যাহত রাখলে ডাকচিৎকাওে স্থানীয় লোকজনসহ অনেকে এগিয়ে আসলে আসামীরা পরে বাদির পরিবারকে খুন করার হুমকী দিয়ে চলে যায়। বাদির স্বামী ও ছেলের অবস্থা খারাপ হওয়ায় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় চিকিৎসার জন্য দ্রুত ইজিবাইক যোগে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি। বর্তমানে বাপ বেটা চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এজাহার নামীয় আসামী শিমুল হোসেনকে গ্রফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button