রূপসায় নোংরা পরিবেশে খাবার পরিবেশন : স্বাস্থ্য ঝুঁকি চরমে

মোঃ বেনজীর হোসেন, রূপসা হতে ঃ রূপসা উপজেলা অধিকাংশ খাবার হোটেলে খোলা এবং নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে সব প্রকার খাবার।
ছোট-বড় রেস্তোরাঁ ও ভ্রাম্যমান খোলা খবারের দোকানগুলোয় ধুলাবালুর মধ্যেই খাবার প্রস্তুত ও বিক্রি চলছে। কোনো প্রকার স্বাস্থ্যবিধিই মানা হচ্ছে না। খোলা জায়গায় পুরি, পিঁয়াজু, শিঙাড়া, আলুর চপ, ছোলা, চটপটি, পুরি, হালিম, নেহারী তৈরি হচ্ছে। এছাড়া রাস্তার পাশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিক্রি হচ্ছে ডিম ভাত ও ডিম খিচুড়ি; যা পথচারী ও ভ্যানচালকসহ নিম্ন-আয়ের মানুষের নিত্যদিনের পছন্দের খাবার। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এসব খাবার হোটেল ও ভাসমান দোকানে রান্নার কাজে ব্যবহার হচ্ছে অত্যন্ত নিম্নমানের ভোজ্যতেল। বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদনকারী কারখানার তেলের ড্রামের ময়লা ও উচ্ছিষ্ট থেকে সংগ্রহ করা তেলও ব্যবহার করা হয়। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণস্থানে বেশিরভাগ খাবার হোটেল বা রেস্টুরেন্টগুলোর বাইরের দৃশ্য চকচকে থাকলেও খাবার তৈরির জায়গা দেখলে সচেতন মানুষ আঁতকে উঠবেন। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে চাকচিক্য পরিবেশে। সরেজমিনে দেখা যায়, কাজদিয়া, আলাইপুর,আইচগাতি বাস স্ট্যান্ড, শ্রীফলতলা- পালের বাজার, আব্দুলের মোড়, ইলাইপুর, সামন্তসেনা, রূপসা বাস স্ট্যান্ড, চর-রূপমা, ন্যাশনাল সী-ফুড মোড়, রবের মোড়, পূর্ব- রূপসা বাজার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাসহ জাবুসা, রূপসা ব্রীজের মহাসড়কের দু’পাশ ও রূপসা ঘেয়াটের দু’পাশ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে অবাধে বিক্রি হচ্ছে খোলা খাবার। স্থানীয়রা জানান, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রি করা অধিকাংশ হোটেলের কোনো লাইসেন্স বা সরকারি অনুমোদন নেই। কোনো প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না এসব খাবার দোকানের মালিকরা। ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধিও মানা হচ্ছে না হোটেলগুলোয়। বিভিন্ন হোটেল ও খোলা খাবারের দোকানে প্রতিনিয়ত খাবার খেয়ে শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষ পেটের পীড়ায় ভুগছেন। অনেকে গ্যাস্ট্রিক, আলসার, আমাশয় ও বদহজমসহ পেটের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তারা বলছেন, কর্মস্থলে এসে এসব হোটেল ছাড়া অন্য কোথাও খাবার খাওয়ার উপায় থাকে না তাদের। এ ব্যাপারে রুপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত স্যানিট্যারি ইন্সপেক্টর আনজুয়ারা বেগম বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রকাশ্যে খোলা খাবার খাওয়া, বিক্রি ও পরিবশেন করা কতটা যে স্বাস্থ্যঝুঁকি, সে সম্পর্কে আমরা চিন্তা করি না। অকপটে খেয়ে ফেলি। অথচ এসব খোলা খাবার খাওয়ার কারণে ডায়রিয়া, জন্ডিস, কিডনি, লিভার, ডায়াবেটিসসহ নানা রোগ হতে পারে।
তিনি বলেন, মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে যাতে পথে-ঘাটে কেউ খোলা খাবার না খায়। এমআরও ডাক্তার পিকিং সিকদার বলেন, অস্বাস্থ্যকর খাবার বলতে আমরা শুধু তৈরিকৃত খাবারকে বুঝায় না। খাবারটি উৎপাদনের ক্ষেত্রে ক্ষতিকারক সার কীটনাশক সহ অন্যান্য ক্ষতিকারক পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে কিনা সেটিও দেখতে হবে। পাশাপাশি খাবার তৈরির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। যেমন খাবারটি বিষক্রিয়া মুক্ত করার জন্য রান্না করার আগে ৩০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। তা সম্পূর্ণরূপে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তৈরি করতে হবে এবং পরিবেশনের আগে ও খাওয়ার আগে জীবাণু নাশক দিয়ে হাত ধোয়া সহ পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। এগুলো মানা হলে তবেই আমরা ওই খাবারকে নিরাপদ খাবার বলবো। নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করতে হলে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এ জন্য আমরা স্কুল থেকে শুরু করতে পারি। স্কুলে স্বাস্থ্যবিধির উপরে ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করার ক্ষেত্রে একটি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। মানুষকে যদি পুরোপুরি সচেতন করা যায় তবেই নিরাপদ খাবার আমরা খেতে পারব। খোলা পরিবেশে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা খাবার পরিবেশন স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং অস্বাস্থ্যকর ভোজ্যতেল ব্যবহার করে খাবার তৈরি করে তা পরিবেশন করলে নানা ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে। এমনকি ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতা আছে। আমার সুপারিশ থাকবে এধরনের খাবার সবাই যেন পরিত্যাগ করি। যারা খাবারটি পরিবেশন করছে ও উৎপাদন করছে তাদের অবশ্যই স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রাখা উচিত। খাবারের সঙ্গে যারা জড়িত রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযান অব্যাহত রেখে অনিরাপদ খাবার কে সমাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নোংরা পরিবেশে হোটেল পরিচালনাকারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। অনেকে বাসি-পচা খাবারও বিক্রি করছে-এদেরও শাস্তির আওতায় আনতে হবে।



