স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় দু’ প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাজা

পরোয়ানা জারি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে

স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনায় সাজাপ্রাপ্ত দু’ প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারী হলেও গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ। গ্রেপ্তার এড়িয়ে যথারীতি দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তারা। দু’ কর্মকর্তা হলেন বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উপ-পরিচালক মোঃ মোসলিম উদ্দিন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম। মামলা নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে জাল সার্টিফিকেটে চাকুরী করছেন এমন অভিযোগে জেলার তেরখাদা উপজেলার ইখড়ি কাটেঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. তৌহিদুল ইসলামকে বিভাগীয় মামলার মাধ্যমে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করা হয়। ২০১৮ সালে ওই শিক্ষক চাকুরীতে বহাল ও বকেয়া বেতন ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দাবী করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, খুলনা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগীয় উপ-পরিচালক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রতিপক্ষ করে খুলনা প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে এ.টি ১১/২০১৮ নং মোকদ্দমা দায়ের করে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা সূত্রে ২০২১ সালের ২৯ নভেম্বর শিক্ষক পক্ষে রায় পায়। সরকার পক্ষ রায়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালে ২১১/২০২২ নং মোকদ্দমা দায়ের করলে তা নামঞ্জুর হয়। এরপর সরকার পক্ষ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সিভিল পিটিশন ফর লিভ-টু-আপিল মোকদ্দমা নং- ১২৩৩/২০২৩ দায়ের করে। সিভিল পিটিশন ফর লিভ-টু-আপিল মোকদ্দমা ২০২৪ সালের ১৩ মে নামঞ্জুর হয়। সেইসাথে আপিল ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রাখে অর্থাৎ মূল মোকদ্দমার রায় ডিগ্রী বহাল ও বলবৎ থাকে। অন্যদিকে রায় বাস্তবায়নে শিক্ষক মো. তৌহিদুল ইসলাম প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে প্রচারিত রায় ডিগ্রী বাস্তবায়নে ২০২২ সালের ১ নভেম্বর বাস্তবায়ন-জারী মোকদ্দমা নং- ০৪/২০২২ মামলা দায়ের করেন। দায়িপক্ষ ওই শিক্ষক-কে চাকুরিতে পুনর্বহাল না করায় আদালত বিগত ২০২৩ সালেই চার কর্মকর্তাকে সিভিল জেলে আটক রেখে প্রার্থীত দাবী আদায়ের জন্য খুলনা জেল সুপার বরাবর খোরাকী বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থের প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ প্রদান করেন। জেল সুপার প্রতিবেদন দাখিল করেন। কিন্তু ধার্য তারিখের মধ্যে প্রতিপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ও ট্রাইব্যুনালের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় ২০২৪ সালের ৪ জুন খুলনা প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপ-পরিচালক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে ১৯৮০ সালের প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আইনের ৭(৬)/৯ ধারা এবং ১৯৮২ সালের প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল রুলস্ এর বিধি-৭ তৎসহ দেওয়ানী কার্যবিধি ২১ আদেশের ৩৭/৩৮/৩৯ বিধি মতে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। কারাদ- কার্যকরী করার জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারী করে আদালত। এব্যাপারে শিক্ষক মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, দু’ কর্মকর্তা দাপ্তরিক কার্যক্রম যথারীতি পরিচালনা করছেন। তবে অজ্ঞাত কারণে পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করছে না। তাই দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি। তবে জানতে চাইলে সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান বলেন, আইনের উর্দ্ধে কেউই না। যেহেতু তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারী রয়েছে। ঈদের পরই গ্রেপ্তার হবে এমনটি জানান তিনি।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button