নিষিদ্ধ ঘোষণা করে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা : জামায়াত

প্রবাহ রিপোর্ট : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, দলের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির ও তাদের সব অঙ্গসংগঠনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সরকারের এই প্রজ্ঞাপনের প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াত। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে সদ্য নিষিদ্ধ দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ ও ‘বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির’ কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। আমরা সরকারের এই অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক ও অন্যায় সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সব স্তরের জনশক্তিকে ধৈর্য ও সহনশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহ্বান জানাচ্ছি। জামায়াত আমির বিবৃতিতে আরও বলেন, সরকার বিভিন্ন অঘটন ঘটিয়ে জামায়াতের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা চালাতে পারে। এ ব্যাপারে দেশবাসী সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সরকারের পাতা ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। জামায়াতের আমির তার দল ও ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মীদেরকে ‘সাংবিধানিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান’ জানান। প্রসঙ্গত, পাকিস্তান আমলে জামায়াত ইসলামী প্রথম নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছিল। ১৯৬২ সালে আইয়ুব খান প্রণীত মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশের বিরোধিতা করার কারণে ১৯৬৪ সালের ৪ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর কর্মকা-ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ওই সময় মওদুদী ও গোলাম আজমসহ দলটির অন্তত ৬০ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ওই বছর অক্টোবরেই আবার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। এরপর স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে। সর্বশেষ তৃতীয়বারের মতো শেখ হাসিনার সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করলো।



