শিববাড়িমোড়ে মৌন মিছিল, দৌলতপুরে বিক্ষোভ

থমথমে খুলনা : সড়কে পুলিশের উপস্থিতি কম
স্টাফ রিপোর্টারঃ কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার পর থেকে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে খুলনায়। ২ আগস্ট সন্ধ্যায় মোহাম্মদনগর এলাকায় আন্দোলনকারীদের পিটুনিতে নিহত হন সুমন ঘরামী।
তিনি খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সোনাডাঙ্গা জোনের সহকারী কমিশনার সৌমেন বিশ্বাসের দেহরক্ষী ছিলেন। ওই দিন তিন দফা সংঘর্ষে পুলিশ, পথচারী ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনন্ত ৫০ জন আহত হন। অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। এ ঘটনার পর থেকে পুলিশের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শনিবার বিকেল ৪ টা পর্যন্ত খুলনার গুরুত্বপূর্ণ মোড় কিংবা সড়কে পুলিশের তেমন উপস্থিতি নেই। কোটা আন্দোলনে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে যেখানে এতদিন খুলনার মোড়ে মোড়ে সাঁজোয়া যান, জলকামানসহ প্রস্তুত দেখা গেছে পুলিশকে, সেখানে শনিবারের চিত্র ভিন্ন। তবে শিববাড়ি মোড়ে বিকেলে পুলিশ মোতায়েন করা হলো তাদের মধ্যে ছিল না তেমন প্রস্তুতি। গা ছাড়া ভাব নিয়ে তাদের ডিউটি করতে দেখা যায়। কেন পুলিশের কোনো কার্যকলাপ নেই সে ব্যাপারে বাহিনীর কোনো কর্মকর্তা বক্তব্য দেননি। নিরালা এলাকার ইজিবাইক চালক মো. এজাজ বলেন, সকাল থেকে গল্লামারী, নিরালা, ময়লাপোতা, রূপসা, শিববাড়ি মোড়, সোনাডাঙ্গা বাস স্ট্যান্ড এলাকায় যাত্রী নিয়ে কয়েক দফা যাওয়া আসা করেছি। বিকেল ৪টা পর্যন্ত সড়কে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখিনি। এদিকে শিক্ষার্থীসহ নিরপরাধ জনসাধারণ হত্যা ও নিপীড়নের প্রতিবাদ এবং বিচারের দাবিতে খুলনায় মানববন্ধন ও মৌন মিছিল করেছে নর্দান ইউনিভার্সিটির সাধারণ শিক্ষকরা। শনিবার দুপুরে বৃষ্টি উপেক্ষা করে নগরীর শিববাড়ি মোড়ে খুলনার সাধারণ শিক্ষকবৃন্দের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন শেষে শিক্ষকরা মৌন মিছিল করেন। মিছিলটি নগরীর শিববাড়ি মোড় থেকে মোল্লা বাড়ির মোড় ঘুরে ফের শিববাড়ি এসে শেষ করে। এসময় তারা ছাত্রছাত্রীদের বুকে আর যেন একটা গুলি না করা হয় সে আহ্বান জানান।
কেএমপির ডিসি ডিবি মোঃ নুরুজ্জামান বলেন, শনিবার যেহেতু ছাত্রদের তেমন কোন কর্মসূচী ছিল না, তাই পুলিশের উপস্থিতি কম দেখা গেছে। তবে পর্যাপ্ত পুলিশ মাঠে আছে বলে তিনি দাবি করেন। এর আগে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় খুলনায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ কনস্টেবল সুমন ঘরামীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় শুক্রবার রাতে লবণচরা থানার এসআই মোস্তফা সাকলাইন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এ মামলায় অজ্ঞাত পরিচয়ে ১ হাজার ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমতাজুল হক বলেন, এ মামলায় কেউ গ্রেপ্তার নেই। নিহত সুমন ঘরামীর মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে খুলনা পুলিশ লাইনে নিহত সুমনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার মো. মোজাম্মেল হকসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এরপর সুমন ঘরামীর গ্রামের বাড়ি বাগেরহাট জেলার কচুয়ায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবার বিকেল ৪টায় সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের খুলনার জিরো পয়েন্ট এলাকায় জড়ো হয় এবং দৌলতপুর বিএল কলেজ সংলগ্ন যশোর রোডে জড়ো হয়। দৌলতপুরে ছাত্ররা বিপ্লবী সংগীত পরিবেশন করে।



