পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতি ও হাজার হাজার কোটি টাকা আতœসাতের অভিযোগ বিএনপি’র

খুলনায় জোয়ারের পানিতে বাঁধ ভেঙে ২০টি গ্রাম প্লাবিত
স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে বিএনপি’র নগদ অর্থ বিতরণ
আনিছুর রহমান কবির ঃ খুলনার পাইকগাছা ও দাকোপ উপজেলার দুটি স্থানে বাঁধ ভেঙে ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। ভদ্রা নদীর জোয়ারের অতিরিক্ত পানির চাপে পাইকগাছা উপজেলার দেলুটি ইউনিয়নের কালিনগর এলাকার ওয়াপদার বাঁধ ভেঙ্গে সেখানকার ২২ নং পোল্ডার এলাকার কালিনগর, হরিনখোলা, দারুণমল্লিক গ্রামসহ ১৪ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অপরদিকে দাকোপের পানখালীর খলিসায় বাঁধ ভেঙে ৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে এ গ্রামগুলোতে লক্ষাধিক মানুষ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এতে করে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির পাশাপাশি ভেসে গেছে বহু মাছের ঘের ও আমনের বীজতলা। বেড়িবাঁধ নির্মাণে আওয়ামী লীগের এমপি মন্ত্রী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপির। স্বেচ্ছাসেবকদের মাঝে নগদ ২ লক্ষ বিতরণের সময় এ কথা বলেন বিএনপির সদস্য সচিব। শুধু বিএনপি নয় বেড়িবাঁধ সংস্কার ও নির্মাণ নিয়ে নানা দুর্নীতির কথা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় এমপি ও চেয়ারম্যানদের না পেয়ে নিজেরাই নিজেদের রক্ষার্থে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করেন স্থানীয়রা।
ভারতীয় পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে ডুবছে দেশের বেশ কয়েকটি জেলা। এরই মাঝে গতকাল জোয়ারের পানিতে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার একটি বাঁধ ভেঙে ১৪ টি গ্রাম এবং দাকোপ উপজেলায় ৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে লাখ লাখ মানুষ পানির নিচে । পানি উন্নয়ন বোর্ড স্থানীয় এমপি ও চেয়ারম্যানদের দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে চাপা ক্ষোভ ব্রাশ করছে সাধারণ মানুষের মাঝে। রুপা রানী নামে এক গৃহবধূ বলেন , আমাদের অবস্থা খুব খারাপ জিনিসপত্র ধান কোথায় কি রেখেছে নিজেরাও জানিনা পানিতে সব নিয়ে গেছে। ইসলামী আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবীরা বলেন, এখানে ভয়াবহ পরিস্থিতি, রাতে ঘুম থেকে উঠেই দেখছেন নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। রিপন নামে এক গ্রামবাসী বলেন ,বেড়িবাঁধ ভাঙলে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এমপি মন্ত্রীদের পকেট ভরে ।কারণ তারা বরাদ্দের নামে টাকা আত্মসাৎ করতে পারে।
স্থানীয় সাবেক এক চেয়ারম্যান বলেন, এ সকল বেড়িবাঁধ নির্মাণে যে সকল টাকা বরাদ্দ আসে ,তার অর্ধেক টাকাও যদি ব্যয় করা হতো তাহলে আমাদের বাঁধের অবস্থায় এটা হতো না, আজ এই পানিবন্দী থাকতে ও হত না। পানি উন্নয়ন বোর্ড আর এমপি মন্ত্রীরা মিলে লুটপাট করে করে খাচ্ছে এগুলো। তাদের দুর্নীতির কারণেই আজ আমরা পানিবন্দী।
খুলনা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম তুহিন পাইকগাছা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দের মাঝে ত্রাণ
বিতরণের সময় বলেন, পাইকগাছা, কয়রা, দাকোপের মানুষ গত ১৬টি বছর ফ্যাসিজ সরকারের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিগত সরকারের আমলে এমপি মন্ত্রী ও চেয়ারম্যান নিজেরাই ঠিকাদার বনে গিয়েছিল, এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধু কিছু কর্মকর্তার সহযোগিতায় বাঁধ নির্মাণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে । তাদের এই লুটপাটের কারণে আজ লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল আলম বলেন,বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছেন বলে জানান এবং সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্কেভেটর সহ একজন এস ও সর্বক্ষণিক পরিদর্শন করছেন। দুর্নীতির বিষয়টি এখন নয় ,আপাতত বাঁধ টি নির্মাণ হোক, তারপর বাকি কাজ করা যাবে বলে তিনি জানান।
সামান্য জোয়ারের পানিতে ভেঙে যাচ্ছে বেড়িবাঁধ ,ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। এ যেন প্রতিবছরের নিত্য দিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে কয়রা দাকোপ ও পাইরগাছা এলাকাবাসীর জন্য। এ দুর্ভোগ থেকে স্থায়ী মুক্তি চাই এলাকাবাসী।



