গাজিরহাট ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

প্রকল্পের কাজ না করে অর্থ আত্মসাৎ
সরকারী কাজে বাধা ও কর্মকর্তাদের হুমকি
সরকারী জমি দখল ও গাছ কর্তন
স্টাফ রিপোর্টার : খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোল্লা মফিজুল ইসলাম ঠান্ডু’র বিরুদ্ধে অনিয়ম- দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে উঠেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের পর আত্মগোপনে চলে যান চেয়ারম্যান মোল্লা মফিজুল ইসলাম ঠান্ডু। তিনি আত্মগোপনে বসে পরিষদের সকল কর্মকান্ড করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তিনি থানা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও সাবেক এমপির আস্থাভাজন। আওয়ামীলীগ সরকার দলীয় প্রভাবশালী চেয়ারম্যান হওয়ার সুবাদে ও দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সরকারী জমি দখল, সরকারী গাছ কর্তন করে বিক্রি,টিআর-কাবিটা প্রকল্পকের কাজ না করে অর্থ আৎসাত,শিক্ষক নিয়োগ,শালিসের নামে টাকা আদায়,গভীর নলকূপ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়,ট্রেড লাইসেন্স,এলজি এসপি প্রকল্প, হাট বাজার,উন্নয়ন তহবিল, উপজেলা পরিষদের বরাদ্দ, ও কর্মসৃজন প্রকল্পসহ সরকারের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের চরম ক্ষোভ বিরাজ করলেও সরকার দলীয় প্রভাবশালী চেয়ারম্যান হওয়ায় ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না কেউ।
তিনি সদস্যদের সঙ্গে কোনো ধরনের সমন্বয় ও পরামর্শ ছাড়াই মনগড়া পরিষদ চালান। প্রতি অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদের লাখ লাখ টাকা ট্যাক্স উত্তোলন করে সরকারের কোষাগারে টাকা জমা হয়েছে কি না তা পরিষদের কোন সদস্য জানেনা। জন্মনিবন্ধন ও ট্রেড লাইসেন্সের টাকার হিসাব না থাকা, বিভিন্ন সনদ দিতে সরকার নির্ধারিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত টাকা আদায়, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ, বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ না করিয়ে অর্থ উত্তোলন ও আত্মসাৎ, ইউনিয়ন পরিষদের আয়ের টাকা অ্যাকাউন্টে জমা না করে ইউপি চেয়ারম্যানের নিজে ব্যয় করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্বে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গাজীরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোল্লা মফিজুল ইসলাম ঠান্ডু নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। তিনি ইউনিয়ন পরিষদের কোনো সদস্যের সঙ্গে আলোচনা না করে নিজের ইচ্ছামতো খরচ করেন। এর মাধ্যমে অল্প দিনেই মোল্লা মফিজুর ইসলাম ঠান্ডু কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার নামে-বেনামে রয়েছে অঢেল সম্পত্তি।যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে।
ইউপি সদস্যরা প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের হুমকি-ধামকি দেন। চেয়ারম্যানের ও তার লোকজনের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না কোন ইউপি সদস্য। এ ছাড়া সাধারণ মানুষের কাছ থেকে শুরু করে দিনমজুর, ভিক্ষুক ও খেটে খাওয়া মানুষের কাছ থেকেও অতিরিক্ত ট্যাক্স নেন চেয়ারম্যান। যারা সেটা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তারা নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ কায়েম সনদসহ ইউপির সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।
সূত্র জানায়, গত ১০ জুলাই দিঘলিয়ার উপজেলার গাজীরহাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনে গাজিরহাট বাজারের মচন্দপুর মৌজার সরকারি খাস খতিয়ানের জমিতে চেয়ারম্যানের বডিগার্ড ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও ভূমিদস্যু রুবেল সরদার অবৈধভাবে দখল করে মার্কেট নির্মাণ করছিল । এ সংবাদ পেয়ে সহকারী কমিশনার ভূমি দেবাংশু বিশ্বাস ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অবৈধ দখলকারীদের স্থাপনা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া সময় মোল্লা মফিজুর ইসলাম ঠান্ডু তাকে ভাঙ্গতে বাধা দেয়। সহকারী কমিশনার ভূমি দেবাংশু বিশ্বাস তার কথা আমলে না নিলে তাকে প্রকাশ্যে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সহকারী কমিশনার ভূমি দেবাংশু বিশ্বাসকে দেখে নেবে ও এক সপ্তাহের মধ্যে বদলি করবে বলেও হুমকি দেয়। এছাড়া গত ২৮ ফেব্রুয়ারী বিকেলে উপজেলার কোলা-গাজিরহাট সড়কের ডোমরা গাজীপাড়ায় সড়কের পাশের ৩টি সিরিষ ও ১টি চম্বল গাছ শ্রমিকরা কর্তণ করছে। দিঘলিয়া নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে গাছ জব্দ করে মাঝিরগাতী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ সুব্রত কুমার বিশ্বাস। এ সময় সেখানে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা ও গাজীপাড়া মসজিদের সভাপতি গাজী গিয়াস উদ্দিনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, গাজিরহাট ইউপি চেয়ারম্যান মোল্লা মফিজুল ইসলাম ঠান্ডু’র নির্দেশেই তিনি গাছ কাটছেন। ইউএনওকে ম্যানেজ করার দায়িত্ব ছিল চেয়ারম্যানের। গাছ বিক্রি করে মফিজুল ইসলাম ঠান্ডু নিয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, গাজীরহাট ইউনিয়ন জুড়ে প্রতিনিয়ত রাস্তার দু পাশের সরকারী গাছ কেটে বিক্রি করা হয় চেয়ারম্যানের নির্দেশেই। ইউপি চেয়ারম্যান মোল্লা মফিজুল ইসলাম ঠান্ডু সকল বিষয় অস্বীকার করে বলেন, গাজীরহাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনে সরকারি খাস খতিয়ানের জমিতে ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক রুবেল সরদার মার্কেট নির্মাণ করছে। রুবেল সরদার তার বর্ডিগার্ড বলেও স্বীকার করেন তিনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাসুম বিল্লাহ এ প্রতিবেদক বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবাংশু বিশ্বাস গাজীরহাটে অবৈধ দখলকারীদের স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে গেলে মোল্লা মফিজুর ইসলাম ঠান্ডু ভাঙ্গতে বাধা দেয়। যা আমার উর্দ্বতন কর্তপক্ষকে জানানো হয়েছে।



