বিভিন্ন অজুহাতে নগরীর সবজি বাজার চড়াও!

বন্যা ও ভারী বর্ষণে ফসল নষ্টের কারণ দেখিয়ে বাড়তি দামে বিক্রি
সবজি কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বল্প আয়ের মানুষ
মোঃ আশিকুর রহমান ঃ সম্প্রতি সময়ে দেশে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি সর্বস্তরের মানুষকে বেশ ভাবিয়ে তুলছে। ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালি, চট্টগ্রাম, ব্রাক্ষনবাড়িয়া, খাড়রাাছড়ি, রাঙামাটি, কক্সবাজার, লক্ষèীপুর, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে বন্যা দেখা দিয়েছে, যা স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি। ওই সকল এলাকার বানভাসী মানুষের আর্তনাতে গোটা দেশ মর্মাহত। বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের পাশে দাড়াতে গোটা দেশ কাজ কাজ করছে। যে যেভাবে পারছে সহায়তার হাত বাড়াচ্ছে। একই সাথে খুলনার পাইগাছা এলাকা বেড়িবাধ ভেঙে গিয়ে ওই এলাকার শত শত মানুষ পানিবন্দি। তাদের সহয়তার জন্যও খুলনার সর্বস্তরের মানুষ, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলো বিরতিহীনভাবে কাজ করছে। তারপর আবার মরার উপর খাড়ার ঘাঁ। কয়েকদিনের লাগাতার বৃষ্টিপাতের কারণে দূর্ভোগ আরো বেড়েছে।
একদিকে দেশের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি, অন্যদিকে খুলনা পাইকগাছা এলাকায় পানিবন্দী মানুষের হাহাকার, ঠিক সেই মুহুর্তে দেশের বন্যা পরিস্থিতি ও ভারী বর্ষণে সবজি নষ্টের অজুহাতে নগরীর বাজারগুলোতে হুড়হুড় করে বেড়ে চলেছে প্রতিটি সবজির দাম। নগরীর সবজি বাজার ঘুরে জানা গেছে, বন্যা ও কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিরপাতের কারণে কৃষকের ক্ষেতের সবজি নষ্ট হয়েছে। একই সাথে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে স্থানীয় এলাকার ঘের পাড়ের সবজির নষ্টের কারণে বাজারে বর্তমানে সবজির সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম বলে জানিেেয়ছেন ব্যবসায়ীরা। তবে বাজারে আসা ক্রেতারা বলছেন, বাজারে যে কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্য কিনতে গেলে তার পেছনে সিন্ডিকেট আছে। এখন বন্যা, ভারী বর্ষা, গরমের সময়ে তাপদাহের কারণে সবজির ক্ষতি এসব কারণ সারা বছর লেগে থাকে। এ সকল কারণ পুজি করে ব্যবসায়ীরা সারা বছর দিব্বি ব্যবসা করে যাচ্ছেন। তবে এদেশে এই দূর্যোগময় মুহুর্তে প্রতিটি ব্যবসায়ীকে মানবিক হতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন সাধারন ক্রেতারা।
বৃহস্পতিবার (২৯ আগষ্ট) নগরীর সবজি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন ৭০ টাকা, উচ্ছে ৬০ টাকা, পাতা কপি ৮০ টাকা, বরবটি সীম ৭০ টাকা, কঁচুর লতি ৭০ টাকা, কঁচুরমুখি ৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা, কাকরোল ৮০টাকা, শষা ৪০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, পেপে ৫০ টাকা, কুশি ৬০ টাকা, পুইশাক ৪০ টাকা, ঢেড়শ প্রতি কেজি ৭০ টাকা, লাউ প্রতি পিছ ৬০ টাকা, জালি প্রতি পিছ ৪০ টাকা, কলা প্রতি হালি ৩০টাকা বিক্রি হচ্ছে। কাচাঝাল বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। থেমে নেই পেয়াজ ও আলুর দামও।
নগরীর খুচরা বাজারের একাধীক ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে, বিভিন্ন জেলা শহর হতে খুলনার বাজারে সবজি সরবরাহ হয়ে থাকে। একই সাথে খুলনার স্থানীয় অঞ্চলগুলো হতেও সবজি সরবরাহ হয়ে থাকে নগরীর পাইকারী বাজার গুলোতে। মুকামে বর্তমানে সবজি বাড়তি দামে কেনা লাগছে, কারণ কয়েকদিনের লাগাতার বৃষ্টির কারনে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, ফলে বাজারে চাহিদার তুলনায় বর্তমানে সবজির সরবরাহ কিছুটা কম। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলেন, পাইকারী বাজার হতে যে দামে সবজি কিনি, ক্রেতাদের নিকট কেজি প্রতি ৮/১০ টাকা বেশি দরে বিক্রি করি, তার মধ্যে তো খরচ-খরচা আছে। অপরদিকে বাজারে আসা ক্রেতা সাধারনত জানিয়েছেন, বিক্রেতা যে অজুহাতে সবজির বাড়তি দাম নিচ্ছে এটা রীতিমতো ডাকাতিরই মতো। কারন একটু বৃষ্টি বেশি হলে কৃষকের ক্ষেত নষ্টের কারনে ফসল ডুবে গেছে, বৃষ্টি না হলে পানির অভাবে ফসল হচ্ছে না। একটা না একটা অজুহাত দেখিয়ে তারা সারা বছরই ক্রেতাদের জিম্মি করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাজার সঠিক মনিটরিং না হওয়ার কারনেই এমন অবস্থা বলে ক্রেতাদের দাবি।
ক্রেতা রফিকুল ইসলাম জানান, সবজি বাজারে যথেষ্ট আমদানী বা সরবরাহ রয়েছে, তবে দাম আকাশ ছোয়া। ৬০ টাকার নিচে কেজির কোনো সবজির দাম নেই। এক’শ টাকা নিয়ে সবজি বাজারে ঢুকলে মাত্র দু’প্রকার সবজিও কেনা যাচ্ছে না, আর মাছ-মাংস, চাল-ডাল তো পরেই থাকলো। সাধারন মানুষ বাচবে কি করে? দাম বাড়তির কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতাদের অজুহাতের শেষ নেই। নানা অজুহাত দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের চোখে ধূলা দিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে সমান তালে। অপর ক্রেতা আফজাল জানান, বাজারে কাচা সবজির গায়ে যেন আগুন লেগেছে। সামান্য কাচা মরিচ তাও ১৬০/১৭০টাকা কেজি। অন্যান্য সবজিও একই অবস্থা, দাম বেশি। আমরা সাধারণ নি¤œ আয়ের মানুষ যাবো কোথায়? বাজার করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছি।
সবজি ব্যবসায়ী শহিদুল জানান, আমরা খুরচা বিক্রিতারা পাইকারী বাজার হতে যে দামে সবজি কিনি, খরচ-খরচা বাদে কেজি প্রতি ৮/১০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করি। কারন সেই ভোর রাত হতে দিনজুড়ে তীব্র গরমের মধ্যে বসে সবজি বিক্রি করি। বাজারে সবজির দাম একটু বাড়তি, মুকামে বর্তমানে সবজি বাড়তি দামে কেনা লাগছে বলে জানিয়েছেন ব্যপারীরা। কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টির কারণে নষ্ট হয়েছে অনেক ক্ষেতের ফসল। বর্তমানে চাহিদার তুলনায় ফসলের উৎপাদন বেশ কমেছে।


