এবার রাশিয়ায় ব্যাপক ড্রোন হামলা ইউক্রেনের

প্রবাহ ডেস্ক: রাশিয়ায় গত শনিবার রাতভর ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। ড্রোন হামলার জেরে রাশিয়ার দুটি জ¦ালানি অবকাঠামোতে অগ্নিকা- ঘটেছে। গত রোববার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রাজধানী মস্কোসহ ১৫টি অঞ্চলে ১৫৮টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইউক্রেন। তবে এসব ড্রোন হামলা প্রতিহত এবং ধ্বংস করা হয়েছে বলে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করে। কয়েক দিন আগে ইউক্রেনের জ¦ালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়া ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। রাজধানী কিয়েভসহ ইউক্রেনজুড়ে অন্তত ২০০টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রুশ বাহিনী। আড়াই বছর ধরে চলা যুদ্ধে ইউক্রেনের ভূখ-ে এটি অন্যতম বড় হামলা। এবার রাশিয়ার ভূখ-ে ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলার খবর এলো। মস্কোর মেয়র জানিয়েছেন, ড্রোন হামলার কারণে মস্কোর একটি তেল শোধনাগারে পৃথক কারিগরি কক্ষে আগুন ধরে যায়। রাজধানী মস্কো ও তার আশপাশে অন্তত ১১টি ড্রোন ছুড়েছে ইউক্রেন। মস্কো থেকে ৭৫ মাইল দূরে একটি অঞ্চলে কোনাকোভো বৈদ্যুতিক কেন্দ্রের খুব কাছে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। রাশিয়ার গণমাধ্যম বিদ্যুৎ অবকাঠামোটিতে আগুন লাগার খবর জানায়। স্থানীয় কর্মকর্তারা মস্কো অঞ্চলে কশিরা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছিল বলে জানিয়েছেন। তবে সেখানে কোনো অগ্নিকা- বা ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ১২২টির মতো ড্রোন ইউক্রেন সীমান্তসংলগ্ন কুরস্ক, ব্রায়ানস্ক, ভোরোনেজ ও বেলগোরোদ অঞ্চলে ধ্বংস করা হয়েছে। বেলগোরদ অঞ্চলের গভর্নর বলেছেন, তিনটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আরেকটি ভবন সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে গেছে। রাশিয়ার সামরিক ব্লগার রাইবার বলেছেন, ২০২২ সালে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরুর পর রাশিয়ার ভূখ-ে গত শনিবার রাতে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলা ছিল সবচেয়ে ব্যাপক। রাইবারের ১৩ লাখ ফলোয়ার রয়েছেন। ইউক্রেন অবশ্য রাশিয়ার ড্রোন হামলার অভিযোগ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। কয়েক মাস ধরেই রাশিয়ার ভূখ-ের ভেতরে দূরপাল্লার আক্রমণ জোরদার করছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। রাশিয়ার কৌশলগত লক্ষ্যস্থলগুলোতে ড্রোন হামলা করছে তারা। বিবিসিকে বলা হয়েছে যে, পশ্চিমা প্রযুক্তি ও আর্থিক সহায়তায় রাশিয়ার ভেতরে শত শত দূরপাল্লার আক্রমণ শানাতে পারছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। এ ছাড়া প্রায় এক মাস ধরে ইউক্রেনীয় বাহিনী সীমান্ত পেরিয়ে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে অভিযান চালাচ্ছে। সম্প্রতি কুরস্কে ইউক্রেনীয় বাহিনীর অগ্রযাত্রা কিছুটা ধীর হয়ে গেছে। তবে গত সপ্তাহে তারা এক হাজার ২৯৪ বর্গকিলোমিটার রুশ ভূখ- দখলে নেওয়ার দাবি করে। তারা রাশিয়ার ৬০০ সেনাকেও বন্দি করার কথা জানায়। কুরস্কে ইউক্রেনীয় বাহিনীর আক্রমণ সত্ত্বেও দমেনি রুশ বাহিনী। তারাও পূর্ব ইউক্রেনে ক্রমাগতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর উভয় পক্ষই জ¦ালানি অবকাঠামোগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছে।
খারকিভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
রাশিয়া গত রোববার ইউক্রেনের খারকিভ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে পাঁচ শিশুসহ অন্তত ৪১ জন আহত হয়েছে। খারকিভের গভর্নর বলেন, রাশিয়া বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। একটি বড় খেলার কেন্দ্র, শপিং মল এবং একটি পার্ক এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে। খারকিভে হামলার কথা ফেসবুকে জানিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আরো অস্ত্র সহায়তা পাওয়ার জন্য কিয়েভের মিত্রদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। এদিকে পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলে পোকরোভস্ক শহরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ ফেসবুকে বলেছেন, পরিস্থিতি খুবই জটিল আকার ধারণ করছে। দোনেৎস্ক অঞ্চলে গোলার আঘাতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এদিকে ইউক্রেনের সুমি অঞ্চলে রাশিয়ার বিমান হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা বলেন, হামলায় একটি লরিতে আগুন ধরে গেলে ২৩ বছর বয়সী চালক প্রাণ হারান। এ ছাড়া আরো চারজন দগ্ধ হন। রাশিয়ার কুরস্কের সীমান্তে সুমি অঞ্চলের অবস্থান। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী জানায়, তারা রাশিয়ার ১১টি ড্রোনের মধ্যে আটটি ধ্বংস করেছে। মাইকোলেভ অঞ্চলে শস্য ও কৃষি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা জানায়। সূত্র : বিবিসি, এএফপি



