স্থানীয় সংবাদ

আরেক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছে খুলনার উন্নয়ন

# জলবায়ূ পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবেলায় খুলনা শহর এলাকার উন্নয়ন (ফেজ- ২) প্রকল্পের অগ্রগতি এগিয়ে যাচ্ছে, সরেজমিনে জার্মান কনসালটেন্টসহ অভিজ্ঞরা #
# দৈনিক প্রবাহে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আশার আলো, দ্রুত শুরু হতে যাচ্ছে দৌলতপুর শহর রক্ষাকারী বাঁধ প্রকল্পের কাজ, প্রকল্প ব্যয় ৪’শ ৯১ কোটি ২৮ লক্ষ ৬১ হাজার টাকা #

মোঃ আশিকুর রহমান ঃ নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নতুন সড়ক নির্মান ও মেরামত, শহরের গুরুত্বপূর্ন মোড় সমূহের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, খুলনাকে গ্রীন ও ক্লিন সিটিতে রুপ দিতে নগরীতে কেসিসি’র উন্নয়ণের কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে। এই ধারবাহিকতায় জলবায়ূ পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবেলায় খুলনা শহর এলাকার উন্নয়ন (ফেজ- ২) প্রকল্পটির অগ্রগতির কাজ এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের কনসালটেন্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া সুসম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের কনসালটেন্ট নিয়োগের পর সার্ভে এবং ডিজাইনের কাজ শুরু হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, অক্টোবর ২০২৪ সালে সার্ভে শুরু হতে পারে বলে নিশ্চিত করেছেন কেসিসি’র পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক আবির-উল-জব্বার। দৌলতপুরের নতুন ভাঙন নিয়ে খুলনার জনপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক প্রবাহে ধারাবাহিক প্রতিবেদনে ভৈরব নদকে ভাঙনের হাত হতে রক্ষা করতে গুরুত্ব দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দৈনিক প্রবাহে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আশার আলো দিখতে যাচ্ছে দৌলতপুরবাসী। দ্রুত সময়েই নির্মাণ হতে যাচ্ছে দৌলতপুর শহর রক্ষাকারী বাঁধ। কেসিসি সূত্রে জানা গেছে প্রকল্প ব্যয়ের ৩৬% শতাংশ (১’শ ৭৮ কোটি ৪৬ হাজার টাকা) সরকার (জিওবি), ৬৩% শতাংশ (৩’শ ১২ কোটি ২৮ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা) জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (কেএফডব্লিউ) এবং ১ কোটি টাকা কেসিসি’র নিজস্ব তহবিল হতে ব্যয় করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নকাল নির্ধারন করা হয়েছে জানুয়ারি ২০২৩ থেকে ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত। ওই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ৮০০ মিটার সোনাডাঙ্গা বাইপাস সড়কের উন্নয়ন, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি টাকা, ১৪,৭৪৫.৫৫ মিটার ড্রেনেজ সিস্টেম আপগ্রেডিং ঃ নবীনগর, সোনাডাঙ্গা, বাস্তহারা সাব-ক্যাচমেন্ট এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯০ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকা ৪,৮১৫ মিটার খাল আপগ্রেডিং ঃ নিরালা খাল, বাস্তহারা খাল, দেয়ানা চৌধুরী খাল, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা, ২৫০০ বর্গমিটার রুপসা রিভারফ্রন্ট উন্নয়ণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা, ২৩টি পুকুর উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭ কোটি ৮৩ লক্ষ টাকা, ৭৭৫ মিটার শহর রক্ষাকারী বাধা নির্মান (দৌলতপুর বাজার+ মহেশ্বরপাশা শশ্মান ঘাট) পর্যন্ত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা, আলু তলা আউটলেট গেট আপগ্রেডিং ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা, লবণচরা পাম্পিং স্টেশন ও আউটলেট গেট নির্মাণে ৭৪ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা, ভূমি অধিগ্রহন/ক্রয় (পাম্প হাউজ নিমার্ণ, খাল প্রশস্তকরণ ও রিভারফ্রন্ট উন্নয়ন), পূনর্বাসন ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ৯৮ লক্ষ টাকা। আশা করা যাচ্ছে প্রকল্পটি বাস্তবায়ণ হলে জলবায়ূ পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবেলায় খুলনা শহর এলাকার গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে। এতে করে খুলনা আগের ধাপ উন্নয়ণের মুখ দেখবে। বিশেষ করে বহু বছরের ঐতিহাসিক দৌলতপুর বাজার ভৈরবের ভাঙনের হাত হতে রক্ষা, সবমিলিয়ে এই প্রকল্পটি খুলনার জলাবদ্ধা দূরকরণ,পরিবেশ সংরক্ষন, শহররক্ষা বাধের মাধ্যমে দৌলতপুর বাজারকে রক্ষাকরণসহ সার্বিক উন্নয়ণে খুলনা আগামী একটি সুন্দর শহর হিসাবে গড়ে উঠবে বলে আশাকরা যাচ্ছে। বহু বছরের ঐতিহাসিক দৌলতপুর বাজার ভৈরবের ভাঙনের হাত হতে রক্ষার জন্য শহর রক্ষাকারী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ণের জন্য সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে দৌলতপুর বাজার বণিক সমিতির নিজস্ব কার্যালয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ণের সার্বিক বিষয়ে মতবিনিময় করেন প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরাসহ ওয়ার্ড কাউন্সিলর, বাজারের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীবৃন্দ। এসময় প্রকল্পের সংশ্লিষ্টবৃন্দ দৌলতপুর বাজার নদী সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, Embankment/Bank Protection Expert : মোজাম্মেল হোসেন, Regional Director (fichtner)- ক্রিশ্চিয়ান কুপমান, Environmental Expart- ড. মো. কাবিল হোসেন, Landscape Architect- সাবরিনা ইসলাম সামাহা, Social Development And Gender- হেলেন রহমান, GIS Officer- ফেরদৌস হুসাইন, Social Safeguard Officer- নাহিদুর রহমান ইশা, কেসিসি’র ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ মোহাম্মদ আলী, কেসিসি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান, দৌলতপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি শেখ কামাল হোসেন, সাঃ সম্পাদক নান্নু মোড়ল, সিনিঃ সহ-সভাপতি বিএম আসাদুজ্জামান আসাদ বন্দ, দৈনিক প্রবাহের স্টাফ রিপোর্টার মো. আশিকুর রহমান, বনিক সমিতির সহ-সাঃ সম্পাদক শেখ মো. আজিজুর হক (কামবার), কোষাধ্যক্ষ মো. আজিজুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক মো. আকমল গাজী, প্রচার সম্পাদক মো. জাকির হোসেন, ব্যবসায়ী অশোক কুমার কর, মো. মোস্তফা খলিফা, ইদ্রিস আকুজ্ঞীসহ বাজারের ব্যবসায়ীবৃন্দ।
দৌলতপুর বাজার বনিক সমিতির সাঃ সম্পাদক নান্নু মোড়ল জানান, জলবায়ূ পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবেলায় খুলনা শহর এলাকার উন্নয়ন (ফেজ- ২) প্রকল্পটির কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ভেবে খুবই ভালো লাগছে। সোমবার জার্মান কনসালটেন্টসহ এক্সপার্টরা সরেজমিনে ভৈরব নদের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ণ হলে (শহর রক্ষাকারী বাঁধ নির্মান হলে ) বহু বছরের ঐতিহাসিক দৌলতপুর বাজার ভৈরবের ভাঙনের হাত হতে রক্ষা পাবে। খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম ও সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব ও ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ মোহাম্মাদ আলী জানান, জলবায়ূ পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবেলায় খুলনা শহর এলাকার উন্নয়ন ( ফেজ- ২) প্রকল্পের কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রকল্পটি বায়বায়ণ হলে জলবায়ূ পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবেলায় খুলনা শহর এলাকার গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে। এতে করে খুলনা আগের ধাপ উন্নয়ণের মুখ দেখবে। খুলনার জলাবদ্ধা দূরকরণ,পরিবেশ সংরক্ষন, শহররক্ষা বাধের মাধ্যমে দৌলতপুর বাজারকে রক্ষাকরণসহ সার্বিক উন্নয়ণে খুলনা আগামী একটি সুন্দর শহর হিসাবে গড়ে উঠবে বলে আশা করা যাচ্ছে। কেসিসি’র পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক আবির-উল-জব্বার জানান, জলবায়ূ পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবেলায় খুলনা শহর এলাকার উন্নয়ন- ফেজ- ২ (ঈষরসধঃব ঈযধহমব- অফধঢ়ঃবফ টৎনধহ উবাবষড়ঢ়সবহঃ চযধংব ২ (ঈঈঅটউ), প্রকল্পটির অগ্রগতির কাজ এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের কনসালটেন্ট নিয়োগ প্রক্রিয়াপ সুসম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের কনসালটেন্ট নিয়োগের পর সার্ভে এবং ডিজাইনের কাজ শুরু হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, অক্টোবর ২০২৪ সালে সার্ভে শুরু হতে পারে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে খুলনার জলাবদ্ধা দূরকরণ, পরিবেশ সংরক্ষন, শহররক্ষা বাঁধের মাধ্যমে দৌলতপুর বাজারকে রক্ষাকরণসহ সার্বিক উন্নয়ণে খুলনা আগামীতে একটি সুন্দর শহর হিসাবে গড়ে উঠবে বলে আমি আশাবাদী। উল্লেখ্য, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দ্রুত নগরায়ন এবং শহরমুখি ক্রমবর্ধমান জলবায়ু উদ্বাসত্তদের নাগরিক সেবা প্রদান, সর্বোপরি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলার লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়। প্রকল্পের আওতায় নগরীর সোনাডাঙ্গা বাইপাস রোড ও ড্রেন উন্নয়ন, নবীনগর সাব-ক্যাচমেট ড্রেন উন্নয়ন, নিরালা খাল, বাস্তহারা খাল ও দেয়ানা চৌধুরী খাল উন্নয়ন এবং বাস্তহারা খালের সাথে সংযুক্ত ড্রেনসমূহের উন্নয়ন, রূপসা রিভার ফ্রন্ট পার্ক নির্মাণ, মহানগরীর ২৩টি পুকুর উন্নয়ন, দৌলতপুর ও মহেশ্বরপাশায় শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ, মহেশ্বরপাশা শ্মশানঘাট উন্নয়ন, আলুতলা আউটলেট উন্নয়ন, লবনচরায় পাম্পিং স্টেশন ও আউটলেট গেট নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহন করা হবে।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button