জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টারঃ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ অহিদুল আলমের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। ভুক্তভোগী এক নারী শিক্ষিকা গত ১৪ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের নিকট এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,“ডুমুরিয়া উপজেলার শান্তিনগর গুচ্ছগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা কৃষ্ণা বিশ্বাস। তিনি ২ সন্তানের মা। স্বামী একজন দীন মঞ্জুর। স্বামীর শরিকদের সাথে জায়গা-জমি ও অন্যান্য কিছু সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন যাবৎ দ্বন্দ্ব চলমান আছে। এক পর্যায় তারা আমার চাকুরীতে প্রবেশের সময়ে সার্টিফিকেট ভূঁয়া দিয়ে আমি চাকুরীতে আছি” নামে একটি অভিযোগ দাখিল করে। তার সূত্র ধরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার উক্ত অভিযোগের তদন্তকালে আমাকে নানা রকম ভাবে সত্যি কথা বলার জন্য অনুরোধ করে। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, আমি যদি সত্য কথা না বলি তাহলে আমার চাকুরী থাকবে না। আবার যদি তাঁর কথা মত উত্তর লিখি তাহলে তিনি আমাকে মাফ করে দিবেন। আমি স্যারের কথামত তিনি যেভাবে বলেছেন আমি সরল মনে সেইভাবে উত্তর লিখে দেই। কিন্তু হায়! সেটাই হয়েছে আমার ভুল। পরবর্তীতে তিনি আমাকে তাঁর অফিসের স্মারক নং-১৬৯০. তাং ২৯/০৮/২০২৪ এর অফিস আদেশ চাকুরী থেকে বরখাস্ত করেন। এমতাবস্থায় হতদরিদ্র পরিবার পরিজন নিয়ে আমি দিশেহারা। সর্বশেষ আমি গত ১৯ অক্টোবর বিভাগীয় উপ-পরিচালক খুলনা বরাবর ক্ষমা প্রার্থনা করে আপিল আবেদন করি। উপজেলা শিক্ষা অফিসার ডুমুরিয়া সেই দরখাস্ত খানা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর গত ২৪ অক্টোবর ৩৮.৪৪.৪৭৩০.০০০.৯৯.০০১.২০.২৪-৬৩২/১ নং স্মারক মূলে অগ্রায়ন করেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল গত ২১ দিন অতিবাহিত হবার পরও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সেই আবেদন ডি,ডি স্যারের দপ্তরে না পাঠায়ে তা ধরে রেখেছেন এবং নানাবিধ আজে বাজে কথা বলে চলেছেন। ডিপিইও স্যার আমাকে টোপ মেরে আমাকে ভুল বুঝায়ে চাকুরী খেয়েছেন। এখন উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট আপিল আবেদনও অগ্রায়ন করছেন না। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ অহিদুল আলম বলেন, জাল সার্টিফিকেটের কারণে তার চাকুরি গেছে। আপিল করেছেন। কিন্তু তা যথাযথ কর্তৃপক্ষ লিখতে ভূল করেছেন। তাছাড়া আপিল আবেদন অগ্রায়ন করতে ডিপিও ৬ মাস সময় নিতে পারে। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের বিভাগীয় উপ-পরিচালক বলেন, তিনি শিক্ষিকার আপিল আবেদনের অগ্রিম কপি পেয়েছেন। অগ্রায়ন কপি সময় মত না পেলে তিনি ওই কপি দিয়েই কাজ করতে পারবেন বলে জানান।



