বটিয়াঘাটায় চাঁদাবাজি দখলবাজি ও লুটপাটের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার ঃ বটিয়াঘাটায় সন্ত্রাসী আব্দুল গণি বিশ^াস, তার ছেলে ৩নং গঙ্গারামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি রবি বিশ^াস ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক এরশাদ শেখ কর্তৃক দখল হওয়া জমি-দোকান ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি এবং স্থানীয় ভাবে বিএনপিকে ব্যবহার করে নানা অপকর্মের প্রতিবাদে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগীদের পক্ষে মোঃ লাল মিয়া শেখ। লিখিত বক্তব্য্য পাঠ কালে তিনি জানান, খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার আব্দুল গণি বিশ^াস ও তার পরিবারের সদস্য এবং তার সহযোগীরা গত ৫ আগষ্ট থেকে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। শুরু করেছে হামলা, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও লুটপাট। উপজেলার গঙ্গারামপুর কাশিয়াডাঙ্গার বিভিন্ন জায়গায় জমি দখল, ঘের দখল, বিভিন্ন জনের ঘেরের মাছ লুটপাট, দোকান দখল ও লুটপাট করছে আব্দুল গণি বিশ^াস, তার ছেলে বিএনপি নেতা রবি বিশ^াস, আরেক বিএনপি নেতা এরশাদ শেখ সহ তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা। তাদের এসব কর্মকান্ডে বেশ কয়েকটি মামলা হলেও প্রশাসনের নিরব ভূমিকা হতাশায় ফেলেছে এলাকাবাসীকে।
তিনি আরও জানান, আব্দুল গণি বিশ^াসের ছেলে রবি বিশ^াস স্থানীয় বিএনপি নেতা হওয়ায় এলাকায় প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। জমজমাট লুটের রাজত্ব গড়ে তুলেছে পুরো এলাকা জুড়ে। তাদের তান্ডবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। গত কয়েকবছর ধরে একই এলাকার মৃত হোসেন আলী শেখের ছেলেদের ভোগদখলকৃত জমি জোরপূর্বক দখলের পায়তারা চালিয়েছে এই গণি বিশ^াস ও তার সহযোগীরা। আইনি বাধার কারনে তখন দখল করতে পারেনি। তবে আওয়ামী সরকারের পতনের পর স্থানীয় বিএনপিকে কাজে লাগিয়ে গত ৬ আগষ্ট মৃত হোসেন আলী শেখের পরিবারের ওপর হামলা চালায় তারা। তাদের ১ একর ৩২.৫ শতাংশ কৃষি জমি জোরপূর্বক দখল করেছে এই গণি বিশ^াসের সন্ত্রাসী বহিনী। পরবর্তিতে বেশ কয়য়েকবার তাদের বাড়িতে হামলা করে তারা। মৃত হোসেন আলী শেখের সেজো ছেলে শাহাদাৎ শেখকে না পেয়ে তার স্ত্রী সালমা বেগম, মেয়ে লিজা খাতুনকে কুপিয়ে জখম করে। তাদের ২ মাসের সন্তানকেও আঘাত করতে ছাড়েনি গণি বিশ^াসের সহযোগী মোজাম সরদার, মোস্তাকিম সরদার, মণি শেখ, আইয়ুব আলী শেখ, রহিম সরদার, ফারুক সরদারসহ আরো অনেকে। এঘটনায় তাদের প্রভাবে থানায় মামলা না নিলে আদালতে গিয়ে মামলা দায়ের করে ভুক্তোভোগী সালমা বেগম। যার মামলা নং সি আর ৩১৭/২৪।
তিনি আরও বলেন, কায়েমখোলা এলাকার মুদি দোকান ব্যবসায়ী মোঃ জাহাঙ্গির শেখ সন্ত্রাসী গণি বিশ^াস, রবি বিশ^াস সহ তাদের সহযোগীদের লুটপাটের ও দখলের শিকার হয়েছে। গত ৭ আগষ্ট সকালে তারা কায়েমখোলা ৩ রাস্তার মোড়ে জাহাঙ্গিরের চা ও মুদি দোকানে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। দোকান থেকে জাহাঙ্গিরকে মারধর করে জোরপূর্বক বের করে দিয়ে লুটপাট ও পরে দোকান দখল করে নেয় তারা। এবিষয়ে গণি বিশ^াস, রবি বিশ^াসসহ ১২জনকে আসামী করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই সন্ত্রাসী বাহিনী গত ৮ আগষ্ট পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একই এলাকার মোঃ মঞ্জুর বিশ^াসের ভোগদখলিয় পৈত্রিক সম্পত্তি দখল করে নেয়। পরে পার্শবর্তি মুদী দোকান ঘর, গ্যারেজ ও গোডাউন ঘর ভাংচুর এবং লুটপাট করে এই সন্ত্রাসী বাহিনী। এ ব্যাপারে গণি বিশ^াস, রবি বিশ^াসসহ ২০ জনকে আসামী করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী মোঃ মঞ্জুর বিশ^াস। গত ৮আগষ্ট গণি বিশ^াসের আরেক সহযোগী বিএনপি নেতা এরশাদ শেখের সন্ত্রাসী বহিনী দ্বারা লুটপাটের শিকার হয়েছেন মোঃ মোজাম্মেল হোসেন। এলাকায় তার একটি মুরগির খাবার ও মুদি দোকানে ভাংচুর ও লুটপাট চালায় তারা। পরে দোকানে পেট্রোল দিয়ে আগুন জ¦ালিয়ে দেয় এই সন্ত্রাসী বাহিনী। আগুন ধরানোর সময় তাদের এক সদস্য আহত হয় আগুনে পুড়ে। পরে উল্টে আহত ব্যক্তিকে ব্যবহার করে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে তারা। সেখানে আসামী করা হয় এলাকার কিছু নিরীহ মানুষকে। এদিকে দোকানে হামলার ঘটনায় আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মোজাম্মেল হোসেন। বহু বছর ধরে পুরো বটিয়াঘাটা উপজেলা জুড়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করছে এই গণি বিশ^াস। তার বিরুদ্ধে ৬টি হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বিভিন্ন আদালতে। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি, দখল ও হামলার মত ঘটনা সে প্রায়ই ঘটাতো। তার কাছে রয়েছে অনেক ধরনের অবৈধ অস্ত্র। তবে প্রশাসনের চাপের কারনে তার এই দৈরাত্ব কিছুটা কম ছিলো। তবে গত ৫ আগষ্টের পর থেকে আবারো তার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড শুরু হয়েছে। যার কারনে এলাকাবাসী অতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।



